আড়ালে থাকো দৃ, বাহিরে অনেক শোরগোল
আড়ালে থাকো দৃ, বাহিরে অনেক শোরগোল।
রাজনৈতিক কেওজ, মাছবাজার, রেশনের ফিরিস্তি।
কাঁচি হাতে জনাকয়েক, যেন—
তুমি চুল খুলে বেরুলেই তৎক্ষণাৎ আক্রমণে,
ছিনিয়ে নেবে নকল চুলের কারখানায়।
যেহেতু পৃথিবীতে অর্বাচীন বিশুদ্ধ হৃদয়,
আমরা বসবাস করি যার যার অবিশুদ্ধ কুঠরী—
মেজে ঘষে। চাকচিক্যে লুকিয়ে রাখি ক্রোধ, গ্লানি,
লোভ, ঈর্ষা। যদিও এই প্রক্রিয়ায় ক্রমশ প্রকাশ পায়
আমাদের হিউব্রিস, আমাদের সমস্ত গৌরব এই পৃথিবীতে।
এই সমস্ত কপটতা থেকে দূরে, ‘শুদ্ধ’ কুঠুরি নিয়ে,
তুমি আড়ালেই থাকো দৃ, বাহিরে অনেক শোরগোল।
ধ্রুপদ সংগীতের মতো
বিচিত্র সমরেখার পথ পেরিয়ে, বক্রের প্রারম্ভিক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে দেখি,
দৃ, তুমি চলে যাচ্ছো উপবৃত্তাকার পথে।
এখন মেঘনা পেরিয়ে এসে পড়বে—
শীত, বাতাসে বিষাদের ঘ্রাণ মাখামাখি।
আমি বসে আছি বিলম্বিত কুয়াশার মাঝামাঝি, স্থির, যেন থেমে আছে ফেরি পারাপার।
দৃ, তুমি চলে যাচ্ছো যেমন চলে যাচ্ছে রোদ নিদ্রায়,
ক'মাসের আনন্দহীন শীতকালে।
বুকের পাশে সযত্নে (যেখানে তুমি) অ্যালান পোয়ের রচনাসমগ্র রেখে,
দ্রুত পায়ে হেঁটে চলি; যেন খানিক দূরেই দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার লুলাবাই,
ইউ এস এস আর, উডস্টক আর সব কাঙ্ক্ষিত সুখ।
এত কিছুর ডামাডোলে, শহরের পর শহর পেরিয়ে,
দৃ, তুমি চলে যাচ্ছো। দৃশ্যমান, অথচ শ্রাব্যতার তরঙ্গ পেরিয়ে—
দৃ, তুমিও কি ধ্রুপদ সংগীত হয়ে যাচ্ছো?
যদি বিড়ালেরা কবিতা লিখতো, আমরা খেতাম ক্যাটফুড
চারপেয়ে হাঁটার কৌশল সমেত, শিখতাম সম্মোহনী কলা।
বড় কবিদের পাশে ঘোরাফেরা করতাম, প্রায়শই একাডেমির বড়ো কর্তার ঘরে।
যেসব ঘরে পাওয়া যায় পরিচ্ছন্ন লিটার, পুরস্কার প্রত্যাশী কবি,
স্পষ্টত প্রাচীন বিবিধ উপঢৌকন সমেত, হুইস্কাস ক্যাটফুড।
হ্যাংওভারে
শীতকাল চলে আসে,
ঘুমিয়ে থাকা হয় না।
হ্যাংগারে ঝুলে থাকে বহু পরিচর্যার—
পোশাক,
নোংরা।
যেমন নোংরা হয় একেকজনের হৃদয়।
ঘষামাজায় চকচকে ফার্নিশড করে তোলে।
সাজিয়ে রাখে বিক্রয়যোগ্য মননের সাথে।
পাশে পড়ে থাকে তাদের—
সমস্ত প্রেম ও কাম,
শরীর, যৌনতা ও মাথাব্যথার বৃত্তান্ত।
শীতকাল চলে আসে,
প্রকৃত তাড়নার বসে একদিন—
পৃথিবীর অসুখ নিয়ে মানুষ চলে যায়,
যার যার বিশ্বাস থেকে বহুদূরে।
মাধ্বী, গান হয়ে এসো
কিছু সবুজ জমে থাকুক গাঢ় কোনো শীতে।
ক্রমশ পাতার পক্কল রং ধীর হাতে মুছে—
বৃষ্টি, তুমি নেমে আসো অচল যানের শহরে
ধুলো ঝেড়ে। মাধ্বী, এসো শিউলি কুড়োই
রক্তিম ভোরে। রৌদ্র ঝিলমিল,
আকাশের নেই কোনো প্রকৃত পলেস্তারা।
বাতাস বয়, ধানের ঘ্রাণ আনে দুপুর আলোচ্ছটা।
দেখি ঝরে পড়া পাতাদের পাশে,
উনুনের বিলম্বিত আঁচে
জ্বাল করা; মাছ-ক্লান্তি— শৃঙ্গার, আনাজপাতি।
বিরহ ফিরে এলে, জানি প্রেমে সুখি
হয় মানুষ। পুনরায় গর্ভবাস পেলে,
বিষণ্ন বৃক্ষের মতো আবারও মাখামাখি
হলে, ডুবে যাব— আকণ্ঠ স্মৃতির স্মরণে।
ল্যাম্পপোস্টে এসে বসে ছোট্ট এক শালিক,
চোখের ভেতর ইঁদুর সেজে রয়েছে এ কোন নাবিক?
গান হও,
শুনি,
হাসপাতালে যেমন ভিড় করে থাকে উৎকণ্ঠায়, রোগিণী।
বাতাস বয়, পাল তুলে চলে যায় মাঝবয়েসি নৌকা।
রৌদ্র ঝিলমিল জল পান করে সূর্যের শব, সুধা।
তেমনই নদীর কাছে, পল্লবিত ঝাউয়ের বনে
প্রকৃত সুবাসে, তুমি গান হও, শুনি।
সুখের কাছাকাছি তবু দূর হতে
জানি—
পরাগায়ন খুন করে যায় সমস্ত শীতের ফুল৷
গাছেদের মর্মরে গাঁথে, মৌমাছির আনন্দ প্রসারী হুল।









