X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

‘জাদুবাস্তবতা’র ভূমিকা থেকে

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২১, ১৫:১০

এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে মুহম্মদ মুহসিনের ‘জাদুবাস্তবতা’। প্রকাশ করেছে কাগজ প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। মূল্য ১৮০ টাকা। বইটি পাওয়া যাচ্ছে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১৪-১১৫ নং স্টলে।   



এটি কেমন গ্রন্থ আমার কাছেই তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এটি কোনো মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ নয়, কারণ এখানে মোট চারটি প্রবন্ধের মধ্যে একটিই মাত্র আমার লিখিত মৌলিক প্রবন্ধ, বাকিগুলো আমার নয়। একইভাবে এটি কোনো অনুবাদগ্রন্থও নয়, কারণ এর তিনটি প্রবন্ধ অনুবাদকৃত হলেও একটি প্রবন্ধ গবেষণা-ধারায় মৌলিক। আবার সেটিও চিন্তার মৌলিকতায় সিদ্ধ নয়, কারণ গবেষণা-প্রবন্ধ রীতিগতভাবেই অন্যের চিন্তার ভিত্তিমূলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে শুরুতেই স্বীকার করে নিচ্ছি এটি এক অনির্ণেয় ধারার হযবরল গ্রন্থ।

তবে আমারটি বাদ দিয়ে এ গ্রন্থের বাকি তিনটি প্রবন্ধ অন্তত কোনো হযবরল জাতের বস্তু নয়। জাদুবাস্তবতার তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে এই তিনটি প্রবন্ধ সারা দুনিয়ায় খ্যাত। এদের মধ্যে ফ্রানৎস রোহ কর্তৃক লিখিত প্রবন্ধটির নাম তো লোকের মুখে মুখে ফেরে, কারণ এটিই সেই প্রবন্ধ যেখানে জাদুবাস্তবতা শব্দটি পৃথিবীতে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল। নামটি ফ্রানৎস রোহ সৃষ্টি করলেও জাদুবাস্তবতার ধারণাকে সাহিত্যের তত্ত্ব হিসেবে যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রণী ছিলেন আলেহো কার্পেন্তিয়ের। যে প্রবন্ধ দুটির মাধ্যমে কার্পেন্তিয়েরের হাতে এই তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই প্রবন্ধ দুটিও রোহের প্রবন্ধটির সঙ্গে এখানে অনূদিত হয়েছে। 

ফ্রানৎস রোহ জাদুবাস্তবতা শব্দটি তৈরি করেছিলেন চিত্র সমালোচনার জন্য। অভিব্যক্তিবাদের পরে অর্থাৎ উত্তর-অভিব্যক্তিবাদ (পোস্ট-এক্সপ্রেশনিজম) কালে চিত্রকলা বিমূর্ততার শৈলী থেকে সরে সাধারণ বাস্তবতার পথে ফিরে আসতে শুরু করলে, সেই ফিরে আসার জয়গান গেয়ে ১৯২৫ সালে ফ্রানৎস রোহ তাঁর এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। প্রবন্ধটির শিরোনামে জন্ম নিয়েছিল ‘জাদুবাস্তবতা’ শব্দটি। শিরোনামে বলছি একারণে যে, প্রবন্ধের অভ্যন্তরে লেখক একবারও ‘জাদুবাস্তবতা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, শুধু শিরোনামেই একবার তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। প্রবন্ধটিতে লেখক জাদুবাস্তবতা নামের মধ্য দিয়ে অভিব্যক্তিবাদ-উত্তর চিত্রকলায় বস্তুঘনিষ্ঠ বাস্তবতা চর্চার প্রশংসা করেছিলেন, যা আমাদের এখনকার সময়ের জাদুবাস্তবতা বিষয়ক ধারণার সম্পূর্ণ উল্টো। আমরা বরং এখন জাদুবাস্তবতা বলতে বুঝি বস্তুঘনিষ্ঠতা থেকে শৈল্পিক বাস্তবতার সরে যাওয়ার কলাকৌশল। ফ্রানৎস রোহ ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন কীভাবে ১৯২০-এর দশকে অভিব্যক্তিবাদ-উত্তর চিত্রকলা বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার দিকে ফিরে এসে এক অভিনব আনন্দ সৃজনে সক্ষম হয়েছিল এবং একইসঙ্গে এক্সপ্রেশনিজমে সৃষ্ট আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোও ধারণ করতে পেরেছিল। বর্তমান সময়ের পাঠকগণ যাঁরা সাহিত্য-সমালোচনার জ্ঞান থেকে ‘জাদুবাস্তবতার’র ধারণা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে জাদুবাস্তবতা বিষয়ে জানতে চান তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই এ প্রবন্ধ পড়ে যথেষ্ট হতাশ হবেন, কারণ এখানে সাহিত্যের জাদুবাস্তবতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সরাসরি একটি বাক্যও নেই। তারপরও ‘জাদুবাস্তবতা’র তাত্ত্বিক ধারণা লাভে আগ্রহী পাঠকগণের অনেকের মনে এমন একটি কৌতূহল থাকতে পারে যে- ‘দেখি না, যে প্রবন্ধটির নাম ধরে জাদুবাস্তবতা শব্দটির সৃষ্টি হয়েছিল সেটিতে কী লেখা আছে।’ তাদের জন্যই মূলত প্রবন্ধটি এখানে বাংলায় অনুবাদের এ চেষ্টা। সংক্ষেপিত

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সুপ্রিয়া সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
সুপ্রিয়া সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
ইউরোপে মাংকিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়ালো
ইউরোপে মাংকিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়ালো
মানুষ পেটের ক্ষুধায় রাজপথে নামবে: সাকি
মানুষ পেটের ক্ষুধায় রাজপথে নামবে: সাকি
শিশুদের অংশগ্রহণে পালিত হলো বিশ্ব স্ক্র্যাচ সপ্তাহ
শিশুদের অংশগ্রহণে পালিত হলো বিশ্ব স্ক্র্যাচ সপ্তাহ
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত