বেলা তার : নৈঃশব্দ্যের উত্তরাধিকার

অনুবাদ: মৃত্তিকা তৃণ
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৪আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৫

হাঙ্গেরিয়ান চলচ্চিত্রকার বেলা তার সেই বিরল নির্মাতাদের একজন, যাদের সত্যিকার অর্থেই ‘দূরদর্শী’ বলা যায়। এমন নির্মাতা খুব কমই আছেন। তিনি কেবল নিজস্ব ভাষাভঙ্গি অর্জনই করেননি, একে সৃজনের শিখরে তুলেছেন। প্রথাগত কাঠামোর বাইরে নিয়ে নতুন করে চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবতে দর্শকদের অনেকটা বাধ্যই করেন। তার চলচ্চিত্র ভাষা প্রথমদিকে নির্মম সামাজিক বাস্তববাদ আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল, কিন্তু পরে তা রূপ নেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুর মধ্যে–যেখানে শব্দ ও চিত্র, স্থান ও সময় নিয়ে চলতে থাকে এক দুঃসাহসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

বেলাকে ‘স্লো সিনেমা’ ধারার নির্মাতা হিসেবে অনেকেই দেখতে চায়। যদিও তা কোনো নির্দিষ্ট আন্দোলন বা শৈলী নয়। বলা যায় এক ধরনের সংবেদনশীলতা ও দৃষ্টিভঙ্গি। এই ধারার পূর্বসূরি হিসেবে ধরা হয় আন্তোনিওনি, তারকোভস্কি এবং দীর্ঘ শট ব্যবহারে পারদর্শী আরেক হাঙ্গেরিয়ান নির্মাতা মিকলোশ ইয়ানচোকে। তবে তার-এর কাজের সিলসিলা শুধু সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানব পরিণতির দিকে নির্দয়ভাবে তাকিয়ে থাকার যে সংকল্প, সেখানে দস্তয়েভস্কি ও কাফকার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও তার কাজের সাযুজ্য রয়েছে।

বেলা তার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির পেচ শহরে। তাঁর বাবা-মা দুজনেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বুদাপেস্টের থিয়েটার ও ফিল্ম আর্টস একাডেমিতে ‘পরিচালনা’ বিষয়ে পড়াশোনা শুরুর আগেই, মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’ (১৯৭৯) নির্মাণ করেন। সে সময়কার হাঙ্গেরির আবাসন সংকটকে পটভূমি করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি এক কারখানা শ্রমিক নারীর গল্প, যিনি সন্তানসহ স্বামীর ঝগড়ুটে পরিবারের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হন।

এরপর দ্য আউটসাইডার (১৯৮১) ছবিতে তিনি সাদাকালো থেকে রঙিন দুনিয়ায় পা রাখেন। এই চলচ্চিত্রে দেখা যায় এক তরুণ বেহালাবাদককে, সে হাঙ্গেরির উত্তর-হিপি উপসংস্কৃতি ও মদ্যপানের জগতে ক্ষণস্থায়ী আশ্রয় খুঁজে পায়। দ্য প্রিফ্যাব পিপল (১৯৮২) কমিউনিস্ট শাসনামলের সামাজিক চাপে জর্জরিত এক দম্পতির দাম্পত্য টানাপড়েনকে তুলে ধরে। তিনি এসব বাস্তববাদী চলচ্চিত্রকে সে সময়ের হাঙ্গেরিয়ান চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ বলে মনে করতেন। ২০০১ সালে তিনি আমাকে বলেছিলেন, তখনকার সিনেমায় ছিল অনেক আবর্জনা, অনেক মিথ্যা। আমরা দরজায় কড়া নাড়িনি, দরজা ভেঙে ঢুকেছিলাম। আমরা শুধু বাস্তবতাকে দেখাতে চেয়েছিলাম, এগুলো অ্যান্টি-মুভি।

বেলা তার : নৈঃশব্দ্যের উত্তরাধিকার
১৯৮২ সালে তিনি প্রথমবারের মতো আরও পরীক্ষামূলক পথে পা রাখেন। টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ‘ম্যাকবেথ’ নাটকের সংস্করণে তিনি পুরো নাটকটি সংকুচিত করেন মাত্র দুটি দীর্ঘ শটে, যার একটি প্রায় এক ঘণ্টার। এরপর আসে শ্বাসরুদ্ধকর, প্রায় মঞ্চনাট্যের মতো আবদ্ধ পরিবেশে নির্মিত ‘অ্যালমানাক অব ফল’ (১৯৮৪)। ভীষণ অবাস্তব রং ব্যবহারে চিত্রায়িত চলচ্চিত্রটি তার কর্মজীবনে এক ব্যতিক্রম নির্মাণ–বার্গম্যান, ফাসবিন্ডার বা রাউল রুইজের কাজের সঙ্গে তুলনীয়।

তবে যে চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত বেলাকে পরিচিতি দিয়েছে সেগুলো নির্মিত হয়েছে তার জীবনসঙ্গী সম্পাদক আগনেস হারনিতস্কি, এবং সাহিত্যে নোবেলজয়ী চিত্রনাট্যকার ও ঔপন্যাসিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায়। এই পর্বের প্রথম ছবি ড্যামনেশন (১৯৮৮), যেখানে ফিল্ম নোয়ারের উপাদান যেমন একাকী পরাজিত মানুষ, নাইটক্লাবের গায়িকা, নিয়ন আলো ও অবিরাম বৃষ্টি ব্যবহার দেখা যায়।  কিন্তু সেগুলো রূপ নেয় শিল্পাঞ্চলঘেরা এক নরকসম অস্তিত্ববাদী দৃশ্যে। নিত্য সহযোগী সুরকার মিহাই ভিগ এই ছবিতে গভীর বিষণ্ন সুর যোগ করেন।

বেলা তার ও লাসলো ক্রাসনাহোরকাই
এরপর আসে এক মহাকীর্তি, ১৯৯৪ সালের সাত ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের 'সাতানতাঙ্গো'। ক্রাসনাহোরকাইয়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি এক হতাশাগ্রস্ত জনপদের কাহিনি, যেখানে নির্বাসন থেকে ফেরা এক ছদ্ম-মেসিয়াহ তাদের ভাগ্য নাড়িয়ে দেয়। ট্যাঙ্গোর সামনে-পেছনে এগোনো ধাপের মতো উপন্যাসের কাঠামো অনুসরণ করে চলচ্চিত্রটি সময় ও স্থানকে করে তুলে নমনীয় ও প্রসারিত। মন্ত্রমুগ্ধকর সংলাপ, সম্মোহনী সংগীত, বারবার ফিরে আসা মাতাল নৃত্যের দৃশ্য একত্রে গড়ে তুলে এমন এক জটিল বুনন, যা চলচ্চিত্রে বারবার দেখা দেওয়া মাকড়সার জালের মতোই সূক্ষ্ম। সত্যিকার অর্থে বলা যায়, 'সাতানতাঙ্গো' চলচ্চিত্রের সময় ধারণাকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিল।

তারপর সনাহোরকাইয়ের ‘দ্য মেলানকলি অব রেজিস্ট্যান্স’ অবলম্বনে নির্মিত ভের্কমেইস্টার হারমোনিজ (২০০০)। এই চলচ্চিত্রের শরীরজুড়ে নরকের ছবি, তবে এখানে রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট। হাঙ্গেরিতে ভিক্টর অরবানের কট্টর ডানপন্থি সরকারের উত্থানের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রটিকে জনতাবাদী প্ররোচনার এক অন্ধকার রূপক হিসেবে দেখা যায়। যদিও এর রহস্যময় অধিবিদ্যাগত অনুরণন অক্ষুণ্ন থাকে।

তারপর  জর্জ সিমেননের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন ‘দ্য ম্যান ফ্রম লন্ডন ‘(২০০৭)। নির্মাণ প্রক্রিয়ার জটিলতা ছবিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হলেও, অন্তত শুরুর দৃশ্যটি অনবদ্য, যেখানে বন্দরে নোঙর করা একটি জাহাজকে ঘিরে দীর্ঘ শটের মাধ্যমে স্থানকে প্রায় বিমূর্তভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

‘দ্য তুরিন হর্স’ (২০১১) দিয়ে বেলা তার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। নীৎসের একটি কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত এই কঠোরভাবে সংযত ছবিটি তার পরবর্তী কাজের মানদণ্ডে ছোট হলেও প্রকৃতপক্ষে এক রূপকথা যেন। এক কৃষক ও তার মেয়ে এক ঝড়বিধ্বস্ত প্রান্তরে বসবাস করে। একদিন তাদের ঘোড়া কাজ করতে অস্বীকার করে এবং তাদের জীবন চিরতরে বদলে যায়। একমাত্র দীর্ঘ একচেটিয়া বক্তৃতা দেওয়া অতিথির তিরস্কার ছাড়া চলচ্চিত্রটি মূলত নীরবতা নিয়ে। বার্লিনে প্রিমিয়ারের আগে, যেখানে এটি জুরি গ্র্যান্ড প্রি পায় বলেছিলেন যে, দর্শকরা এই ছবি দেখলেই বুঝবে কেন এটি তার শেষ কাজ।

সারায়েভোতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিদ্যালয় ‘ফিল্ম ফ্যাক্টরি’। যদিও এর নীতিমালা শিল্পকারখানার ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন, এই স্কুলের উদ্দেশ্য ছাত্রদের শেখানো বা বদলে দেওয়া নয়, কারণ এসব ধারণা তার কাছে আপত্তিকর মনে হয়। তিনি বহু স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং কয়েকটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে কর্নেল মুনড্রুজোর ‘জোহান্না’ (২০০৫) এবং ভালদিমার ইয়োহানসনের ‘ল্যাম্ব’ (২০২১)।

বেলা তার : নৈঃশব্দ্যের উত্তরাধিকার
তবে তিনি পুরোপুরি পরিচালনা ছেড়ে দেননি। ২০১৭ সালে আমস্টারডামের আই ফিল্মমিউজিয়ামে তাকে নিয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীর জন্য তিনি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সারায়েভোতে ধারণ করা এই চলচ্চিত্রে দেখা যায় এক তরুণ অভিবাসী সংগীতশিল্পী মুহাম্মদকে, যার শপিং মলে একাকিত্ব নতুন ইউরোপে বর্জনের প্রতীক হয়ে ওঠে। একইভাবে প্রান্তিক মানুষের প্রতি সংহতির মনোভাব থেকে ভিয়েনায় তিনি মঞ্চস্থ করেন ‘মিসিং পিপল’ (২০১৯) নামের এক শক্তিশালী স্থাননির্ভর কাজ। এতে তার দীর্ঘদিনের সহযোগী, জার্মান চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা ফ্রেড কেলেমানের ধারণ করা ফুটেজের সঙ্গে শহরের গৃহহীন মানুষের আনুষ্ঠানিক পরিবেশনা একত্রে উপস্থাপিত হয়।

বেলার মতো চলচ্চিত্র আর কেউ বানাননি। তথাকথিত স্লো সিনেমার সঙ্গে যুক্ত অন্য নির্মাতারা মূলত দীর্ঘ শট ও ধীর ক্যামেরা মুভমেন্টই ভাগ করে নিয়েছেন। কিন্তু তার চলচ্চিত্র দমবন্ধ করা, ঘন অন্ধকার আবহ সম্পূর্ণরূপে তার নিজস্ব। গাস ভ্যান স্যান্ট প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে বেলার কাজ তার চলচ্চিত্রচর্চায় এক ধরনের ধর্মান্তরের মতো প্রভাব ফেলেছিল, যদিও তা ছিল সাময়িক। ‘গেরি’(২০০২), ‘এলিফ্যান্ট’ (২০০৩) এবং ‘লাস্ট ডেজ’ (২০০৫) তার কর্মজীবনের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। বেলার কাজ বৌদ্ধিক জগতেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ফরাসি দার্শনিক জাক রানসিয়ের তাকে নিয়ে একটি ছোট বই লিখেছেন এবং ১৯৯৬ সালে সুসান সন্টাগ তাকে ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্য আশার কয়েকটি নামের অন্যতম বলে অভিহিত করেন।

বেলা তার : নৈঃশব্দ্যের উত্তরাধিকার
সমালোচক জেমস কোয়ান্ট ‘দ্য তুরিন হর্স’ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, সমসাময়িক নির্মাতাদের মধ্যে এই হাঙ্গেরিয়ান পরিচালকই মানুষের সংকীর্ণতা থেকে যে মহাজাগতিক শূন্যতা অনুমান করেন, সেই রাতের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। এই মূল্যায়ন যথার্থ, তবে বেলার কাজকে শুধু অন্ধকারময় বলে দেখলে ভুল হবে। তার ছবিতে রয়েছে প্রচুর হাস্যরস, সৌন্দর্য এবং সংগীত, আক্ষরিক ও রূপক দুই অর্থেই।

মিহাই ভিগের সম্মোহনী সুরগুলো শুনুন, যেখানে লোকসংগীত ও মিনিমালিস্ট পুনরাবৃত্তি মিলেমিশে যায়। 'সাতানতাঙ্গো'-এর সেই দৃশ্যটি দেখুন, যেখানে মাতাল বারের লোকজন নাচছে এবং পুরো কাস্টই সত্যিই মাতাল অবস্থায় ছিল। এই উন্মত্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যেই রয়েছে আনন্দ ও অবমাননার যুগল উপস্থিতি।

বেলার কাজ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত রহস্যময়তা আরোপ করাও উচিত নয়। তিনি নিজে ছিলেন অনেক বেশি ব্যবহারিক। তিনি আমাকে একবার বলেছিলেন, সিনেমা বানানোর সময় আমরা কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলি। ক্যামেরা কোথায় থাকবে, প্রথম ও শেষ শট কী হবে। আমরা কখনো শিল্প বা ঈশ্বর নিয়ে কথা বলি না।

মূল: জোনাথন রমনি/বিএফআই

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম