X
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২৪ মাঘ ১৪২৯
হারুকি মুরাকামি

আমার চরিত্রগুলোর উৎস কোথায় ।। পর্ব-২

অনুবাদ : সাজিদ উল হক আবির
২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১৮আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:২১

জাপানে ১৯৯৪ ও ৯৫ সালে তিন ভলিউমে প্রকাশিত "দা উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকেল" হচ্ছে উত্তমপুরুষে লেখা আমার শেষ উপন্যাস, যদিও এই উপন্যাসের দুই দশক পর আবারো আমি "কিলিং কম্যান্ডেটর" নামে আরও একটি বই লিখি উত্তমপুরুষে। পূর্বোক্ত বিশাল উপন্যাসটিতে কেবল উত্তমপুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গল্প সামনে টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি, ফলশ্রুতিতে আমাকে কিছু ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা লেগেছে, যেমনঃ উপন্যাসের ভেতরেই বিবিধ চরিত্রের গল্প আলাদা করে বলা, অথবা দীর্ঘ চিঠি লেখা। এসবকিছুর পরেও এক পর্যায়ে এসে আমি অনুভব করলাম উত্তমপুরুষে গল্প বলাটা আমি আর নিতে পারছি না ব্যক্তিগতভাবে। কাজেই আমার ২০০২ সালে প্রকাশিত "কাফকা অন দা শোর" উপন্যাসে আমি কাফকা নামের ছেলেটির গল্প বলার সময় "আমি" ব্যবহার করলেও, উপন্যাসের বাকি অধ্যায়গুলির গল্প নামপুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয়েছে। গল্পের বয়নের করণকৌশল বিবেচনায় এটা ছাড় দেয়ার মানসিকতার পরিচায়ক মনে হতে পারে, কিন্তু নামপুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপন্যাসের বাকি অর্ধেক গল্প বলাটা আমার উপন্যাসের পৃথিবী নির্মাণের সম্ভাবনাকে দারুণভাবে বর্ধিত করে তুলেছিল। এদিক থেকে আমি অনেকটাই মুক্ত ছিলাম, "দা উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকেল" লেখার সময়।

২০০৫ সালে প্রকাশিত গল্পের সংকলন "টোকিও কিতানাসু" এবং ২০০৪ সালে প্রকাশিত মাঝারি সাইজের উপন্যাস "আফটার ডার্ক"- এ আমি বিশেষভাবে নামপুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করি। সেটা ছিল অনেকটা নিজের কাছে নিজের প্রমাণ করবার মতো- যে নতুন করণকৌশল আমি আমার উপন্যাসে প্রয়োগ করছি, তার ওপর যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষতা আছে আমার। ব্যাপারটা তুলনা করা চলে নতুন কেনা একটা স্পোর্টস কার নিয়ে পাহাড়ী রাস্তায় বেরিয়ে পড়ার সঙ্গে, যাতে করে সে গাড়িটার সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা যায়। আমার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের দুই দশক পর আমি উত্তমপুরুষে উপন্যাস লেখা থেকে বিরতি নেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হই।

গল্প বয়ানের কৌশল বদলে আমার এতো সময় লাগলো কেনো? সত্যি বলতে, প্রকৃত কারণটা আমার নিজেরও জানা নেই। এতোটুকু বলতে পারি যে, আমার শরীর মন উভয়েই উপন্যাস লেখবার ক্ষেত্রে উত্তমপুরুষ, তথা "আমি"- কে বক্তা হিসেবে গ্রহণে এতোটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল যে, আমার বেশ খানিকটা সময় লেগে যায় সে কৌশল বদলানোতে। এটা শুধুই উত্তমপুরুষে উপন্যাস লিখবার টেকনিক বদলানো ছিল না আমার জন্যে, বরং তা ছিল লেখক হিসেবে আমার যে মৌলিক অবস্থান, সেটারও রুপান্তর। এবং আমি এমন একজন মানুষ, যার যেকোনো কাজ করবার ব্যক্তিগত পন্থায় বদল আনতে বেশ সময় লাগে। আমার চরিত্রগুলোর নামকরণ করতেও আমার বছরখানেক সময় লেগে যায়। "দা র‍্যাট" অথবা "জে"- এই ধরনের ছদ্মনামের ব্যবহারে আমি স্বাচ্ছন্দ্য ছিলাম, এবং উত্তমপুরুষে উপন্যাস লিখবার সময় আমি মূলত নাম ছাড়া চরিত্র ব্যবহার করতাম। চরিত্রগুলোর সত্যিকারের মানুষের নামকরণে আমার কী সমস্যা হতো? আমার এর উত্তর জানা নেই। কেবল এতোটুকুই বলতে পারি যে, আমার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সত্যিকারের মানুষের মতো নামকরণ করতে আমার লজ্জা লাগতো, অস্বস্তিবোধ হতো। মনে হতো যে আমার মতো একটা মানুষ অন্য মানুষদের নাম দিচ্ছে (যদিও তারা কাল্পনিক চরিত্র)- এ ব্যাপারটাই কেমন যেনো ঠেস মারা, ভাব নেয়ার মতো একটা ব্যাপার। শুরুর দিকে আমি হয়তো এই একই কারণে উপন্যাস লিখবার বিষয়টা নিয়েই খানিকটা অস্বস্তিতে ভুগতাম। ব্যাপারটা ছিল আমার অন্তরকে নগ্ন অবস্থায় সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেয়ার মতো।

আমি অবশেষে প্রথমবারের মতো আমার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর নামকরণে সক্ষম হই "নরওয়েজিয়ান উড" (১৯৮৭) উপন্যাসটিতে। তার আগ পর্যন্ত আমি নানাভাবে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে নিজের উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে উপস্থাপন করতাম পাঠকদের সম্মুখে, এবং এতে আমার কোনো আফসোস হতো না। নিজেকে প্রবোধ দিতাম- এভাবেই তো বেশ চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমার উপন্যাসগুলো কলেবরে যত বিশাল, এবং জটিল হওয়া আরম্ভ হল, লেখক হিসেবে আমার সমস্যার মাত্রা বাড়তে আরম্ভ করলো। যদি আপনার উপন্যাসে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, এবং কোনটারও নাম না থাকে, তবে তা নানাভাবে পাঠককে ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন করে দেয়। কাজেই নরওয়েজিয়ান উড লিখবার সময়ে আমি অবশেষে নিজের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি চরিত্রগুলোর নামকরণ শুরু করবো। আমি চোখ বন্ধ করে নিজেকে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত করলাম এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার জন্য, এবং তারপর থেকে আমার জন্য আর চরিত্রগুলোর নামকরণ তেমন কঠিন রইলো না। ইদানীং খুব সহজেই আমি আমার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর নামকরণ করতে পারি। কালারলেস টিসুকুরু তাজাকি অ্যান্ড হিস ইয়ার্স অফ পিলগ্রিমেজ (২০১৩) আমার এমন একটি বই যার নামকরণ আমি করেছি মুখ্য চরিত্রের নামানুসারে। 1Q84 (২০০৯-১০) উপন্যাসের গল্প রীতিমতো দৌড়ানো শুরু করলো, যখন আমি উপন্যাসটির প্রধান নারী চরিত্রের জন্য 'আওমামি' নামটি খুঁজে পেলাম। সে দিক থেকে উপন্যাসের চরিত্রের নামকরণ এখন আমার লেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবার একটা নতুন উপন্যাস শুরু করবার আগে আমি নিজেকে বলি- "ঠিক আছে, এই নতুন উপন্যাসে আমাকে এই এই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে"। এরপর নিজের জন্য আমি কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করি, যার অধিকাংশই দৃশ্যমান, এবং টেকনিক্যাল, তথা করণকৌশলগত। এভাবে লেখাটা আমি উপভোগ করি। প্রতিবার নানা বাঁধাবিপত্তি পেরিয়ে আমি যখন নতুন কিছু অর্জন করি, আমার ভেতর সত্যিকারের একটা উপলব্ধি জন্মে যে লেখক হিসেবে আমি আরও একটু পরিণত হয়েছি এর মাধ্যমে। এ অনেকটা ধাপে ধাপে মই বেয়ে ওঠার মতো। ঔপন্যাসিক হবার সবচে সুন্দর দিক হল, পঞ্চাশ কিংবা ষাট বছর বয়সে এসেও এই ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিণত হওয়াটা উপলব্ধি, উপভোগ করা যায়। এখানে কোনো বয়সসীমা নেই। খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট যারা, তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টা এমন না।

নামপুরুষে উপন্যাসের গল্প বলা, উপন্যাসের চরিত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, তাদের নাম দেয়া- এসবকিছুর মাধ্যমে আমার উপন্যাসের সম্ভাব্যতার ব্যপ্তি আরও প্রসারিত হয়। দুনিয়ার নানা ধরনের, নানা রঙের মানুষজন, যাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্ববীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন- তাদের আমি আমার উপন্যাসে সংযুক্ত করতে পারি, সক্ষম হই তাদের মধ্যে বিদ্যমান জটিল সম্পর্কের বুননকে ফুটিয়ে তুলতে। আর সবচে সুন্দর বিষয় যেটা,ব্যবহারিকভাবেই আমি দুনিয়ার যেকোনো মানুষে পরিণত হতে পারি আমার উপন্যাসের জগতে। এমনকি যখন আমি উত্তমপুরুষে আমার উপন্যাস লিখতাম, তখনও আমার ভেতরে এ অনুভূতিটা কাজ করতো, কিন্তু নামপুরুষে গল্প বলতে গিয়ে দেখা যায় যে আমার অপশনগুলো আরও অনেক বিস্তৃত।

যখন আমি উত্তমপুরুষে লিখি, আমি সাধারণত প্রধান চরিত্র (বা বক্তা) কে মোটা দাগে নিজের মধ্যে ধারণ করি। অবশ্যই আমি সত্যি সত্যিই সেই চরিত্রটিতে পরিণত হই না, তবে নিজেকে উক্ত চরিত্রের বাস্তবতা আর প্রসঙ্গের মধ্যে স্থাপন করলে আমার পক্ষে সম্ভব হয় তার মতো করে চিন্তা করা। এভাবে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে আমি নিজের ব্যক্তিসত্তাকে ভিন্ন ভিন্ন ভাগে ভাগ করে ফেলতে পারি। নিজেকে ভাগ করে ফেলে, উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে ছুঁড়ে ফেলে আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি। আমার সঙ্গে অন্যান্য মানুষের, অথবা আমার সঙ্গে বাকি পৃথিবীর মিল-অমিলের বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি। শুরুতে এই ধরনের লেখার পদ্ধতি আমার সঙ্গে ভালোমতো খাপ খেত। এবং আমার লেখা সবচে পছন্দের উপন্যাসগুলিই উত্তমপুরুষে লেখা।

উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক দা গ্রেট গ্যাটসবি'র কথা। উপন্যাসটির নায়ক হচ্ছে জে গ্যাটসবি, কিন্তু উপন্যাসটিতে গৃহীত উত্তমপুরুষের বর্ণনারীতিতে বক্তা হচ্ছে নিক ক্যারাওয়ে। উপন্যাসে নিক এবং গ্যাটসবি চরিত্রদ্বয়ের মধ্যে বক্তব্য বিনিময় এবং উপন্যাসের গল্পের নাটকীয় অগ্রসরায়মানতার মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক ফিৎজজেরাল্ড আসলে নিজের ব্যক্তিগত সত্য সমূহকেই তুলে ধরেছেন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি গল্পের প্রেক্ষাপটে গভীরতা আনায়ন করে। যদিও নিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গল্পের বয়ান কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করে উপন্যাসটির ওপর। নিকের বোঝাপড়ার বাইরে কোনকিছু গল্পে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। ফিৎজজেরাল্ড উপন্যাস রচনার বিবিধ অসাধারণ সব কৌশল প্রয়োগ করে সে সমস্ত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেন। কিন্তু সে সমস্ত কৌশলেরও আবার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে। দিন শেষে দেখা যায় যে ফিৎজজেরাল্ড দা গ্রেট গ্যাটসবির আঙ্গিকে কোনো উপন্যাস পরে আর কখনও লেখেননি।

জে ডি স্যালিঞ্জারের দা ক্যাচার ইন দা রাইও খুবই শৈল্পিকভাবে বয়নকৃত, উত্তমপুরুষে লেখা অসাধারণ একটি উপন্যাস। সেই সেলিঞ্জারও পরে আর কখনও এই একই স্টাইলে আরেকটি উপন্যাস লেখেননি। আমার আন্দাজ হল, দুজন ঔপন্যাসিকই হয়তো এ ব্যাপারটা নিয়ে সচেতন ছিলেন যে, রচনার কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে একই উপায়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আর একটি উপন্যাস রচনা করলেও সেটা শেষমেশ সেই আগের কাজটার পুনরাবৃত্তিতেই পরিণত হবে। আমার মত হল, সম্ভবত তাদের সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল।

রেমন্ড চ্যান্ডলারের মারলো সিরিজের উপন্যাসের মতো ধারাবাহিক উপন্যাসে হয়তো উত্তমপুরুষে উপন্যাস লেখার সঙ্গে জড়িত সীমাবদ্ধতাসমূহ উল্টোভাবে কাজ করে, পাঠককে চরিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে সহায়তা করে, উপন্যাসের বর্তমান বা তার পরের পর্বে মূল চরিত্রের কি হবে না হবে- তা নিয়ে আন্দাজ করতে সহায়তা করে (আমার শুরুর দিকে লেখা "র‍্যাট" সিরিজের গল্পমালাগুলোতেও এই সুবিধাটা আমি পেয়েছি হয়তো)। কিন্তু বিচ্ছিন্ন একটি উপন্যাসে উত্তমপুরুষের বয়ন লেখককে নানারকম সীমাবদ্ধতায় আটকে ফেলে। এ কারণে আমি নানারকম উপায়ে চেষ্টা করেছি আমার উপন্যাসের বক্তব্য বয়নের স্টাইলকে নাড়াচাড়া দিয়ে নতুন একটা পথ আবিষ্কার করে নেবার।

/জেড-এস/
সর্বশেষ খবর
প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত হওয়ার প্রবণতা
প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত হওয়ার প্রবণতা
ভিন্ন সাজের স্টল-প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়
ভিন্ন সাজের স্টল-প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়
কংগ্রেসের ‘ভারতজোড়ো’র প্রসঙ্গ মির্জা ফখরুলের কণ্ঠে
কংগ্রেসের ‘ভারতজোড়ো’র প্রসঙ্গ মির্জা ফখরুলের কণ্ঠে
মুগ্ধতা ছড়ানো বোলিংয়ে মুগ্ধর ৫ উইকেট
মুগ্ধতা ছড়ানো বোলিংয়ে মুগ্ধর ৫ উইকেট
সর্বাধিক পঠিত
উপহারের গাড়িটি অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে মানুষের জন্য ব্যবহৃত হবে: হিরো আলম
উপহারের গাড়িটি অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে মানুষের জন্য ব্যবহৃত হবে: হিরো আলম
বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি
বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি
উপহারের গাড়ি নিতে হবিগঞ্জ যাচ্ছেন হিরো আলম
উপহারের গাড়ি নিতে হবিগঞ্জ যাচ্ছেন হিরো আলম
হিরো আলমের গাড়ি আটকে জরিমানা ও মামলা করলো পুলিশ
হিরো আলমের গাড়ি আটকে জরিমানা ও মামলা করলো পুলিশ
সৌদি আরবে চাকরি: পাঁচ খাতে দক্ষতার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক
সৌদি আরবে চাকরি: পাঁচ খাতে দক্ষতার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক