গোপন পদ্ম
প্রেমের মাঝে অস্পষ্ট এক পথের নাম
অন্তরমিলনের এক অলৌকিক কাছে আসা।
প্রেমিকের আবেগের সীমাহীন যন্ত্রণা
দূরের আকাশে এক বাঁধভাঙা নারীর শরীর,
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির জল
যৌনতা জুড়ে অস্পষ্ট ছোট ছোট দুর্বাঘাস
রমণীর বুকে জমানো জলের মাঝে
এক গোপন পদ্মফুল।
সব যেন এক নিষিদ্ধ গল্পের উত্তরসূরি বাসনা
সব যেন তোমার আমার প্রেমের প্রথম সূচনা
সব যেন তোমার আমার প্রথম চুম্বনের প্রথম যাতনা।
লোহার–ডোর
যে বাঁধনে প্রাণ কেঁদে কেঁদে ওঠে
সে বাঁধনের নাম লোহার–ডোর
আঘাতে আঘাতে ভেঙে যায়
বৃষ্টির জল, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা
প্রভাত আলোর মাঝে ছড়িয়েছে যে সন্ধ্যা
তার মাঝে কেঁপে কেঁপে ওঠে ভূধর।
যেখানে নিশিথে বসন্ত এসে দাঁড়িয়ে থাকে
সম্মুখে তার চেয়ে রয় নিষ্ঠুর আলোকের পাষাণ দিশা।
বাজিবে দিবানিশি বাদ্যের মতো রোদের আলোর মূর্ছনায়
ঈশ্বর এসে কইবে কথা গগণে গগণে কুঞ্জবনে।
হৃদয় খুলিয়া ওষ্ঠ যুগলে পিপাসা ঢালিয়া
করেছিলাম পান; উন্মত্ত আনন্দলোকের এক অগ্নিশিখা
দেখেছিলাম মহা দেবতার স্বর্গের দুয়ার
পেয়েছিলাম স্বাদ আমৃত্যু কামনার।
অজ্ঞাত অসুখ
দীর্ঘ এক অজ্ঞাত অসুখে অনন্ত ক্ষুধা বুকে নিয়ে
সারাদেহ নদীর জলে ডুবে যায়
মধ্যরাতের বৃষ্টির মতো বিলীন হয়ে যায় তোমার চোখের জমানো অশ্রু
দুঃসময় ছিল বড়;
স্মরণের চিহ্ন যত ছিল পড়ে সব অলৌকিক আঁধারে!
মমত্ববোধ সকল মায়া তৃষ্ণা ছিল যেন সব একাকার
সর্বত্র ছিল প্রেয়সীর প্রেমের গল্প কবিতা।
একদিন ছিল উষ্ণ রোমাঞ্চকর
শিকড় জড়িয়ে ছিল চিবুকের আলিঙ্গন
সমুদ্র সেদিন তীব্র বেগে এসেছিল
লহরীর পরে লহরী তুলিয়া
কান পেতে শুনে ছিলাম
লতাপাতার মাঝে তোমারই লজ্জা কথা।
বলেছিলে শরীর পুড়েছিল দহনে
চোখ খেয়েছিল পৌষের আগুনে
মাথার কেশ পড়েছিল ঝরে
দগ্ধ হয়েছিল হস্তরেখা
পালকবিহীন নগ্ন ঘুমিয়েছিল তোমার সকল বর্ণরেখা;
তুমি ডুবেছিলে অজ্ঞাত নাবিকের বাহুতলে
তুমি ডুবেছিলে স্বপ্নে এক আদিম প্রেমের অঙ্গতলে।
লজ্জাবতী
যদি আর একবার আশ্বিন আসে
শরীরজুড়ে পুড়ে ছিল যে ভাস্কররেখা
ঘেমে ঘেমে ভিজেছিল যত লোমকূপ
পাঁজরজুড়ে বসে ছিল যে অলস দুপুর
নীল লজ্জাবতীর ছোঁয়াতে মুছে গিয়েছিল সব লেলিহান।
এমন ইচ্ছে ছিল সেদিন
সূর্যগামী পথ হইয়া
উদিত হব নিজ ভুবনে
জীর্ণ প্রেমের কাঠামো ভেঙে
ফোটাব দেহে, পুষ্প বকুল।
মাংসে মাংসে বেঁধেছিল যত ক্লান্তি আর বিষণ্ণতা
পথে পথে দিয়েছিলাম সবই ফেলে
আমারণ নিদ্রা চেয়েছিলাম দেবতার তরে
অক্ষুণ্ণ রেখে সকল নীরবতা
হয়েছিলাম পাষাণ, হয়েছিলাম ক্রুব্ধ, হয়েছিলাম যাযাবর!
বুঝতে পারনি সেদিন
কত নিঃসঙ্গতাপ্রিয় খেলছে এ বুকে
কতবার হয়েছি ম্লান সীমাহীন ঐ সৌম্য আঁধারে
কতবার ভারাক্রান্ত বর্ষণের মাঝে লুপ্ত হয়ে মেঘের কাছে করেছি সমর্পণ।
নিশ্বাসের যন্ত্রণা
কোথাও আমার ভয় কাঁদে
রাত পেরুলেই চিৎকার দিয়ে আমাকে ডাকে
কি নেশার মাঝে লীন হয়ে যাপন করি বিন্দু বিন্দু দুঃখপাখি।
সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে রই
আঁধার যেন আমাকেই কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
খুব কাছাকাছি যা দেখি
ফুলের গর্ভে প্রজাপতি
ফুলের যৌনতা ঘিরে আছে একদল ক্ষুদ্র শামুক
ফুলের নরম শাখায় ভর করে আছে নেশাতুর জ্যোৎস্নার আবেশ।
এখনো কাঁদে, কোথাও আমার বুক কেঁপে কেঁপে কাঁদে
রেখেছিলাম লুকিয়ে বুকের তলে দীর্ঘবাসের একজোড়া মুখ
ভয়ে ভয়ে গিলে ফেলেছিলাম তোমার বক্ষে বয়ে যাওয়া এক সমুদ্র
অথচ তুমি, কত সহজে নৌকাগুলো দিয়েছিলে ডুবিয়ে
তুফান এসেছিল, আকাশ থেকে ঝরে পড়েছিল পাখির সব পালক
স্রোতের মাঝে এক আগন্তুক ঢেউয়ের খেলায়
পুড়ে যাচ্ছিল তোমার মাঝে জন্ম নেওয়া এক একটি বৃক্ষ
তুমি ছিলে আগুন, তুমি ছিলে সমুদ্র
শক্ত মাটি আঁকড়ে কেঁপে কেঁপে তোমায় ছুঁয়েছিলাম।
খুব কাছাকাছি যা পেয়েছিলাম
তোমার নিভৃত স্পর্শ
পোড়া শরীরে মৌনতার ঘ্রাণ
ওষ্ঠজুড়ে চুম্বনের নেশা
সাদা পালকে অঙ্গ বদল
ক্ষত বুকে নিশ্বাসের যন্ত্রণা।









