১.
লাস্ট বাস যখন মাজার রোডের মোড়ে থামলো, অর্ণব নেমে পড়লো বাস থেকে। এখান থেকেই তার বাসায় যাওয়া সহজ। ঠিক তখনি ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। রাত তখন এগারোটা। অবশ্য আজ ফিরবে সে ভাবতেই পারেনি। যত দুর্যোগই হোক, নিজের ঘরে ফিরতে পারলে এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্যের বোধ অনুভূত হয়, মুক্তির স্বাদ পাওয়া যায়। ঘরে ফেরার আনন্দই আলাদা। তাই তো কবি লিখেছেন: "Home, Sweet Home" কবিতাটি—
Mid pleasures and palaces though we may roam,
Be it ever so humble, there’s no place like home;
ছাতা মাথায় দিয়ে মাইলখানেক পথ স্বপ্নের মতো নিমেষে হেঁটে চলে এলো বাসায় অর্ণব।
বাড়ির সামনে এসে দেখলো সে, দরজাটা হাট করে খোলা। ডাইনিং আলো জ্বলছে মৃদু সাদা আলো। বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। এ এক আশ্চর্য ঘটনা। আর এমন ঘটনা প্রায়ই এখন ঘটছে তার সাথে।
ঘরে ঢুকেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এলো অর্ণব। দূরের ল্যাম্পপোস্টের আলো তেরচাভাবে তার বারান্দায় এসে পড়েছে। অনেকখানি লম্বা বারান্দায় আলো আর অন্ধকার যেন পাশাপাশি শুয়ে আছে। গ্রিলে জড়িয়ে আছে মানিপ্ল্যান্টের লতা। ডগাগুলো হালকা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। যেন অসংখ্য সাপ তার চারপাশে ফণা দোলাচ্ছে।
পূর্ব দিকের কোণের ঘরটায় থাকে অর্ণব। হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকতেই একটা বিকট দূষিত গন্ধ নাকে এলো। অর্ণব তাড়াতাড়ি ঘরে এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করলো। হাতমুখ ধুয়ে, কাপড় ছেড়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই তার ঘুম চলে এলো। অফিসের নিচের ফ্লোরে রেস্তোরাঁয় সে খেয়ে নিয়েছে। তাই খাওয়া ঝামেলা হলো না এখন। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়াটাই এখন জরুরি ছিল। কিন্তু না, তার নিশ্চিত ঘুম হয় না ইদানীং। অদ্ভুত সব ঘটনা তার সাথে ঘটছে মায়া মারা যাবার পর থেকে।
রাত তিনটা সাতচল্লিশ। অর্ণবের ঘুম ভেঙে গেল আচমকা।
ঘড়ির কাঁটাটা ঠিক ওই সময়টাতেই থেমে আছে।
অন্তত অর্ণবের কাছে।
বাস্তবে ঘড়িটা বহুদিন আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাটারি খুলে রাখা। তবু প্রতি রাতেই ঘুম ভেঙে গেলে অর্ণব দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখে—ঘড়ির কাঁটা তিনটা সাতচল্লিশে স্থির।
আর ঠিক তখনই দরজায় তিনবার শব্দ হয়।
ঠক
ঠক
ঠক
প্রথম রাতে অর্ণব ভেবেছিল, বাতাস।
দ্বিতীয় রাতে ভেবেছিল, পাশের ফ্ল্যাটের শব্দ।
তৃতীয় রাতে দরজা খুলে সে দেখেছিল—
কেউ নেই।
শুধু করিডোরের হলুদ আলোটা জ্বলছে।
তারপর সে শুনেছিল সেই কণ্ঠ।
“অর্ণব।”
একটা মাত্র শব্দ।
কিন্তু সেই একটি শব্দই তার সমস্ত শরীরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
কারণ কণ্ঠটা আর কারও নয়।
"মায়ার।"
যে মানুষটি ছয় মাস আগে মারা গেছে।
২.
অর্ণব আর মায়ার প্রেমের শুরুটা খুব সাধারণ ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে।
মায়া সবসময় জানালার পাশের টেবিলে বসত। অর্ণব বসত তার ঠিক বিপরীতে। প্রথম তিন মাস তারা কথা বলেনি।
চতুর্থ মাসে অর্ণব একটা কাগজ এগিয়ে দিয়েছিল।
তাতে লেখা— “আপনি কি প্রতিদিন একই বই পড়েন, নাকি একই মানুষটাকে দেখেন?”
মায়া হেসে ফেলেছিল।
সেদিনই প্রথম কথা।
তারপর ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক তৈরি হলো, যার কোনো আনুষ্ঠানিক নাম তারা কখনো দেয়নি। মায়া বলতো, “সব প্রেমের নাম দরকার হয় না।” অর্ণব বলতো, “তাহলে আমাদের প্রেমের নাম কী?”
মায়া জানালার বাইরে তাকিয়ে বলতো, “অপেক্ষা।” অর্ণব বুঝত না।
পরে বুঝেছিল।
তাদের প্রেম আসলে অপেক্ষাই ছিল।
একসঙ্গে থাকার অপেক্ষা।
একদিন একটা ছোট্ট বাড়ি করার অপেক্ষা।
বৃষ্টির দিনে বারান্দায় বসে চা খাওয়ার অপেক্ষা।
আর সবচেয়ে বেশি— “একদিন তোমাকে বিয়ে করব”—এই কথাটার সত্যি হওয়ার অপেক্ষা।
কিন্তু সেই দিন আর আসেনি।
৩.
মায়া মারা যায় বর্ষার এক সন্ধ্যায়।
হাসপাতালের করিডোরে বসে অর্ণব তার হাত ধরেছিল।
মায়া তখন খুব দুর্বল ছিল। শরীর শুকিয়ে ফিনফিনে হয়ে গিয়েছিল। চোখ দুটো প্রায় বন্ধ। তার ব্রেস্ট ক্যানসারের শেষ স্টেজ ছিল।
অর্ণব কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, “তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না।” মায়া চোখ মেলে তাকিয়েছিল।
খুব কষ্ট করে হেসেছিল।
“আমি কোথায় যাব অর্ণব?”
অর্ণব অসহায় ভঙ্গিতে বলেছিল— “তুমি মরে গেলে?”
আমি থাকবে পারব না একা একা।
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করেছিল।
তারপর বলেছিল, “তাহলে আমাকে দেখতে পাবে সব সময় তোমার পাশেই।
অর্ণব রাগ করে বলেছিল,
“মিথ্যে কথা বলো না।”
অর্ণব তার হাতটা একটু শক্ত করে ধরেছিল।
“আমি মিথ্যে বলছি না।”
সেটাই ছিল তাদের শেষ কথা।
তারপর মনিটরের শব্দটা একটানা হয়ে গিয়েছিল।
ছয় মাস পর অর্ণব আবার মায়াকে দেখতে শুরু করল।
প্রথমে আয়নায়।
একদিন সকালে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে হঠাৎ সে দেখল, তার পেছনে মায়া দাঁড়িয়ে।
লাল শাড়ি, লাল লিপস্টিক যেন অপরুপা। চুলগুলো এলোমেলো কোমর পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাওয়া।
চোখে গাঢ় করে কাজল টানা সাথে মুচকি হাসি।
চেনা হাসি।
অর্ণব একমুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।
তারপর পেছনে তাকাল।
কেউ নেই।
আয়নায় তাকাতেই—কেউ নেই। অর্ণব নিজেকে বোঝাল, “ঘুম ঠিকমতো হয়নি।”
পরের দিন রান্নাঘরে কাপের শব্দ শুনল।
একটা কাপ টেবিলের ওপর রাখা। মায়া যখন বাসায় আসতো হুটহাট তখন রান্না ঘরে গিয়ে চা বানাত।
মায়া সবসময় যে কাপটায় চা খেত, ঠিক সেই কাপ।
অর্ণব কাপটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর নিজের মনকে বলল, “এটা আমি নিজেই রেখেছি।”
কিন্তু সে জানত—সে রাখেনি।
৪.
তারপর ঘটনাগুলো নিয়মিত হতে লাগল।
বিকেলে জানালার পাশে মায়াকে দেখা যেত।
রাতে বইয়ের তাক থেকে একটা নির্দিষ্ট বই পড়ে যেত।
বাথরুমের আয়নায় ভেজা কুয়াশার মধ্যে লেখা উঠত—"অর্ণব।”
কখনো ফোনে মায়ার পুরোনো রিংটোন বেজে উঠত।
ফোন হাতে নিলে কোনো কল থাকত না।
একদিন রাতে অর্ণব স্পষ্ট শুনল—“এই চা খাবে?” বলেই বিছানা থেকে উঠে রান্নাঘরে গেল।
দুটি কাপ বের করল।
চা বানাল।
এক কাপ নিজের সামনে রাখল।
অন্য কাপটা অর্ণবের জন্য।
তারপর ফিসফিস করে বলল,
“এসো।”
কেউ এলো না।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর পাশের চেয়ারটা আস্তে করে নড়ে উঠল। অর্ণবের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে তাকিয়ে রইল।
চেয়ারটা ধীরে ধীরে স্থির হয়ে গেল।
তারপর খুব পরিচিত একটা গন্ধ ভেসে এলো।
মায়ার ব্যবহার করা পুরোনো পারফিউমের গন্ধ। অর্ণবের চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করল।
“তুমি আছ?”
নীরবতা।
“মায়া?”
কেউ উত্তর দিল না।
কিন্তু তার মনে হলো—
কেউ যেন খুব আস্তে তার মাথায় হাত রাখল।
পরদিন অর্ণব একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেল।
ডাক্তার অনেকক্ষণ তার কথা শুনলেন।
তারপর বললেন,
“আপনি যে অভিজ্ঞতার কথা বলছেন, শোকের পরে এমন হওয়া অসম্ভব নয়।”
অর্ণব তাকিয়ে রইল।
“মানে?”
“এটাকে বলা হয় bereavement hallucination। প্রিয় মানুষ মারা যাওয়ার পর অনেক মানুষ তাকে দেখতে, শুনতে বা তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। এটা সবসময় মানসিক রোগের লক্ষণ নয়। তীব্র শোক ও মস্তিষ্কের স্মৃতি-প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।”
অর্ণব কিছু বলল না।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন,
“আপনি কি তাকে ভয় পান?”
অর্ণব মাথা নাড়ল।
“না।”
“তাহলে?”
অর্ণব অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল, “আমি ভয় পাই একদিন যদি তাকে আর দেখতে না পাই। ঘরে ঢুকেই তার উপস্থিতি যদি অনুভব না করি।”
ডাক্তার কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন, “হয়ত আপনার মন এখনও বিদায় নিতে পারেনি।”
৫.
সেদিন রাতে মায়া আবার এলো। অর্ণব উদাসভাবে জানালার পাশে বসে ছিল। যেন অনন্ত চিন্তা নিয়ে সে বাকী জীবন শেষ করবে এভাবেই।
বাইরে বৃষ্টি। ঝিরিঝিরি বাতাসের ঝাপটায় বৃষ্টির ছিটা তার মুখে এসে পড়ছে।
হঠাৎ পেছন থেকে মায়ার কণ্ঠ— “এত কাঁদছ কেন?”
অর্ণব চোখ বন্ধ করল। বলল, “কারণ তুমি নেই।” মায়া বলল, “আমি তো আছি।” অর্ণব ঘুরে তাকাল।
মায়া মুচকি হেসে দাঁড়িয়ে আছে।
একই মুখ।
একই চোখ।
একই হাসি।
কিন্তু এবার অর্ণব জানত "মায়া" বাস্তবে নেই।
তবু সে উঠে দাঁড়াল।
“তুমি কি সত্যিই আমার সঙ্গে কথা বলছ?”
মায়া হাসল।
“তুমি কী মনে করো?”
“তুমি কি আমার মনের মধ্যে?”
“হয়ত।”
“তাহলে তুমি সত্যি নও?”
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল, “সত্যি বলতে কী অর্ণব—তোমার কাছে আমি যতটা সত্যি, তার চেয়ে বেশি সত্যি আর কোথায় হব?” অর্ণবের চোখ ভিজে গেল।
“আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই না।”
“ভুলে যেও না।”
“তাহলে?”
“আমাকে ছেড়ে দাও।”
অর্ণব অবাক হয়ে তাকাল।
“কীভাবে?” মায়া জানালার দিকে তাকাল।
“আমাদের যে ভবিষ্যৎ ছিল, সেটা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তোমার ভবিষ্যৎ তো শেষ হয়নি। অর্ণব মাথা নাড়ল।
“আমি পারব না।”
মায়া বলল, “পারবে।”
“আমাকে ছাড়া তোমাকে বাঁচতে শিখতে হবেই। কেউই চিরকাল থাকা না অর্ণব।
অর্ণব তার দিকে তাকাল।
“আমাকে সঙ্গে নিয়েই।”
সেদিন রাতে অর্ণব প্রথমবার মায়াকে জড়িয়ে ধরতে গেল।
তার হাত দুটো বাতাসের মধ্যে চলে গেল।
কেউ ছিল না।
শুধু বৃষ্টির গন্ধ।
আর পুরোনো পারফিউমের হালকা সুবাস।
অর্ণব মেঝেতে বসে কাঁদতে লাগল।
কিন্তু সেই কান্নার মধ্যে অদ্ভুত একটা শান্তি ছিল।
কারণ সে বুঝেছিল—মায়া ফিরে আসেনি।
ফিরে এসেছে তার স্মৃতি।
তার ভালোবাসা।
তার সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত।
আর মানুষের মন কখনো কখনো এত গভীরভাবে ভালোবাসে যে, বাস্তবতা চলে যাওয়ার পরও স্মৃতিকে কিছুদিন জীবন্ত রাখে।
৬.
এক বছর পর।
অর্ণব সেই পুরোনো বাড়ি ছেড়ে নতুন একটা বাসায় উঠেছে।
দেয়ালে নতুন ঘড়ি।
নতুন পর্দা।
নতুন বই।
শুধু একটা জিনিস পুরোনো—মায়ার ছবি।
ছবিটা সে টেবিলের ওপর রেখেছে।
প্রতি বছর মায়ার জন্মদিনে সেখানে একটা ফুল রাখে।
কিন্তু আর তার সঙ্গে কথা বলে না।
একরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল।
ঘড়িতে সময়—৩টা ৪৭। অণর্ব স্থির হয়ে গেল।
তারপর—
ঠক
ঠক
ঠক
দরজায় তিনবার শব্দ।
তার বুকের ভেতর পুরোনো কষ্টটা ফিরে এলো।
সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
হাত বাড়াল।
তারপর থেমে গেল।
দরজা খুলল না।
কিছুক্ষণ পর শব্দটা আর হলো। অর্ণব জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
বাইরে ভোরের আলো ফুটছে।
আকাশের কালো রং ধীরে ধীরে নীল হয়ে আসছে।
সে মায়ার ছবিটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, “তুমি এসেছিলে?”
কোনো উত্তর নেই। “নাকি আমি তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম?” নীরবতা।
অর্ণব চোখ বন্ধ করল।
তার মনে হলো, খুব দূর থেকে মায়া বলছে— “দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী?”
অর্ণবের ঠোঁটে হাসি ফুটল।
চোখের কোণে পানি জমল।
সে জানত—
মায়া ফিরে আসেনি।
সে জানত—
তার কণ্ঠ বাস্তব নয়।
সে জানত—
তার দেখা মানুষটি হয়তো তার নিজের শোকের তৈরি এক প্রতিচ্ছবি।
তবু ভালোবাসার কিছু সত্যি আছে, যেগুলোকে বাস্তব প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না।
কারণ মানুষ চলে যায়।
কণ্ঠ থেমে যায়।
স্পর্শ হারিয়ে যায়।
কিন্তু কোনো কোনো ভালোবাসা মানুষের মস্তিষ্কের গভীরে এমনভাবে থেকে যায় যে, মৃত্যুর পরও সে ভালোবাসা মাঝে মাঝে দরজায় কড়া নাড়ে।
মায়া শেষবারের মতো অর্ণবের ছবির দিকে তাকাল।
তারপর জানালাটা খুলে দিল।
ভোরের বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ল।
মায়ার ছবির পাশে রাখা শুকনো ফুলটা একটু নড়ে উঠল। অর্ণব আর ফিরে তাকাল না।
কারণ এবার সে জানে—
ভালোবাসার অর্থ মৃত মানুষটাকে আটকে রাখা নয়।
ভালোবাসার অর্থ কখনো কখনো তাকে যেতে দেওয়া।
আর নিজের ভেতরে তার জন্য একটি ছোট্ট ঘর রেখে—
নিজের জীবনটাও আবার শুরু করা।
সেদিনের পর আর কখনো রাত তিনটা সাতচল্লিশে দরজায় শব্দ হয়নি।
কিন্তু অর্ণব জানত,
কোনো কোনো দরজা একবার বন্ধ হয়ে গেলেও—
তার ওপাশে ভালোবাসা চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে।