কী গভীর যন্ত্রণায় মা তার শিশুকে হত্যা করে ফাঁসির দড়িতে অতঃপর নিজেকে ঝুলিয়ে দেয়! ওই নষ্ট জীবগুলো আর কত নষ্ট হতে পারে? এমন বর্বর দৃশ্যে ভীত নয় সুশীল শয়তান— শান্তির কফিন গায়ে ঘুমোচ্ছেন স্বয়ং ঈশ্বর। সবুজ বদ্বীপ থেকে ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে মানবিক বৃক্ষমালা, চিরায়ত স্নেহ-ভালোবাসা; ফুলে ফলে পল্লবিত শ্যামলিম উপত্যকা জুড়ে সভ্যতার কাঁধে চড়ে আধুনিক বর্বরতা নাচে; আহা কী প্রশান্ত দিন! চারিদিকে অলৌকিক আলো মৃতের পোশাকে কারাগারে উড়ে যাচ্ছে মা ও শিশু। অন্তরালে অবিরাম ডাকিনীবিদ্যার মন্ত্র জপে পরজীবী বেহায়া চেঙ্গিস আর অশুভ তান্ত্রিক— প্রকৃত এতিম আর বাস্তুচ্যুত এক মুণ্ডহীন অন্ধ বোবা খোঁড়া বৃদ্ধ কবি শূন্যতায় নগ্নভাবে একা হেঁটে যাচ্ছে—পেছনে স্মৃতির চিহ্নে বসে আছে লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্ত শকুন আর নাগিনীর দাঁত; জঙ্গলে আকীর্ণ ওই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রয়েছে আকাশ জড়িয়ে ধরা অভিশপ্ত স্থবির নীলাদ্রি; কুয়াশা পাথর হয়ে পড়ে আছে চোখের পাতায়, কে তাকে বাঁচাবে আজ কবিতার নির্ঘুম খাতায়? সময় এভাবে যায় ঘড়ির কাঁটায়, তারপর পুরাতন সূত্রধর তৈরি করে বরফের ঘর।









