৩ নেতা একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি আহমদ

সিলেট প্রতিনিধি
২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:১১আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪১

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ‘আজকে যদি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক- এই তিন নেতা এক হয়ে যান, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। এই সরকার পালানোর কোনও পথ পাবে না।’

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অলি আহমদ বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। আজকে তাদের যে শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে যে রকম ঐক্য, সশস্ত্র বাহিনীতেও এ রকম নাই। আজকে যদি এই তিন জন নেতা একসাথে হয়ে যান, শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের ছোট ছেলে নাহিদ এবং শায়খুল হাদিস মামুনুল হক সাহেব তিন জন যদি একসাথে হয়ে যান, এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে। এটা অনিবার্য। এটা ধরে রাখতে পারবেন না। কারণ তারা যেকোনো সময় ২০ লাখ ৩০ লাখ লোকের সমাবেশ ঢাকাতে ঘটাতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে। সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। আপনি প্রধানমন্ত্রী কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। দেশের মানুষের কথা বলে চিন্তা করেন।’ 

তিনি বলেন, ‘মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে। টাকা দিয়ে নয়, পদ দিয়ে নয়। আপনি প্রধানমন্ত্রী এজন্য জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবেন না। আপনাকে বেঁচে থাকতে হলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা আপনার কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হতে হবে। সেটা হল জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার আপনি করেন। মেহেরবানি করে অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে মানুষের কথা চিন্তা করেন।’

অলি আহমদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি যখন বিভিন্ন পদে কাকে পদায়ন করেন তার ২০ বছর আগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখবেন। কীভাবে সে দুর্নীতি করেছে, সে কোন কোন দায়িত্ব পালন করেছে। সে দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সাথে কীভাবে বেইমানি করেছে। এই জিনিসগুলো যদি আপনি সুন্দরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না দেখেন, তাহলে আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে।’

আপনি বেগম জিয়ার সন্তান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কী জন্য প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন? “আই অ্যাম মেজর জিয়া ডিক্লেয়ার মাইসেলফ এজ এ প্রফেশনাল হেড অফ স্টেট।” তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতির দুর্দিনে জনগণকে দিকনির্দেশনা দিয়ে মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মধ্যে অমরত্ব লাভ করেছেন। আপনি দালালদের কথা না শুনে, চাটুকদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে যে সংস্কারের কথাগুলো জনগণ বলছে এই সংস্কারগুলো করেন।’

অলি আহমদ বলেন, ‘আমি দুইটা মিটিংয়ে আগেও বলেছি- একটা বিষয় শুধু আপনার অসুবিধা হতে পারে। সেটা হলো একাধারে প্রধানমন্ত্রী একাধারে সংসদের নেতা একাধারে দলীয়প্রধান। আমাদের প্রস্তাব ছিল যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। এই বিষয়টা নিয়ে আপনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সাথে কথা বলেন। বাকি কোনও দফা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নাই।’

তিনি বলেন, ‘এখন তো মাঝেমধ্যে শুনতে পাই আপা নাকি ডিসেম্বর মাসে আসবেন; আপা তো আসবেন, কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যে— সাথে দুলাভাইকেও নিয়ে আসতে হবে। আপনারা প্রস্তুত থাকেন ফাঁসির রশি নিয়ে। এই ফাঁসি ঢাকা কারাগারে হবে না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে হবে।’

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিলেটের জামাতা উল্লেখ করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘তিনিও চান, আমরাও চাই একটা সুন্দর বাংলাদেশ, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। এটা তখনই সম্ভব যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।’

বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আপনার দলের লোকেরা দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা, এক দাবি—এই সরকার কবে যাবি’ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বললে স্বৈরাচার ফিরবে বলে হুমকি দেয় সরকার: জামায়াত আমির
কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনও আইন করা উচিত নয়: আজহারুল ইসলাম
সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই প্রতিরোধ সম্ভব: জামায়াত আমির
সর্বশেষ খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
বানরের হাত থেকে রেহাই পেতে ডিসির কাছে আবেদন, দু্ই মাসেও কাজ হয়নি
বানরের হাত থেকে রেহাই পেতে ডিসির কাছে আবেদন, দু্ই মাসেও কাজ হয়নি
ইয়েমেনে ফের সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা 
ইয়েমেনে ফের সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা 
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত 
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত 
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আরেক আর্জেন্টাইন
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আরেক আর্জেন্টাইন
দুর্নীতির দায়ে হয়েছিল শাস্তি, এবার ২৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক তিনি
দুর্নীতির দায়ে হয়েছিল শাস্তি, এবার ২৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক তিনি