X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১
বেন ওকরির গল্প

পানি নিয়ে তিনটি রূপককথা

অনুবাদ : কবির চান্দ
১০ নভেম্বর ২০২৩, ১৫:২৪আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ১৭:২৮

তৃষ্ণা

একদিন এক নারী তাকে দেখতে চলে এলো, কারণ সে তার কাছে কয়েকটি চিঠি লিখেছিল, কিন্তু পুরুষটি কখনো উত্তর পাঠায়নি। তারা সোফায় বসল। রমণী তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল:
‘তুমি কেন জবাব দাওনি?’
পুরুষটি ওর দিকে তাকাল।
‘আমি তোমাকে দেখতে এতটা দূর থেকে এসেছি,’ নারীটি বলল।
‘তুমি কী চাও?’
‘তোমার বন্ধু হতে।’
‘তোমার কী মনে হয় এটা সম্ভব?’
‘সম্ভব নয় কেন?’
পুরুষটি চোখ ফিরিয়ে নিল।
‘তুমি তো কিছু বলছ না?’
সে আবার নারীটির দিকে তাকাল। মুখে কোনো কথা নেই।
‘তোমার এই নীরব থাকাটা আমার মাথা খারাপ করে দেয়।’
শেষ পর্যন্ত সে মুখ খুললো।
‘আমার কাছে বন্ধুত্ব মানে সবকিছু। আমি আর এটা হালকাভাবে নিতে পারছি না। এটা অনেকটা কাউকে বিশ্বাস করে তার হাতে নিজের হৃদপিণ্ড তুলে দেয়ার মত।’
বলেই সে একটু থামল। তারপর আবার বলল, ‘যদি আমার হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে এনে তোমাকে দেই, তুমি কী তার যত্ন নিতে পারবে?’
পুরুষটি বুক থেকে কিছু একটা ছিঁড়ে আনার মত করে হাত চালাল, তারপর নিজের হৃদপিণ্ডটা সামনে তুলে ধরল। নারীটি তার হাতের দিকে তাকাল।
‘এটা ভয় জাগাচ্ছে।’
‘আমি জানি।’
‘তুমি কী আমার জন্য এটা করবে?’ রমণী জিজ্ঞেস করল।
‘জীবন দিয়ে হলেও, যদি তুমি বন্ধু হতে।’
‘তোমার কী অনেক বন্ধু?’
‘না।’
‘ও।’
পুরুষটি হাসল। তারপর বলতে থাকল:
‘আমার মা আমাকে এক নিঃসঙ্গ রাজপুত্রের গল্প বলেছিলেন। রাজপুত্র হবার কারণে তার জন্য সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। সে একজন জ্ঞানী ব্যক্তির সাহায্য চাইল। তিনি তাকে বলেছিলেন, তোমার বন্ধুদের মধ্যে যে কেবল নিজের হাত দিয়েই নদী থেকে একটুও না ফেলে পানি নিয়ে আসতে পারবে, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা কর....। মা গল্পটা শেষ করেননি।’
‘তিনি কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?’
‘আমি নিশ্চিত নই।’
‘আমি চেষ্টা করে দেখি?’
‘সত্যি? এখনই?’
‘তোমার কী বালতি আছে?’
‘হ্যাঁ।’
‘এটা পানিতে ভরে নিয়ে চল বাইরে যাই। আমি রাস্তার এক প্রান্তে চলে যাব এবং তুমি মাঝ বরাবর থাকবে। প্রথমে আমি দেখব খালি হাতে তোমাকে পানি এনে দিতে পারি কিনা। তারপর তোমার পালা।’
‘আমার পরীক্ষার দরকার আছে?’
‘নিশ্চয়ই, এ শর্ত তো তুমিই দিয়েছ। আমি সেটা পূরণ করতে চাই।’
‘কিন্তু এটা তো তোমার চাহিদা নয়। এটা আমার। তোমারও নিশ্চয়ই চাওয়া আছে।’
‘আমি তোমার মায়ের মত অত বুদ্ধিমতী নই। আমি তোমারটাই গ্রহণ করব।’
পুরুষটি উঠল এবং বালতিতে পানি ভরলো। তারা ঘর থেকে বের হয়ে খালের পাড় ধরে হাঁটতে থাকল।
তারা একটা জায়গা খুঁজে পেল যেখানে রমণীটি দাঁড়াতে পারবে। পুরুষটি বেশ খানিকটা দূরে চলে গিয়েছিল। নারীটি হাত নেড়ে তাকে থামতে ইশারা করল এবং সে থামল। রমণীটি এবার চলতে শুরু করল। সে যতক্ষণে পুরুষটির কাছে পৌঁছুল, দেখা গেল তার গুটিয়ে রাখা তালুতে তখনো কিছুটা পানি রয়ে গেছে।
‘তুমি এটা দিয়ে কী করতে চাও?’ নারীটি জিজ্ঞেস করল।
‘চলো আমরা ভান করি যে, আমি তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছি, আর তুমি আমার জন্য এ পানিটুকু নিয়ে এসেছ।’
রমণীটি তার অঞ্জলি পুরুষটির মুখে ধরল এবং সে পান করল। এবার তার পালা।
পুরুষটি যখন শিশু ছিল তখন তার মা তাকে শিখিয়েছিলেন কেমন করে দু-মুঠো এক করে কাপের মত আকৃতি তৈরি করলে পানি বের হতে পারে না।
‘মনে রেখ এমনও মুহূর্ত আসে যখন কয়েকটি ফোঁটা পানি কারও জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে,’ তার মা তাকে বলেছিল।
সে অর্ধেক পথ পেরিয়ে বালতির কাছে গেল। দুহাতের মুঠোয় কিছু পরিমাণ পানি নিলো। তারপর নারীটির দিকে হাঁটতে লাগল। চারপাশের পৃথিবী মরুভূমির মরীচিকার মত ঝিকিমিকি করছিল। দালানগুলো, গাড়িগুলো এবং রাস্তাটা যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। তার সামনে শুধু তৃষ্ণায় ছটফট করা সেই নারী। সে তাড়াহুড়া করল না। তার মা তাকে শিখিয়েছিল যে, এরকম অবস্থায় শান্ত থাকতে হয়। সে স্থিরভাবে হাঁটছিল। তার মুঠো থেকে এক ফোঁটা পানিও চুঁইয়ে পড়ল না। আশপাশের লোকজনের কাছে মনে হলো সে বুঝি ঘোরের ভেতর হাঁটছে। রাস্তার গাড়িগুলো তাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল। তার চোখে ঘাম ঢুকল, কিন্তু সে পাতাও ফেলল না। এভাবে সে তার সামনে পৌঁছুল। রমণীটি মাথা নিচু করে পানি খেল। কিন্তু পানির যেন শেষ নেই। তৃষ্ণা পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত সে পান করল। কিন্তু তারপরও তার হাতে পানি রয়ে গেল।
‘তোমার পানি খাওয়া শেষ হয়েছে?’
‘হ্যাঁ।’
বাকিটা পুরুষটি খেল।
‘তুমি এটা কোথায় শিখলে?’
‘কোনটা?’
‘এই যে হাতের মুঠোয় পানির ধারা জিইয়ে রাখা?’
‘আমি নই, তোমার তৃষ্ণাই তা জিইয়ে রেখেছে।’
‘তুমি কী বলতে চাও?’
‘তোমার ভীষণ তৃষ্ণা পেয়েছিল। আমি যে সামান্যটুকু এনেছিলাম, তাকেই সে অনেক বানিয়ে নিয়েছে।’
‘আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম। তুমি অনেক সময় নিয়েছ। তুমি পৌঁছুতে পৌঁছুতে যদি আমি মরে যেতাম?’
‘আমি তাড়াহুড়া করতে পারতাম। কিন্তু তাতে হয়তো কোনো পানিই অবশিষ্ট থাকত না।’
‘তোমার চিন্তাই করতে পারবে না কত গরম পড়েছিল। যেন মরুভূমি।’
‘মরুভূমি কী তুমি জানো?’
‘হ্যাঁ,’ চারপাশে তাকাতে তাকাতে মেয়েটি উত্তর দিল।

জ্ঞান

হলঘর ঠাসা হয়ে গিয়েছিল। লোকজন কয়েক সপ্তাহ ধরেই বক্তৃতাটার বিষয়ে জল্পনাকল্পনা করছিল। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টি কখনোই বিদ্বান ব্যক্তিদের সামনে কথা বলার জন্য এমন একজনকে আমন্ত্রণ জানায়নি। অনুষদের ডিন আশা করেছিলেন যে, এমন নৈরাজ্যবাদী সময়ে, বহিরাগত কেউ হয়তো বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার অবস্থা সম্পর্কে একটা উপকারী বিতর্ক উস্কে দিতে পারবে।

বক্তা উপস্থিত হলে ডিন অবাক হলেন। তিনি যা ভেবেছিলেন এ তরুণী তার চেয়ে কম বয়সী। তার বয়স এতই কম যে, ডিনের মনে শঙ্কা তৈরি হলো। কী হবে যদি বক্তৃতার আয়োজনটা মাঠে মারা যায়? লোকজনের সামনে তিনি বোকা সাজবেন, এমনকী তার পদও কেড়ে নেয়া হতে পারে।

কিন্তু বক্তৃতা শুরুর সময় হয়ে গিয়েছিল। তিনি এমন সাদামাটাভাবে বক্তার পরিচয় করিয়ে দিলেন যেন তাকে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। এবং পরিচয়পর্ব শেষ করেই মঞ্চ থেকে পালিয়ে গেলেন। বক্তা কেবল একটি অনুরোধ করল। সে সামনে রাখা ঢালু পিঠের বক্তৃতার টেবিলটা সরিয়ে তার বদলে একটা সাধারণ টেবিল, একবাটি পানি আর একটা স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস চাইলো।

বক্তা সামনে এগিয়ে এসে উপস্থিত লোকদের দিকে তাকাল। অনেকের মুখেই অবজ্ঞার ছাপ স্পষ্ট। সন্দেহ থেকে সমস্ত পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠেছে। এমন কী কেউ কেউ ব্যাপারটাকে একটা অমার্জনীয় ঠাট্টা হিসেবেও ভাবছে। সে হাসল।
‘সবাই কী আমাকে দেখতে পাচ্ছেন?’ সে জিজ্ঞেস করল।
কেউ একজন খিক খিক করে হেসে উঠল। এটা বাদ দিলে হলের এপাশ থেকে ওপাশ জুড়ে একটা মৃদু সম্মতিসূচক শব্দ শোনা গেল।
‘ভালো,’ বক্তা বলল। ‘তাহলে আপনারা পরে আর বলতে পারবেন না যে, আমাকে দেখতে পাননি।’
সে পানিভর্তি বাটিটাকে উপরে তুলে ধরল, যেন অলৌকিক কিছু দেখাতে চাইছে। তারপর বাটি থেকে গ্লাসে পানি ঢাললো। ট্যাপ থেকে যেমন পানি পড়ে গ্লাস থেকে তেমন করে পানি পড়তে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ফ্লোর পানিতে ঢেকে গেল। দর্শকদের কেউ একটা কথাও বলল না।
*
প্রথমে তারা ব্যাপারটা আমোদের সঙ্গে দেখছিল, কেননা তারা এটাকে একটা মার্কামারা বোকামি ভেবেছিল। তারপর তারা অবাক হলো এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মনে আতঙ্ক দেখা দিল। মেঝের পুরোটা জুড়ে পানি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ধীরে ধীরে দেয়ালের নিচের অংশের ঢাকনাটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে বৈদ্যুতিক সকেট লাগানো আছে। সামনের দিকের আসনে বসা লোকগুলো তাদের পা গুটিয়ে উপরে তুলল। মেয়েটির মুখের সৌম্য ভাবের কোনো পরিবর্তন হলো না। সে পানি ঢালতেই থাকল।
শেষ পর্যন্ত দর্শন বিভাগের একজন, যার মুখে অযত্নে বেড়ে ওঠা দাড়ি, সে আর সহ্য করতে পারল না।
‘খোদার দোহাই, ওহে নারী,’ সে চিৎকার করে বলল, ‘তুমি কী দেখতে পাচ্ছো না যে, তুমি ঘর বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছো?’
তখন সেই বক্তা রমণী থামল। বাতাসে কিছু একটা যেন ভেসে চলে গেল।
‘বন্যা কোথায়?’
তার পায়ের চারপাশের মেঝে শুকনো। সে বাটিটা নামাল এবং গ্লাসের বাকি পানিটা খেয়ে নিল। সে হলের ভেতরটায় চোখ ঘুরাল, যেখানে জ্ঞানজগতের সেরা মগজগুলো ভিড় করে আছে। তাদের চেহারায় এইমাত্র ঘটে যাওয়া ব্যাপারটা বুঝতে না পারা এবং বিস্মিত হবার ছাপ। অবশ্য একটা পাতলা পর্দা দিয়ে তা ঢেকে রাখার চেষ্টাও আছে।
বক্তা মাথা নুইয়ে অভিবাদন জানাল এবং মঞ্চ থেকে নেমে গেল। তার পেছনে প্রচণ্ড করতালির ঢেউ বয়ে গেল। সে দরজা দিয়ে হলঘরের বাইরে এলো, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেও বের হয়ে গেল। সে আর কখনো এখানে ফিরে আসেনি।
যে ডিন তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হয়ে গেলেন এবং দুবছর পর শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে নাইটহুড খেতাব দেওয়া হয়েছে।

ভালোবাসা

ছোটোবেলায় আমি আমাদের শহরের নদীটার সঙ্গে কথা বলতাম।
‘তুমি কেমন আছ?’ একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।
‘খুব একটা ভালো না।’
‘ওমা, কেন?’
‘একটা সময় ছিল যখন তোমাদের লোকগুলো আমাকে দেবতা হিসেবে পুজো করত। তখন আমার পানি ছিল পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ, তখন শিশুরা আমার বুকে খেলা করত, আর সুন্দর তরুণীরা পানি নিতে আসত। শহরবাসীরা প্রতিবছর উৎসব করত এবং আমাকে নিয়ে গান তৈরি করত। তখন আমি বেশ বড় একটা নদী ছিলাম।’
‘পরে কী হলো? তুমি তো এখন আসলেই অনেক ছোটো হয়ে গিয়েছ।’
‘কলকারখানা তৈরি হলো আর আমার বুকে নানান জিনিস ফেলা শুরু হলো। আমার স্রোত গতি হারিয়ে ফেলল আর মৎস্যকন্যারা আমার বুকে জলকেলি করতে আসা বন্ধ করে দিল। শহরবাসীরা আমাকে নিয়ে আর গান বাঁধেনি। তারপর একেবারেই ভুলে গেল।’
‘আমি ভুলিনি। তুমি এখনো আমার বন্ধু।’
‘সে জন্যই আমি এখনো এখানে আছি। কিন্তু আমি চলে যাচ্ছি। আরও আগেই চলে যেতাম। কেবল তোমার বড় হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম।’
‘তুমি কোথায় যাচ্ছ?’
‘তাতে কী কিছু আসে যায়? একবার দেবী হিসেবে পুজো পেলে তুমি নিশ্চয়ই আবার ডোবা হতে চাইবে না, যা আমি হয়েছি।’
‘কিন্ত আমি তোমার অনুপস্থিতি অনুভব করব।’
‘এই ভুলোমনা শহরে তুমি যখন তোমার ছেলেবেলার কথা ভাববে, তুমি অন্তত আমাকে একটা সত্যিকারের নদী হিসেবে মনে রাখবে। একজন লোকের মনেও আমার স্মৃতি তাজা থাকতে থাকতে বিদায় নিতে চাই।’
‘এটা শুনে সত্যিই দুঃখ পেলাম। কোথায় যাচ্ছ আমাকে বলে যাও, যেন তোমাকে দেখতে যেতে পারি।’
‘আমি মুক্ত হতে যাচ্ছি। কোনো কিছু থাকলে তোমাদের লোকগুলো ধরে নেয় যে, থাকাটাই স্বাভাবিক। না থাকলে তখন তারা সম্মান দেখায়। ধর্ম তৈরি করে। অন্যদিকে কোনোকিছু আছে এবং থাকারই কথা ধরে নিলে তারা ভয়ানক সব কাণ্ড করতে থাকে।’
‘যেমন?’
‘তাতে তারা তাদের নর্দমার মুখ খুলে দেয়। এটাকে তারা বলে যথাযথ ব্যবহার। কোনো কিছু না থাকলেই যেন তোমাদের লোকগুলোর জন্য ভালো।’
‘এই দুঃখেই কী তুমি চলে যাচ্ছ, তোমাকে ঠিকমত সম্মান করা হচ্ছে না বলে? তাই যদি হয়, আমি ...’
‘কোনো কিছু তখনই থাকে যখন তাকে ভালোবাসা হয়। আমি উদাসীনতা সইতে পারি না। আর এটাই হলো আমার সকল দুর্ভোগের এবং আমার বুকে বিষাক্ত সব আবর্জনা ফেলার মূল কারণ। কেউই আমাকে ঘেন্না করে না। এটা শুধু এই যে, আমার বিষয়ে তাদের কিছু যায় আসে না।’
নদীটা কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকল। তারপর বলল:
‘তুমি আমাকে শেষবারের মতো দেখছ। আমাদের ভাগ্য একসূতায় গাঁথা। আমি চলে যাবার পর তুমিও আর এখানে ফিরে আসবে না।’
‘সেটা কেন?’
‘কোনো একদিন তোমার মাতা-পিতা মারা যাবে। তখন আর কী থাকবে? কেবল এই অনুভূতিটা থাকবে যে, তোমার যত্ন নেয়ার কেউ নেই। একমাত্র আমিই তোমাকে লালন করতে পারতাম, তোমার ছেলেবেলায় যেমনটা করেছি। আমি যখন চলে যাব, তখন এই শহরটা মরে যাবে।’
আমি আর কখনো নদীর গলা শুনিনি। আমি বড় হলাম এবং বিশ্বময় ঘুরে বেড়ালাম। শেষবার যখন এসেছিলাম, নদীটাকে দেখতে পাইনি। ওটা চলে গেছে। আর, শহরটা ছোটো হয়ে গেছে।
যেখানেই যাই, আমি এখনো সবখানেই সেই নদীটাকে খুঁজে ফিরি।

(ইংরেজিতে ‘থ্রী প্যারাব্যলস অ্যাবাউট ওয়াটার’-এর অনুবাদ)

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্পী উৎসব
ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্পী উৎসব
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
তরুণদের নিয়ে বেসিস নির্বাচনে সোহেলের টিম স্মার্ট
তরুণদের নিয়ে বেসিস নির্বাচনে সোহেলের টিম স্মার্ট
তীব্র গরমেও শীতল করমজল!
তীব্র গরমেও শীতল করমজল!
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?