X
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
৭ বৈশাখ ১৪৩১

আগুনমুখার সন্ধ্যা

ওয়াসীম পলাশ
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২৩:৫৬আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০৭

আগুনমুখা নদীটা সন্ধ্যার আগমুহূর্তে অদ্ভুত একটা রূপ ধারণ করেছে। চারপাশটা পুরো অচেনা মনে হচ্ছে। পশ্চিমের পারটা একটু শুকিয়ে গেলেও পুবে যেন যৌবনের তেজ। আজ এই গোধূলির পূর্বমুহূর্তে কেমন যেন কটু একটা বাতাস বইছে। শরীরে আরাম তো লাগছেই না, বরং অসহনীয় মনে হচ্ছে। পশ্চিমের কূল ঘেঁষে নৌকাটা এগোচ্ছে। মাইল দুই গেলে পর বাঁ পাশে নলবুনিয়া খাল দিয়ে ঘণ্টাখানেক নৌকা বেয়ে থানার ঘাটে পৌঁছানো যায়। আশ্বিনের এই সময়টায় নিদারুণ সংকট এখানকার মানুষের। গাঁও-গেরামের চেহারাটা কেমন যেন বদলে যায়; শ্রীহীন হয়। আজ মনে হয়, ওই দূরের খালের ওপর যে আসমান, তা-ও কেমন যেন বিমর্ষ।

নায়েব আলী চৌকিদারের মনে কেমন একটা ভাবের উদয় হলো; অমনি নৌকার গলুইয়ের সাথে পাছার বিষফোঁড়ার ঘষায় সংবিৎ ফিরে পেল। মনে হলো এই সব ভাব মনে আশ্রয় দেওয়া ঠিক না। চার মাস যাবৎ মাসিক তিন হাজার টাকার ভাতাটাও বকেয়া। হারামজাদা দৌলত চেয়ারম্যানের এ নিয়ে কোনো রা নেই। এই সবের মধ্যে ক্যান যে এই ঝুটঝামেলা উপস্থিত হয়।

হাতের লাঠিটায় ভর দিয়ে নৌকার গলুইয়ে বসে মনু মাঝিরে জিজ্ঞেস করে, ‘কুপি-হারিকেন নায়ে কিছু রাহো?’

‘হ আছে একটা, তেল তো ভরতে পারি নাই।’ উত্তর দেয় মনু মাঝি।

নায়েব আলী একটা অন্ধকার আঁচ করে চুপচাপ সূর্যের শেষ রূপটা দেখতে থাকে।

এই আগুনমুখার মতিগতি মনু মাঝি ভালোই বোঝে; কিন্তু এই উল্টো স্রোতের সাথে দফারফা করতে আজ হিমশিম খাচ্ছে। শরীরে শ্বাসের রোগ বাসা বেঁধেছে। আর কত? সেই যে সংগ্রামেরও আগে নৌকা বাওয়া শুরু—এখনো চলছে। এই নৌকায় মুক্তিবাহিনীর কত মানুষকে পার করেছে মনু মাঝি। আবার সেই সব মানুষ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কীভাবে অচেনা হয়ে গেছে, তা-ও তার কাছে একটা খটকা; কিন্তু কোনো কিছু নিয়ে মনু মাঝির কোনো অভিযোগ নেই। যে ডাকে, তার ডাকেই সে সাড়া দেয়। শুধু একবার ফজলু মিয়াকে নায়ে ওপারে পৌঁছাতে ঘেন্না ধরেছিল নিজের ওপর।

ফজলু মিয়া যেবার শান্তি কমিটির সভাপতি হয়, তার কয়েক দিন পর এলাকায় মিলিটারি আসে। এর কয়েক দিন পর ‘মাসুদ’কে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাসুদ ছিল এই এলাকার সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে এলাকায় একটি হাইস্কুল করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যেই দেশের মানুষ গণ-অভ্যুত্থান আর সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাসুদও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। এলাকার তরুণদের সংগঠিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধে। একাত্তর সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই যে উধাও হয়, আর খোঁজ মেলেনি তার। এখনো একটা কবর কর্ণকাঠি স্কুলের পাশে আছে। সবাই মনে করে ওটাই মাসুদের কবর; কিন্তু মনু মাঝির ভাবনা ভিন্ন। মনু মাঝি মাসুদকে জানত। বয়সে কয়েক বছরের বড়; জ্ঞান আর হৃদয় ছিল আরও অনেক বড়। এ মাটিতে তার কবর হয়নি। মনু মাঝি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে—তাকায় সামনের দিকে।

এই জীবনে মনু মাঝি বহু লাশ বহন করেছে। তার নায়ের পাটাতন যেমন দেখেছে বহু নায়রির দুঃখ-আনন্দ মিশ্রিত আবেগ, আবার সেই মানুষদেরই লাশ হয়ে পড়ে থাকা। জীবন আর মৃত্যুর মাঝে এই যে ক্ষীণ ফারাক, তা মনু মাঝি টের পায়; কিন্তু এর কোনো ব্যাখ্যা তার নাই। মনু মাঝি নিভৃতে সবকিছু শোনে; কিন্তু নিজের বুঝমতো তার কাজটা করে যায়। এই এলাকার মানুষগুলো মনু মাঝিকে পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও এটা বোঝে যে এই মনুই হচ্ছে আদি বাংলার সহজ মানুষের শেষ ছায়া।

মনু মাঝি একটা বিকৃত গন্ধ টের পায়। মানুষের শরীরে পচন ধরে, সে এক বীভৎস গন্ধ, সে গন্ধও মনু নাকে নিয়েছে বহুবার; কিন্তু এই যে গন্ধটা এসে তার নাকে লাগছে, তা তার হৃদয়কে অবশ করে দিচ্ছে।

নেমে আসা সন্ধ্যার নীরবতা ভেঙে মনছুর দফাদার বলে ওঠে, ‘মনু, বইঠাটা একটু জোরে মারো। ঘন আন্দারের আগে যদি নলবুনিয়া খালে যাওন যায়, তয় ভালো অইবে।’

মনু মাঝি কোনো শব্দ করে না। বাইতে থাকে আগের মতোই। মনছুর দফাদার হাতের টর্চলাইটটা জ্বালিয়ে পশ্চিম কিনারের দিকে দু-একবার মারে। এ কূলটা ভালোই দেখা যায়।

মাগরিবের সময়টায় মনু মিয়ার মনে একটা আর্দ্র ভাব সৃষ্টি হয়। ধর্মকর্ম ভালোভাবে না বুঝলেও ফজর আর মাগরিবের নামাজটা পড়ার চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে সূর্য বিদায় নিয়েছে তার নিয়মে; কিন্তু অদ্ভুত এক অন্ধকার দিয়ে গেছে আগুনমুখার এই পশ্চিম পারটায়। মনে হয় কেউ কাউকে চিনতে পারছে না। এই মুহূর্তে পরওয়ারদেগারের দরবারে হাজিরা দেওয়ার চেয়েও থানায় পৌঁছাটা অতিকর্তব্য মনে হয় মনু মাঝির। ক্ষণিকের জন্য মনু মাঝি নিজেকে সঁপে দেয় অজানা এক সত্তায়। কিছুক্ষণ কাটে এভাবেই।

মনছুর দফাদার আবার হাঁকে, ‘মনু, আটটার পর ওসি সাহেবরে আর পাওন যাইবে না, হারা রাইত বইয়া থাওন লাগবে থানায়। আর একটু জোরে বাও।’

আজকের রাতটায় কী কী ঝামেলা হতে পারে, তার একটা সাধারণ চিত্র মনু মাঝি টের পেল। মানুষ যে জীবন পায়, তার সাথে আনন্দ, বেদনা ও জঞ্জাল জড়িয়ে থাকে। কখনো জঞ্জালের মুহূর্তটা দীর্ঘায়িত হয়। জীবনে বহু সমস্যা মনু মাঝি বয়ে বেড়িয়েছে। বেশিরভাগই অন্যের; কিন্তু এই মুহূর্তে তার নায়ে যে রহস্য সে বয়ে চলছে, তা আগুনমুখার এই সন্ধ্যার চেয়েও ঢের অন্ধকারে ঘেরা। এই রহস্যাবৃত্ত অন্ধকার ছাপিয়ে তীব্র এক অন্ধকার ভর করেছে সামছুদ্দিন খাঁর মুখমণ্ডলে। মাথায় টুপি আর গালভর্তি দাড়ির বাইরে যেটুকু বাকি, তাতে কোটরাগত চোখ দুটি ও দুই ইঞ্চি কপাল ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

আসরের সময় সেই যে পয়সারঘাট থেকে নায়ে উঠে শুকনো কাঠের মতো পড়ে আছে নায়ের গলুইয়ে, এরপর আর টুঁ শব্দটাও নেই। মাগরিব পেরিয়ে এক অন্ধকারে ঢেকে গেছে পুরো আগুনমুখার পশ্চিম পার সাথে যেন অদৃশ্য এক শূন্যতায় ছেয়ে আছে সামছুদ্দিন খাঁর ভেতরটা। হোগলাপাতায় মোড়ানো মৃত দেহটার কোন দিকটা পা আর কোন দিকটা মাথা, তা অনুমান করার চেষ্টা করছে সামছুদ্দিন খাঁ। আলতোভাবে স্পর্শ করে লাশটির একটি অংশ। এই হাত না ওই লাশ, কোনটা পাথর হয়ে গেছে, তা ঠাহর করতে পারে না। গতকাল ওই ঘটনার পর প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা চলে গেছে; কিন্তু লাশের কোনো সৎকার হয়নি। আরও কত ঘণ্টা এই লাশ বয়ে বেড়াতে হবে, তা-ও জানে না সামছুদ্দিন খাঁ।

মনু মাঝির নায়ে এই মুহূর্তে পাঁচজন মানুষ, তার মধ্যে একজন লাশ; তা-ও আবার নির্মম হত্যার শিকার। গতকাল তিনি মাগরিবের নামাজ পড়েছিলেন, এখন তিনি হোগলাপাতার চাটাইয়ে মোড়ানো প্রায় অর্ধগলিত লাশ। জলজ্যান্ত একজন মানুষ ঠিক কতক্ষণে একটি অর্ধগলিত লাশে পরিণত হয়, তা সামছুদ্দিন খাঁ ভালোই জানে; কিন্তু সাড়ে চার জৈ্যষ্ঠ জমির জন্য একজন মানুষের জীবনে যে এত কিছু হারানো লাগে, তা তার জ্ঞানে ধরবে না আর কোনো দিন। জ্ঞান আর বুদ্ধির মধ্যে বিস্তর এক ফারাক। এই মুহূর্তে তার জ্ঞান আর বুদ্ধি কোনোটাই কাজ করছে না। এলাকার মানুষজন তাকে খুব বুদ্ধিমান বলেই জানে। তার বুদ্ধির নানান কীর্তি এলাকার মানুষ দেখছে গত বিশ বছর। সবচেয়ে বেশি টের পেয়েছে উত্তর কান্দার ভুঁইয়ারা। ভুঁইয়াদের জানের পানি বহুবার শুকিয়ে দিছে সামছুদ্দিন খাঁ। ওই সাড়ে চার জ্যেষ্ঠ জমির জন্য ভুঁইয়াদের ঘায়েল করতে কোনো কিছু বাকি রাখেনি।

সামছুদ্দিন খাঁ এলাকার একটা মাদ্রাসা থেকে অনেক ফন্দিফিকির করে দাখিল পাস করেছিল। এরপর শ্রীরামপুর দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরির জন্য মতলেব মাওলানা তাকে একটা বিএ পাসের সার্টিফিকেটও জোগাড় করে দিয়েছিল। এই কাজে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছিল সামছুদ্দিন খাঁকে। মাদ্রাসায় বেতন নিয়মিত না হলেও এই শিক্ষকতার নাম করে থানা সদর আর সব জায়গায় একটা মর্যাদা পেত। ওই সময় মাস্টারির মর্যাদায় শিমুলতলীর সাঈদ মাস্টারের মেজ মেয়ে সালমা আকতারকে বিয়ে করেছিল। খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল সালমা আকতার। সালমা মেট্রিক পাস করে কলেজে ভর্তি হয়েছিল। সামছুদ্দিন খাঁ তাকে আর পড়তে দেয়নি। সেখানেই থেমে যায় সালমা আকতারের একটা অধ্যায়।

বছর তিনেক আগে আসলাম ভুঁইয়া শিক্ষা অধিদপ্তরে জাল সার্টিফিকেট ও অন্যান্য দুষ্কর্মের ফিরিস্তি দিয়ে একটা আবেদন করে। পরে অনেক তদবির করে মাদ্রাসার চাকরি থেকে বরখাস্ত করে সামছুদ্দিন খাঁকে। জমির মামলার ক্রোধের সাথে চাকরি হারানোর ক্রোধ মিলে আরও জেদি হয় সামছুদ্দিন খাঁ। কয়েক মাস যাবৎ আচরণ অনেকটা উন্মাদের মতো মনে হচ্ছিল। কয়েক দিন পরপরই জেলা সদরে গিয়ে উকিল-মোক্তারের সাথে পরামর্শ করে এলাকায় এসে বলত, ‘এবার ভুঁইয়াগো জেলের ভাত খাওয়াইয়াই ছাড়মু। ওই সাড়ে চাইর জৈষ্ঠ যদি দখল না করতে পারি, তাইলে আমি জমিরউদ্দী খাঁর পোলা আর নাজিরউদ্দী খাঁর নাতি না।’

মানুষ ভাবে আর একবার যদি সুযোগ মেলে, তাহলে এই ভুল আর করবে না; কিন্তু শেষ মুহূর্ত অবধি তার এই প্রত্যাশা চলতেই থাকে। সে আবার ভুল করে এবং আবারও সুযোগ চায়; কিন্তু এই অন্ধকার সন্ধ্যায় সামছুদ্দিন খাঁ তার শেষ সুযোগটাও হারিয়ে ফেলেছে। নদীর ছোট ছোট ঢেউ এসে নায়ের তলায় আছড়ে পড়ছে এবং কূলে মৃদু আঘাত করছে। অন্ধকারে, এই মুহূর্তে আর কোনো শব্দ নেই। কাছের কয়েকটি বাড়িও প্রায় আধা মাইল দূরে। নৌকাটা নদীর কূল ঘেঁষে এগোচ্ছে।

এই অন্ধকার, মৃত্যু আর চারপাশের রহস্য কেমন জানি একটা জট পাকিয়ে যায় মনু মাঝির মাথায়। একটা হিসাব সে মেলাতে পারে না। সামছুদ্দিন খাঁ তার মা ফুলবানুকে নিয়া জামাইবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিল মাগরিবের পর। ভুঁইয়ারা পশ্চিম ভিটার পাশে ওই সাড়ে চার জৈষ্ঠ খেতের ধারে সামছুদ্দিন খাঁকে না কুপিয়ে তার বুড়া মাকে কেন খুন করবে? সেই অন্ধকারের মধ্যে সামছুদ্দিন খাঁর চিৎকারে লোকজন জানতে পারে যে তার মাকে ভুঁইয়ারা খুন করছে। ধারালো দায়ের দুই কোপে সত্তরোর্ধ্ব ফুলবানুর প্রাণ জায়গায় শেষ। দেহটা সারা রাত ওখানেই পড়েছিল। যদিও রাতে মেম্বার, চৌকিদার, দফাদার ও নরেন ডাক্তার একবার দেখে এসেছিল। সবার মধ্যে কেমন জানি একটা আতঙ্ক। সামছুদ্দিন খাঁ প্রথম কিছুক্ষণ চিৎকার, ডাকাডাকি করে ভুঁইয়াদের নাম ধরে আহাজারি করার পর সেই যে মুখে খিল দিয়েছে আর খোলেনি। এখনো শুকনা কাঠের মতো পড়ে আছে মনু মাঝির নায়ের গলুইয়ে।

/জেডএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে চাকরি
সরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে চাকরি
এখনই হচ্ছে না হকির শিরোপা নিষ্পত্তি, তাহলে কবে?
এখনই হচ্ছে না হকির শিরোপা নিষ্পত্তি, তাহলে কবে?
রবিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
রবিবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
চুয়াডাঙ্গায় ৪২ পেরোলো তাপমাত্রা, জনজীবনে হাঁসফাঁস
চুয়াডাঙ্গায় ৪২ পেরোলো তাপমাত্রা, জনজীবনে হাঁসফাঁস
সর্বাধিক পঠিত
বাড়ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, নতুন যোগ হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের ভাতা
বাড়ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, নতুন যোগ হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের ভাতা
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
ইরান ও ইসরায়েলের বক্তব্য অযৌক্তিক: এরদোয়ান
ইস্পাহানে হামলাইরান ও ইসরায়েলের বক্তব্য অযৌক্তিক: এরদোয়ান
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
দেশে তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি
দেশে তিন দিনের হিট অ্যালার্ট জারি