অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

নতুন বয়ান বইমেলাকে জাতীয় ইভেন্ট হিসেবে দেখে না : রায়হান রাইন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : উমামা জামান মিম
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩১আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৭

বাংলা ট্রিবিউন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

রায়হান রাইন: উপন্যাস বেরোচ্ছে মেলায়, নাম ‘নৈশ উৎসবে দুই পলাতক’।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন? বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইয়ের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?

উত্তর: চব্বিশের অভ্যুত্থান-উত্তর রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে এই উপন্যাস। উপন্যাসের আখ্যান ভাগে দেখা যাবে, এক বোকাটে খুনি এবং এক জেলব্রেকার পালিয়ে গিয়ে দূরের অপরিচিত এক শহরতলিতে ঢুকে পড়ে। সেখানে রাতভর নানাকিছু ঘটে, যেন এক উৎসব চলছে। কিন্তু এই উৎসব ক্রমশ সহিংস এবং ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে?

উত্তর: এখানে ‘কর্তৃপক্ষ’ মানে কেবল বাংলা একাডেমি কিংবা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তো নয়, এই সময়ের শাসক হয়ে উঠেছে ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ান। নতুন বয়ানে বাংলা ভাষা, ভাষা-সংগ্রাম, বাঙালি—এইসব ধারণা শঙ্কাজনকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ধর্মীয় পরিচয়। এই নতুন বয়ান একুশের বইমেলাকে আর গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্ট হিসেবে দেখে বলে মনে হয় না। তবে যেকোনো ন্যারেটিভই সত্যের একটা মুখোশ মাত্র, তাকে পালটা মুখোশের মুখোমুখি সব সময় দাঁড়াতে হয়, এবং বদলে যেতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিও বদলাবে। 

প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?

উত্তর: রমজানের প্রভাব অতীতে কখনো মেলার ওপর পড়েছে মনে পড়ে না। তবে সময় কমিয়ে আনায় এবং মেলা মার্চে সম্প্রসারিত হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?

উত্তর: বাংলা একাডেমি বইমেলা নিয়ে যে নীতিমালা করে, তা নিয়ে প্রকাশকদের অসন্তোষ থাকে। গতবারের নীতিমালার মধ্যে যেমন ছিল, বইমেলার জন্য ক্ষতিকর বই বা পত্রিকা বিক্রয় ও প্রচার করা যাবে না। কিংবা অমুক-তমুক আদর্শ বিরোধী কোনো বই বা পত্রিকা বিক্রয় বা প্রদর্শন করা যাবে না। কিন্তু কোনটা ‘ক্ষতিকর’ বা ‘বিরোধী’ তা তো অস্পষ্ট। যেকোনো বিরুদ্ধ মতাদর্শের যেকোনো বইয়ের জন্যই প্রকাশক বিপদে পড়তে পারেন। এমন নীতিমালা মব তৈরি করার একটা অনুকূল ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে।

প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?

উত্তর: বহু বছর ধরে বইমেলার আয়োজন হচ্ছে। সমস্যাগুলো সবারই জানা। মেলার নীতিমালা লেখক-পাঠক-প্রকাশকবান্ধব হওয়া জরুরি। লেখক কিংবা প্রকাশকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়, এমন নীতিমালা কাম্য নয়। মেলার পরিসর বেড়েছে, কিন্তু স্টলের বিন্যাস এমন হওয়া দরকার, যাতে সবাই স্বচ্ছন্দে হাঁটাচলা করতে পারেন, স্টলের সামনে দাঁড়াতে পারেন, বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কোথাও বসতে পারেন। মেলাটাকে ধূলামুক্ত রাখা জরুরি। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরটাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন ওই চত্বরটা লেখক-পাঠকের মিলনমেলা হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয় তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?

উত্তর: বাংলা একাডেমি মেলার যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, সেটাকেই সারাবছরের বইয়ের ডেটাবেইজ আকারে গড়ে তোলা সম্ভব। সেজন্য দরকার প্রকাশকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যকর একটা ওয়েব ডিজাইন। বর্তমানে যে ওয়েবসাইট আছে, সেটা অত্যন্ত অপ্রতুল এবং প্রায় অকার্যকর। একাডেমির এই ওয়েবসাইটটা এমন হতে পারে, যেখানে ঢুকলে ভার্চুয়াল বইমেলায় ঢোকার অনুভূতি হয় এবং সেক্ষেত্রে এটা বইয়ের সঙ্গে পাঠকের সম্পর্কটাকে আরও নিবিড় করে তুলতে পারে।

প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?

উত্তর: ‘আমি লেখক বলছি’ নামের যে মঞ্চটি মেলায় থাকে, এটাকে খুব একটা কার্যকর কিছু বলে মনে হয় না। এটা বরং মেলায় শব্দদূষণের একটা বড় উৎস হয়ে ওঠে। পাঠক এবং লেখকের যোগাযোগের মূল অবলম্বন তো আসলে বই। শিল্পের মূল উদ্দেশ্যই এটা, এই যোগাযোগ ঘটানো। বইয়ের মাধ্যমে লেখক যোগাযোগ ঘটান পাঠকের সঙ্গে, কিন্তু পাঠক সচরাচর তার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন না। প্রস্তাবিত ভার্চুয়াল মেলার সাইটটা এক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখতে পারে, যদি বইয়ের ওয়েবপেজ গুলোতে প্রতিক্রিয়া জানানোর বিকল্প রাখা হয়।

প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে, কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন বলে মনে করেন?

রায়হান রাইন: ভালো বই মানে সুলিখিত এবং সুসম্পাদিত বই। এছাড়া নির্ভুল ছাপা, ভালো কাগজ আর মজবুত বাঁধাই থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রকাশনা সংস্থা আছে, যাদের বই সম্পাদিত হয়ে ছাপা হয়, তবে বেশির ভাগ প্রকাশক সম্পাদনার দিকটাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন না। এক্ষেত্রে বড় রকমের সংকট হয় অনূদিত বইয়ের ক্ষেত্রে, সম্পাদনা না হওয়ায় অপাঠ্য অনুবাদ বই হয়ে মেলায় আসে ঝকঝকে প্রচ্ছদে। সেইসব বই কিনে পাঠক প্রতারিত হন।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
বইমেলা শেষ, শুরু হয়েছে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ
১৭ দিনে বইমেলায় বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকার বই
বইমেলায় কিশোর তানজীম রেদওয়ানের ‘এ চাইল্ডস কোশ্চেন টু কাইন্ডনেস’
সর্বশেষ খবর
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি