দ্য বুকার প্রাইজের শর্টলিস্ট ঘোষণা

Send
আদিত্য শংকর
প্রকাশিত : ২২:৩২, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৭, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

আজ ঘোষণা করা হয়েছে ‘দ্য ২০২০ বুকার প্রাইজ’-এর শর্টলিস্ট। প্রতিবারের মতো এবারের শর্টলিস্টেও রয়েছে ছয়টি গ্রন্থ।

২০২০ বুকার প্রাইজের বিচারকদের চেয়ারপার্সন মার্গারেট বাসবি এই ঘোষণা দেন।  শর্টলিস্ট ঘোষণার পর তিনি বলেন, বিচারক হিসেবে আমরা ১৬২টি বইই খুব নিখুঁতভাবে পড়েছি। এসব বইয়ের মধ্যে বেশকিছু বইকে আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। সেরা উপন্যাসগুলো প্রায় সবসময়ই আমাদের সমাজকে মূল্যবান চিন্তার জন্য প্রস্তুত করে, এবং কেবল বিশ্বের অসম্পূর্ণতা এবং দুশ্চিন্তা সম্পর্কে নয়—জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, ভুলে যাওয়া সম্প্রদায়গুলো নতুন করে চেনায়; বার্ধক্য, বর্ণবাদ বা প্রয়োজনে বিপ্লব নিয়ে কথা বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেতনা এবং জীবনের ভেতরকার দিক নিয়েও কথা বলে। এবারের শর্টলিস্টে থাকা ছয়টি বই অজানাভাবেই একসাথে উঠে এসেছে তালিকায়। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে এই বইগুলোর কথা বলার ধরণ এবং চরিত্রগুলো যেন আমাদের সবার কাছে একচ্ছত্র মনে হয়েছে—এমনকি শরীরে, প্রকারে তারা খুব আলাদা হলেও। আমরা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে সৃজনশীল কাজগুলো ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত।

২০২০ বুকার প্রাইজের শর্টলিস্টে থাকা ছয়টি বইয়ের পরিচিতি প্রকাশ করা হলো।

১. ডায়ান কুকের ‘দ্য নিউ ওয়াইল্ডারনেস’ (যুক্তরাষ্ট্র)

পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীতে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য একজন সাহসী মায়ের সংগ্রাম নিয়ে লেখা। উপন্যাসের বে এবং তার মেয়ে এগনেস একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বাস করত। কিন্তু সেখানকার দূষিত কুয়াশার কারণে এগনেসের প্রাণ চলে যাচ্ছিলো। তারা যদি সেই শহরে বাস করে তাহলে এগনেস মারা যাবে। কিন্তু একটি বিকল্প উপায় আছে, তা হলো ওয়াইল্ডারনেস স্টেটে একটি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং সেখানে গিয়ে যাযাবরের মতো সংগ্রাম করে টিকে থাকা। বে এবং এগনেস ধীরে ধীরে এই অজানা এবং বিপদজনক পরিবেশে বেঁচে থাকা শিখছিলো। কিন্তু এগনেস যখন এই পরিবেশে স্বাধীনতাকে নতুন করে দেখলো তখন তার বে বুঝলো যে সে তার মেয়ের জীবন বাঁচাতে গেলে তাকে অন্যভাবে হারাতে হবে।

‘দ্য নিউ ওয়াইল্ডারনেস’-এর গল্পটিতে প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে গভীরভাবে দেখানো হয়েছে।

 

২. সিসি ডাঙ্গারেম্পার ‘দিস মউর্নঅ্যাবল বডি’ (জিম্বাবুয়ে)

উপন্যাসে দেখানো হয় তামুদজাই নামের এক মেয়ে হারারের একটি হোস্টেলে থাকতো। একটি স্থায়ী চাকুরী ছাড়ার পর সে তার জীবন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে—যতবারই তার জীবনে নতুন কিছু করতে চায়, ততবারই সে কোনো-না কোনোভাবে অপমানিত হয় এবং ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়ে। লেখক এই উপন্যাসে আশাহত মানুষের বেঁচে থাকার গল্প বলেছেন।

 

৩. আভনি দোশির ‘বার্ন্ট সুগার’ (যুক্তরাষ্ট্র)

উপন্যাসে দেখা যায় তারা নামের এক মেয়ে নিজের প্রেমহীন সংসার ছেড়ে তার ছোট মেয়েকে নিয়ে আশ্রমে যোগ দেয়। সে এক সন্ন্যাসীর মত এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায় (তার বাবা-মা থেকে পৃথক হয়ে থাকার জন্য)। এর সঙ্গে সে এক গৃহহীন চিত্রশিল্পীর উপর দুর্বল হয়ে পড়ে। সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। রান্নাঘরের চুলার গ্যাস যে বন্ধ করেনি, সেটা সে ভুলে যায়। আর তার মেয়ের কাঁধে তাকে দেখাশুনা করার দায়িত্ব পড়ে, যে কোনোদিনও তার মেয়ের দেখাশুনা করেনি।

‘বার্ন্ট সুগার’ একই সঙ্গে একটি ভালোবাসা এবং প্রতারণার গল্প। এই ভালবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার নয়, এটি হচ্ছে মা এবং মেয়ের মধ্যকার একটি স্নেহ ও মমতার আদান-প্রদানের ভালোবাসার গল্পে গড়ে ওঠা একটি উপন্যাস।

 দ্য ২০২০ বুকার প্রাইজের শর্টলিস্ট

৪. মাজা মেঙ্গিস্তের ‘দ্য শ্যাডো কিং’ (ইথিওপিয়া)

১৯৩৫ সালে ইথিওপিয়ার দিকে মুসোলিনির সেনাবাহিনী অগ্রসর হচ্ছিলো। অন্যদিকে সদ্য অনাথ হওয়া হিরুট, রাজা হাইলি সালাসির সেনা অফিসার কিডানের গৃহে গৃহপরিচিকা হিসেবে নতুন জীবন শুরু করার জন্য সংগ্রাম করছিলো।

ইতালীয়ান সৈন্যরা ইথিওপিয়া আক্রমণ করলে সামরিক এবং বেসামরিক প্রচুর মানুষ আহত এবং নিহত হয়। হিরুট এবং অন্যান্য নারীগন আহত মানুষদের সেবা দেওয়া থেকে নিহতদের কবর দেওয়া পর্যন্ত সবই করেছে। রাজা হাইলি সালাসি যখন অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন, ইথিওপিয়া অখন আশা হারিয়ে ফেলল। ঠিক তখনই সকলের মনোবল রক্ষা করার দায়িত্ব হিরুটের উপর নেমে এলো। সে একজন সাধারণ মানুষকে রাজা বানালো এবং তার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলো। সে ইথিওপিয়ার অন্যান্য নারীদের কাছে আদর্শ হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু সে কি এই যুদ্ধে জিততে পারবে?

এটাই ‘দ্য শ্যাডো কিং’ উপন্যাসের সারাংশ।  

 

৫. ডগলাস স্টুয়ার্টের ‘শোগি বেইন’ (স্কটল্যান্ড)

১৯৮১ সালে কথা। স্কটল্যান্ডের শহর গ্লাসগো তখন মৃতপ্রায় শহরে পরিণত হয়েছে। দরিদ্রতার হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। শহরের অন্যান্য মানুষদের মত এগনেস বেইনও চাচ্ছিলো এই কঠিন সময় যেন চলে যায়। কিন্ত তার স্বামী তিন সন্তান রেখে তাকে ছেড়ে চলে যায়। এগনেস এবং তার তিন সন্তান থাচারিজমের কারণে ধ্বংস হওয়া একটি মাইনিং শহরে আটকে পড়ে যায়। এগনেস তার এই কঠিন সময় পার করার জন্য এলকোহলের প্রতি মন নিবিষ্ট করে। তার সন্তানেরা তাকে বাঁচানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে এক এক করে তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য তাদের মাকে ফেলে চলে যায়।

কিন্তু তার ছেলে শোগি তার মার সাথে থেকে যায়। কিন্তু শোগির নিজেরও অনেক সমস্যা আছে। সে সাধারণ ছেলের মত জীবন কাটাতে চায় কিন্তু তা পারে না। আর তার মায়ের মাদকাসক্ততা সবাইকে ধ্বংস করতে পারে এমনকি শোগিকেও।

‘শোগি বেইন’ এমনই একটি উপন্যাস যেখানে দারিদ্রতার করাল গ্রাসের কারণে ভেঙ্গে পড়া বাবা-মা-এর প্রতি সন্তানদের ভালবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে।

 

৬. ব্যান্ডন টেইলরের ‘রিয়েল লাইফ’ (যুক্তরাষ্ট্র)

ওয়ালেস পুরো গ্রীষ্মটাই ল্যাবে কাজ করে কাটিয়ে দিয়েছে। লেকসাইড মিডওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে সে বায়োকেমিস্ট্রির ওপর চার বছরের ডিগ্রী করছে। ইউনিভার্সিটিটি তার নিজ বাড়ি আলবামা থেকে অনেক দূরে। এর মধ্যে তার বাবা মারা যায় কিন্তু সে তার শেষকৃত্যে যায়নি। এমনকি এই কথা তার বন্ধুদেরও বলেনি। একদিন  হঠাৎ করে তার জীবনের সব কিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। ওয়ালেস তার অতীত নিয়ে ভাবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্ধিহান হয়ে পড়ে।

‘রিয়েল লাইফ’ উপন্যাসে মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং দুঃখকে জয় করার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি, দ্য বুকার প্রাইজ ডট কম

//জেডএস//

লাইভ

টপ