ভারতীয় ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষের নতুন উপন্যাস 'ঘোস্ট-আই' ২০২৬ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা ফারার, স্ট্রস অ্যান্ড জিরু (এফএসজি) থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাহিত্যসমালোচকদের বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বুক মার্কস-এ ১০টি সমালোচনার ভিত্তিতে বইটি "রেভ" (অত্যন্ত ইতিবাচক) মূল্যায়ন পেয়েছে। পাবলিশার্স উইকলি একে "বুদ্ধিদীপ্ত" ও "চমকপ্রদ সমাপ্তিসমৃদ্ধ" উপন্যাস বলেছে এবং কার্কাস রিভিউস জলবায়ু পরিবর্তন ও জাদুবাস্তবতার সফল মিশ্রণ হিসেবে বইটির প্রশংসা করেছে। তবে পাঠকদের একাংশের মতে, এটি 'দ্য হাংরি টাইড' বা 'গান আইল্যান্ড'-এর মতো শক্তিশালী নয়।
'ঘোস্ট-আই' অমিতাভ ঘোষের আগের দুটি সুন্দরবনভিত্তিক উপন্যাস 'দ্য হাংরি টাইড' ও 'গান আইল্যান্ড'-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আগের বইগুলোর কিছু চরিত্র এই উপন্যাসেও ফিরে এসেছে। তবে এবার তিনি আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অলৌকিক, রহস্যময় ও অতিপ্রাকৃত উপাদানকে।
সমালোচকের মতে, তিনি তার 'দ্য গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্ট' বইয়ে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিশাল সংকটকে শুধু বাস্তবধর্মী সাহিত্য দিয়ে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই 'গান আইল্যান্ড'-এ তিনি বাস্তবতার সঙ্গে রহস্যময় ঘটনাকে মিলিয়েছিলেন। 'ঘোস্ট-আই' সেই পথকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
এই উপন্যাসে পুনর্জন্ম ও আত্মার এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তর (মেটেমসাইকোসিস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে বর্ষা চরিত্রের মাধ্যমে পুনর্জন্মের ধারণা এবং শেষে দীন-এর শৈশবের একটি গোপন রহস্যের মাধ্যমে আত্মার স্থানান্তরের বিষয়টি উঠে আসে।
আগের উপন্যাসে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ তৈরি হতো পুরোনো গল্প, বই ও কিংবদন্তির মাধ্যমে। কিন্তু 'ঘোস্ট-আই'-এ সেই সংযোগ তৈরি হয় গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ ও অনুভূতির মতো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। একটি বটি দেখে বর্ষার আগের জীবনের স্মৃতি জেগে ওঠার দৃশ্যটি এর অন্যতম উদাহরণ।
সমালোচক বলেছেন, ঘোষ এই উপন্যাসে বাংলার নদীবিধৌত অঞ্চলের মাছের বৈচিত্র্য ও মাছ খাওয়ার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব খুব যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। মাছ এখানে শুধু খাবার নয়, অতীতের স্মৃতি ও অন্য এক জগতের দরজা হিসেবেও কাজ করে।
তবে সমালোচকের মতে, 'ঘোস্ট-আই'-এর একটি সীমাবদ্ধতাও আছে। 'দ্য হাংরি টাইড'-এ সুন্দরবন নিজেই যেন একটি জীবন্ত চরিত্র ছিল। 'গান আইল্যান্ড'-এ সুন্দরবন ও ভেনিস, অতীত ও বর্তমান—সব মিলিয়ে এক গভীর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু 'ঘোস্ট-আই'-এ স্থান বা প্রকৃতির সেই শক্তিশালী উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এখানে কাহিনি ও রহস্যই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।









