করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
খুব সম্ভবত এটা একটা গল্প, তবে গল্পটা মনে হয় ঠিক গল্প না। দেখেন, আমি হাবিজাবি গল্প লিখি; তবে আমিও তো মেয়েই। মেয়ে না? তবে কপাল ভালো, আমি অন্তত বউ না। সায়েদার মতো বউ না। সায়েদা তোয়েবের বউ ছিল, শিকদার বাড়ির বউ ছিল। শিকদারদের মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই। বাড়ির বউকে তারা বাইরে চাকরিবাকরি করতে দেয়। তারপর মাস গেলে বউয়ের রোজগারের পুরো টাকাটা গুনে গুনে নিয়ে নেয়। তারপর কখনো ওই টাকার প্রসঙ্গ উঠলে কাজ করা বউটাকে খারাপ কথা বলে গালাগাল করে।
সায়েদাকেও করত।
সায়েদার দুইটা বাচ্চা হয়েছিল;এক ছেলে, এক মেয়ে। সায়েদা মোটামুটি ভালো বউ ছিল।
ভোর থাকতে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নিত, তারপর অতবড় পরিবারের সবার জন্য সকাল আর দুপুরের রান্না সারত। বাচ্চাদের খাওয়াতে ভুল হলেও, স্বামী আর সংসারের অন্যদের পাতে বেড়ে খাওয়াতে ভুল করত না। সবার খাওয়া হলে থালাবাসন হাড়িপাতিল মেজে কটন ফ্যাক্টরিটায় চলে যেত। সারাদিন কাজ শেষে ফিরে আবার রাঁধতে বসত, ঘর উঠান ঝাড় দিত।
মাঝরাতে তোয়েব যখন ব্লাউজের বোতাম খুলতে হাত লাগাত, শরীরে না কুলালেও কখনো টুঁ শব্দ করত না।
বড় লক্ষ্মী বউ ছিল।
কিন্তু শেষদিকে একটু বিগড়ে গিয়েছিল।
ওইদিন যদি ফ্যাক্টরি থেকে ফিরে পিরিয়ডের প্রচণ্ড ব্যথায় শুয়ে না পড়ত, তাহলে তো আর তোয়েব দাটা ছুড়ে মারত না।
মেয়েছেলের অত কাজকারবার ফেলে শুয়ে থাকা লাগবে কেন?
যদিও তোয়েবের মায়ের গালাগাল শুনে তলপেটের তীব্র ব্যথাটা নিয়েই উঠে এসেছিল সায়েদা, কিন্তু তোয়েবের মাথায় তখন রক্ত উঠে গেছিল।
‘পুরুষ চিনি রাগে!’
তোয়েব পুরুষমানুষ। ছনের বেড়া দেয়া রান্নাঘরের সামনে থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছিল সায়েদাকে। তারপর দা ছুড়ে মেরেছিল।
সায়েদা মরার পর কোনো পুলিশ কেস হয়নি। মেম্বার সাহেবকে তিরিশ হাজার টাকা দিয়েছিল তোয়েব।
তোয়েব বুদ্ধিমান। সায়েদাকে তালাক দিলে দেড় লাখ খরচ হতো। সায়েদার ছোট বোন, তেরো বছরের নীলুফাকে তাহলে বিয়ে করতে পারত না এত সহজে। সায়েদার বাচ্চা দুইটা যাতে সৎমার অত্যাচারে না পড়ে, সেজন্যই সায়েদার বাপ-মা নীলুফাকে তোয়েবের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে।
তারপর?
আমি অত জানিনা। নীলুফা লক্ষ্মী বউ কিনা, আমি জানিনা। মাঝরাতে আধবুড়ো বর যখন টেনে কামিজ খুলে ফেলে, তখন নীলুফা ভয়ে কাঁপে কিনা, তাও আমি জানিনা। প্রতিমাসে পিরিয়ডের দিনে ব্যথায় কাতরালে শাশুড়ি এসে চড় মেরে চুলের মুঠি টেনে ওকে চুপ করিয়ে যায় কিনা, আমি তাও জানিনা। সবার খাওয়া শেষ হলে নীলুফার পাতে আলু আর ধুন্দুলের টুকরোটুকুও অন্তত পড়ে কিনা, জানিনা।
থাক না ওসব বাজে আলাপ!







