X
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস
ধারাবাহিক—দুই

ক্লিশিতে শান্ত দিন ।। হেনরি মিলার

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২২:২৪

পূর্বপ্রকাশের পর

ওর কণ্ঠস্বর ওর হাসির চেয়েও রোমাঞ্চকর; দারুণ মাত্রায় বাঁধা তার উচ্চতরতা, বরং নিচুই, আর একদম কণ্ঠ নির্গত স্বর। এ এমন এক মহিলার গলা যে বেঁচে আছে বলে প্রীত, যে নিজেকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, যে অমনোযোগী আর অকিঞ্চন, এবং যে স্বাধীনতার যৎকিঞ্চিৎটুকুও সঞ্চয় করতে যে কোনও কিছু করতে পারে, যা তার আছেও। 
এ ছিল যেন এক স্বরদাতার কণ্ঠ, একজন স্বরব্যয়কারিণীর আওয়াজ; যার আবেদন হৃদয়ে নয় বুকের ঝিল্লিগুলোতে গিয়ে বাজে। 
আমার স্বীকার করা উচিত, আমি পুরো অবাক, যখন সে তাড়াহুড়ো করে আমাকে ব্যাখ্যা করতে লাগল যে তার টেবিলের কাছে এসে আমি একটা কেলেঙ্কারি করে বসেছি। ‘‘আমি ভেবেছি তুমি বুঝতে পেরেছ’’, ও বলছে, ‘‘যে তোমার সাথে এখান থেকে বাইরে মিশতে আমার সমস্যা নেই। সেটাই তোমাকে আমি ইশারায় বলতে চাইছিলাম।’’ ও ইঙ্গিত করছিল যে এই জায়গাটায় পেশাদার হিসেবে ও পরিচিত হতে চায় না। আমি আমার বোকামির জন্য ক্ষমা চাইলাম, যা সে হাতে চাপ রেখে এবং একটা সহৃদয় হাসিতে নম্র ভঙ্গিতে গ্রহণ করে ধর্তব্যের মধ্যেই আনল না। 
 ‘‘এগুলো কী?’’ টেবিলের ওপর রাখা আমার প্যাকেটগুলোর প্রতি আগ্রহের ভান করে চট করে বিষয় পালটে বলল। 
‘‘এমনিই, কিছু বই আর রেকর্ড।’’এসবে তার সামান্যই হয়তো আগ্রহ থাকবে, প্রকারান্তরে এটাই বোঝালাম।
‘‘ফরাসি লেখকের বই?’’ হঠাৎ করে যেন একটা নির্ভেজাল আগ্রহের লক্ষণ আমি দেখলাম মনে হল। 
‘‘হ্যাঁ।’’ আমি বললাম। ‘‘কিন্তু খুব তেমন কিছু নয়। প্রুস্ত, সিলিন[৭], এলি ফর[৮]... তুলনায় তুমি বোধহয় মরিস ডেকোবরা[৯] বেশি পছন্দ করবে, না?’’ 
‘‘দেখি প্লিজ। আমেরিকানরা কী ধরনের ফরাসি বইপত্র পড়ে আমি দেখতে চাই।’’
আমি প্যাকেট খুলে এলি ফরের একটা বই দিলাম ওর হাতে। এটা ছিল দ্য ড্যান্স ওভার ফায়ার অ্যান্ড ওয়াটার।
এলোমেলো এদিক সেদিক পাতা ওলটাচ্ছে, অল্প হাসছে, অল্প আগ্রহ আর বিস্ময় মাখানো মুখ, যেন এখান ওখান থেকে পড়তে পড়তে যাচ্ছে। তারপর বেশ ভেবেচিন্তে নামিয়ে রাখল, বন্ধ করে দিল, আর হাতটা রেখে দিল বইয়ের ওপর যেন ওটাকে সে বন্ধই রাখতে চায়।
‘‘যথেষ্ট। চলো একটু ভালো কিছু নিয়ে কথা বলা যাক।’’
তারপর, একটু চুপ থেকে বলল, ‘‘এটা কি সত্যিই ফরাসি ছিল?’’
‘‘একদম খাঁটি,’’ মুখ ব্যাদান করা হাসিতে বললাম।
হতভম্ব দেখাল ওকে। ‘‘ভাষাটা কিন্তু চমৎকার,’’ ও বলতে থাকল, যেন নিজেকেই, ‘‘আর তাছাড়া এটা যদি ফরাসি না-ই হয়... তো আমি বলছিই বা কী করে?’’
আমি প্রায় বলতে যাচ্ছিলাম আরে সেটা ভালোভাবেই বুঝেছি, তখনই ও কুশনের দিকে নিজেকে ঠেলে আমার হাতটা ধরে, মুখে একটা শয়তানি হাসি রেখে যা আসলে ওর অকপটতাকে আরও মজবুত করার জন্যই, বলল: ‘‘দ্যাখো, আমি বরাবরের কুঁড়ে মানুষ। বইটই পড়ার অভ্যেস আমার নেই। আমার দুর্বল মাথার জন্য এটা বড় চাপের।’’
‘‘জীবনে করার জন্য আরও অনেক অন্য জিনিস রয়েছে।’’
ওর হাসিটা ওকে ফিরিয়ে উত্তর দিলাম। এবং বলতে বলতেই ওর পায়ের ওপর হাত রেখে ছুঁতে শুরু করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই ওর হাত আমার হাতের ওপর এল, সরিয়ে নরম তুলতুলে জায়গায় নিয়ে রাখল। তারপর, ‘‘আমরা এখানে তো একলা বসে নেই,’’ বলে কতকটা জলদিই আমার হাতটা সরিয়ে দিল। 
আরাম করে ছড়িয়ে বসে আমরা আস্তে আস্তে মদে চুমুক দিচ্ছিলাম। ওকে পাবার জন্য আমার কোনও তাড়াহুড়ো নেই। আমি মুগ্ধ হচ্ছিলাম ওর কথা বলার ধরনে, যার একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল, এবং যেটা আমাকে বলছিল এ মেয়ে প্যারিসের মেয়ে নয়। 
ও একেবারে বিশুদ্ধ ফরাসি বলছিল, আর আমার মতো একজন পরদেশির জন্য এটা শুনতে পারাটাই দারুণ আনন্দের। প্রত্যেকটা শব্দ উচ্চারণ করছিল পরিষ্কার স্পষ্টভাবে, কোনও ইতর শব্দ নেই-ই বলতে গেলে, কোনও চলতিয়ানা নেই। ওর মুখ থেকে যে কথাগুলো বেরুচ্ছে, তারা একটা বিলম্বিত লয়ে মূর্ত অবয়ব নিয়ে বেরিয়ে আসছে, ঠিক যেন তালুর ওপরে ওগুলোকে আবর্তিত করে নিচ্ছে শূন্যের হাতে তাদের সঁপে দেবার আগে যেখানে ধ্বনি আর অর্থ মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে। 
ওর ইন্দ্রিয়পরায়ণ আলস্য, শব্দগুলোকে পালকে ঢেকে নমনীয় করে দিচ্ছে, ফারের বলের মতো সেগুলো ভেসে আসছে আমার কানে। ওর ধরণী-ভারাক্রান্ত শরীর, কিন্তু কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি যেন ঘণ্টার সুস্পষ্ট স্বরলিপি। 
বলা যায় যেন এ জন্যেই তাকে তৈরি করা হয়েছে, অথচ একজন পুরোদস্তুর পতিতা হিসেবে সে কিন্তু আমাকে মুগ্ধ করেনি। এটা ঠিক যে ও আমার সঙ্গে যাবে এবং তার জন্য টাকাও নেবে, আমি জানি— কিন্তু সেটাই একজন মহিলাকে পতিতা করে না।                     
 প্রশিক্ষিত এক সীল মাছের মতো ও আমার ওপর একটা হাত রাখল, আর আমার মন ওর নরম আদরে একটা কাঠঠোকরা পাখির মতো জেগে উঠল উল্লাসে। 
‘‘সংযত হও,’’ চাপা স্বরে বলল, ‘‘এত তাড়াতাড়ি অস্থির হওয়া ভালো নয়।’’
‘‘উঠি, চলো,’’ বলে ইশারায় ওয়েটারকে ডাকলাম। 
‘‘হ্যাঁ চলো,’’ ও বলল, ‘‘অন্য কোথাও একটা যাই যেখানে আমরা অনেকক্ষণ কথা বলতে পারব।’’
নিজে কথা যত কম বলা যায় ততোই ভালো, আমার জিনিসগুলো গোছাতে গোছাতে ভাবলাম এবং রাস্তায় এলাম তার সমভিব্যাহারে। রিভলভিং দরজার ভেতর দিয়ে তার পাল তোলা জাহাজ দেখতে দেখতে, চমৎকার পেছনটা, আমার চোখে প্রতিফলিত হল। এরইমধ্যে আমি দেখেছি আমার চোখের সামনে তার দুলে দুলে চলা, একটা তাজা, জবরদস্ত বিরাট শরীর আরও ঝরঝরে ফিটফাট হওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে। 
রাস্তা পেরুতে পেরুতে ও বলল আমার মতো একজনকে পেয়ে ও কতটা খুশি হয়েছে। প্যারিসে ও কাউকেই চেনে না, একাকি মনমরা হয়ে থাকে। যদি আমি তাকে আশেপাশে কোথাও নিয়ে যাই, শহরটা ঘুরে দেখাই? একজন বিদেশি আগন্তুকের পক্ষে এটা খুব মজার হবে এমন কাউকে এই শহরটা ঘুরে দেখানো, যেটা তার নিজের দেশের রাজধানী। আমি কি কখনও অ্যাঁবোয়ায়[১০] গেছি, কিংবা ব্লোআতে[১১] অথবা তুরে[১২]? হয়তো কোনওদিন আমরা একসাথে বেড়াতে যাব। 
আমরা পাশাপাশি হাঁটছি, এটাসেটা গল্প করতে করতে, যতক্ষণ না একটা হোটেলের সামনে এসে পৌঁছলাম যেটা ওর চেনা মনে হল। ‘‘এটা বেশ পরিষ্কার আর আরামের,’’ ও বলল। ‘‘আর একটু ঠান্ডাও। আমরা বিছানায় দুজন দুজনকে গরম করব।’’  
বলে আমার বাহু চেপে ধরল অনুরাগে। 
ঘরটা একটা পাখির বাসার মতোই উষ্ণ। আমি সাবান আর তোয়ালের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, কাজের লোকটিকে বকশিশ দিলাম এবং দরজা বন্ধ করে দিলাম। টুপি আর ফারের জামাটা খুলে ও জানলার সামনে দাঁড়িয়ে রইল আমাকে জড়িয়ে ধরার জন্য। কী গরম আর সুরোপিত এই শরীর, মাংস! আমি ভেবেছিলাম আমার স্পর্শের নিচে ও অঙ্কুরিত বীজ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে প্রবল প্রকাশে। অল্প কিছুক্ষণ বাদেই আমরা নিজেকে উন্মুক্ত করতে শুরু করলাম। 
জুতোর ফিতে খোলার জন্য আমি বিছানার কোণটায় বসলাম। ও দাঁড়িয়েছিল আমার পাশে। নিজেরগুলো খুলছিল। যখন আমি তাকালাম, দেখি পায়ের মোজা ছাড়া আর কিছু নেই সারা গায়ে। ও দাঁড়িয়েই রইল ওখানে, আমার অপেক্ষায়, যাতে আরও মন দিয়ে ওকে দেখি। 
আমি উঠে দাঁড়ালাম আর আবার দু’ বাহুতে আকর্ষণ করলাম ওকে। ওর তরঙ্গক্ষুব্ধ সমুদ্রে আমার বৈঠা ঘুরতে লাগলো। তখনই আলিঙ্গন সরিয়ে, আমাকে এক-হাত দূরত্বে রেখে লজ্জাবনত মুখে জানতে চাইল, আমি কোনওভাবে ঠকে গেলাম কিনা। 
‘‘ঠকে গেলাম,’’ ফিরতি প্রশ্নে বললাম ওকে। ‘‘মানে কী এর?’’   
‘‘আমি খুব মোটা, না?’’ বলে, চোখ নামিয়ে নিজের নাভির ওপর রাখল।
‘‘মোটা? কেন, তুমি তো চমৎকার দেখতে। রেনোয়ার[১৩] ছবির মতো।’’
লাল হয়ে গেল শুনে। ‘‘রেনোয়া?’’ আবার জিগ্যেস করল, যেন এই নামটা আগে কখনও শোনেইনি। ‘‘নাহ্, তুমি মজা করছ।’’ 
‘‘আরে, ছাড়ো তো। এসো, একটু স্পর্শ করি।’’ 
‘‘দাঁড়াও, আমি টয়লেট করব আগে।’’ জলশৌচের বেসিনের দিকে যেতে যেতে বলে গেল: ‘‘তুমি নিজেকে ভালো করে গরম করে রাখো, কেমন?’’  
আমি ঝটপট জামাকাপড় খুলে নিজেকে ধুয়ে নিলাম এবং ঝাঁপিয়ে ঢুকে গেলাম বিছানায় চাদরের ভেতর। বেসিনটা ছিল বিছানার পাশেই। ধোয়াধোয়ি শেষ করে একটা পাতলা, ন্যাতানো তোয়ালে দিয়ে ও মুছতে শুরু করল। আমি সামনে ঝুঁকে ওকে খামচে ধরতে গেলাম। ও ঠেলে আমায় বিছানায় ফেলে দিল, ঝুঁকে এল আমার ওপরে। 
আমি ভেবেছিলাম আমার এসব যেন শেষই হবে না। 

আমরা উঠে পড়লাম, ধুয়ে নিলাম এবং হামাগুড়ি দিয়ে বিছানায় ফিরে এলাম আবার। কনুইতে ভর রেখে হেলান দিয়ে শুয়ে আমার একটা হাত ওর শরীরে ওপর-নিচে ঘোরাচ্ছিলাম। ফিরে এসে শোওয়ার পর ওর চোখ জুড়ে ছিল সুখানুভব, এক সর্বাঙ্গীণ আরাম, পা দুটো ছিল ফাঁক করা, অল্প শিরশির করছিল ওর গা। বেশ ক’মিনিট আমরা কোনও কথা বলিনি। আমি ওর জন্য একটা সিগারেট ধরিয়ে ওর মুখে দিলাম, বিছানায় শুয়ে পরিতৃপ্ত চোখে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম সিলিংয়ের দিকে।  
‘‘আমরা কি আরও কিছু করতে পারি?’’ কিছুক্ষণ বাদে আমি জিগ্যেস করলাম। 
সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ও বলল, ‘‘সেটা তোমার ওপর।’’ তারপর, সিগারেটটা ফেলার জন্য পাশ ফিরল, কাছে এসে, স্থিরদৃষ্টে আমার দিকে চেয়ে, অল্প হাসল, কিন্তু গম্ভীর চিন্তাশীল মুখে, ওর নিচু গলায় শিস দেওয়া স্বরে বলল : ‘‘শোনো, খুব জরুরি একটা জিনিস তোমাকে আমার বলা দরকার।
তোমার কাছে একটা বড় অনুগ্রহ চাইছি...
আমি একটা সমস্যায় পড়েছি, ভীষণই সমস্যায়। যদি বলি, তুমি সাহায্য করবে আমাকে?’’
‘‘নিশ্চয়ই,’’ আমি বললাম, ‘‘কিন্তু কীভাবে?’’  
‘‘টাকা দিয়ে,’’ ও বলল, শান্ত এবং সহজভাবে। ‘‘অনেকগুলো টাকা আমার দরকার... ভীষণ দরকার।
আমি ঠিক বোঝাতে পারব না কেন। বিশ্বাস করো আমায়, করবে?’’
আমি ঝুঁকে পকেট থেকে টাকাকড়ি আর খুচরো যা ছিল, বের করে ওর হাতে দিলাম।
‘‘যা আছে সবটাই দিলাম তোমাকে,’’ আমি বললাম। ‘‘এটুকুই পারি।’’
ওর পাশের নাইট টেবিলে ও টাকাটা রাখল, সেদিকে না তাকিয়েই এবং ঝুঁকে এসে আমার কপালে একটা চুমু খেল, বলল, ‘‘তুমি খুব ভালো।’’ তারপরও ঝুঁকেই রইল আমার ওপর, আমার চোখের দিকে নির্বাক, চাপা কৃতজ্ঞতায় তাকিয়ে, আমার ঠোঁটে চুমু খেল, খুব আবেগপ্রবণভাবে নয়, কিন্তু ধীরে, অনেকটা সময় ধরে, যেন আবেগটা প্রকাশ করার জন্য যা ও শব্দে প্রতিস্থাপন করতে পারছে না। 
‘‘এখন আর আমি থাকতে পারব না,’’ বলে, পেছনে বালিশের ওপর শুয়ে পড়ল। ‘‘যেতে হবে।’’
তারপর, অল্প বিরতির পর, বলল, ‘‘কী অদ্ভুত না, কারুর নিজের লোকের চেয়ে অচেনা মানুষই বেশি সদয় হয়। তোমরা আমেরিকানরা খুব দয়ালু, নম্র। তোমাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক শেখার আছে।’’   
এটা আমার কাছে বহু পুরনো গান, নিজের ওপরেই কতকটা লজ্জা হচ্ছে আবার একজন উদার আমেরিকান হয়ে দাঁড়াতে। ওকে বোঝালাম যে আমার পকেটে এত টাকা থাকাটা নেহাতই একটা বিরল ব্যাপার। এর উত্তরে ও বলল আমার ব্যবহার নাকি অত্যন্ত চমৎকার। ‘‘একজন ফরাসি পুরুষ হলে লুকিয়ে রাখত,’’ ও বলল। ‘‘শুধুমাত্র মেয়েটার দরকার আছে বলে প্রথম পরিচয়েই একটা মেয়েকে এই টাকাটা সে দিত না। প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে সে বিশ্বাস করত না। ‘এসব গপ্পো আমার ঢের জানা আছে,’ এটাই হয়তো সে বলত।’’
আমি কিছু বললাম না। এটা সত্যি আবার সত্যি নয়ও। জগতে সবরকমের মানুষই রয়েছে, এবং যদিও তখনও অবধি আমি একজনও উদার ফরাসির দেখা পাইনি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি তারা আছে। যদি আমি ওকে বলি আমার নিজের বন্ধুরা, আমার স্বদেশীয়রা কতটা অনুদার ও হয়তো কখনও বিশ্বাসই করবে না আমার কথা। এবং এর সাথে যদি আমি বলি যে, যা আমায় প্রণোদিত করল তা কোনও উদারতা বা মহত্ত্ব নয়, বরং নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য নিজেকেই করুণা করা (কারণ কেউ আমার কাছে ততটা মহৎ হতে পারে না যতটা আমি নিজের কাছে নিজে), তাহলে ও হয়তো আমাকে একটু পাগলাটেই ভাববে। 
এবার আমি বিরূপ খেলা খেলতে চাইলাম।
সামান্য সম্পাদিত। চলবে।

পরিশিষ্ট
৭. সিলিন (Céline) : ফরাসি ঔপন্যাসিক, প্যামফ্লেট লেখক, চিকিৎসক লুই ফার্দিনান্দ সিলিন (১৮৯৪—১৯৬১)। বিখ্যাত উপন্যাস ‘জার্নি টু দ্য এন্ড অফ দ্য নাইট’ (১৯৩২), ‘ডেথ অন দ্য ক্রেডিট’ (১৯৩৬), ‘ক্যাস্ল্ টু ক্যাস্ল্’(১৯৫৭)। সিলিনের ‘জার্নি টু দ্য এন্ড অফ দ্য নাইট’ বিশ শতকের সর্বাধিক প্রশংসিত উপন্যাস সমূহের মধ্যে একটি। 
৮. এলি ফর (Elie Faure) : ফরাসি শিল্প-ঐতিহাসিক এবং প্রাবন্ধিক (১৮৭৩—১৯৩৭)। মিলার ওঁর ‘ট্রপিক অফ ক্যাপ্রিকর্ন’, ‘প্লেক্সাস অ্যান্ড নেক্সাস’-এ ফরের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন। 
৯. মরিস ডেকোবরা (Maurice Dekobra) : ফরাসি লেখক (১৮৮৫—১৯৭৩)। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরাসি লেখকদের অন্যতম। সত্তরটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে ওঁর লেখা। বর্তমানে সম্পূর্ণ বিস্মৃত।   
১০. অ্যাঁবোয়া (Amboise) : ল্যোয়া-র (Loire) নদীর উপত্যকায় অবস্থিত একটি ফরাসি শহর। এখানেই থাকতেন লেওনার্দো দা ভিঞ্চি। পঞ্চদশ শতকের রাজা অষ্টম চার্লসের প্রাসাদের জন্য বিশেষ পরিচিত এ শহর।   
১১. ব্লোআ (Blois) : মধ্য ফ্রান্সের একটি শহর।     
১২. তুর (Tours) : মধ্য-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যোয়া-র নদীর নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত একটি শহর।  
১৩. রেনোয়া : পিয়ের অগুস্ত রেনোয়া (১৮৪১—১৯১৯)। ইম্প্রেশনিস্ট ধারার খ্যাতনামা  ফরাসি শিল্পী।  

/জেডএস/
সম্পর্কিত
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
কামাল চৌধুরীর কবিতাবিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
সমকালীন অস্ট্রেলিয়ান গল্পদুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণা
© 2022 Bangla Tribune