‘পাট ও কচুরিপানা’ দিয়ে জীবাণুমুক্ত স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির ধারণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অফিস থেকে পরিচালিত অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রতিযোগিতা-২০১৭ বিজয়ী হয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইভানা মুর্তজা আফসারা। দশম সেমিস্টারের এই শিক্ষার্থীর এমন ধারণার দারুণ প্রশংসা করেছে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটুআই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী। এক বছর ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় দর্শকের ভোটে সবাইকে ছাড়িয়ে সেরা হয়েছেন পাঁচজন উদ্যোক্তা। তাদের সবাইকে পাঁচলাখ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৬ জানুয়ারি ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর ‘রিফিউজি: মানবতার পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক ধারণা উপস্থাপন করে চীনের সাংহাইয়ে হাল্ট পুরস্কার জিতেছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর গড়া সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘রিসার্জেন্স বাংলাদেশ’ দল। সেই দলেও ছিলেন ইভানা মুর্তজা আসফারা। রিফিউজি নারীদের ঋতুচক্রকালীন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক ধারণাটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়। স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘রিসার্জেন্স বাংলাদেশ’কে দারুণভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ব্যাপারে ইভানা মুর্তজা আফসারা বলেন,‘বাংলাদেশে সবাই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা পায় না। এছাড়া স্যানিটারি ন্যাপকিন আমাদের দেশের নারীদের জন্য খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি স্বল্প মূল্যের এই ন্যাপকিনের বাজারজাতকরণের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমরা একটি কোম্পানি রেজিস্টার্ড করেছি। আইডিয়াটির কপিরাইট নিয়েছি এবং রাজধানীতে অবস্থিত বিহারী ক্যাম্পে প্রোজেক্ট পাইলটিংয়ের কাজ শুরু করেছি।’
প্রজেক্টের মেন্টর মেহেরিন মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে দিন দিন উদ্ভাবক বাড়ছে। আর তারুণরাই এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব বলেন,‘ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় উদ্ভাবন এবং গবেষণাকে শিক্ষার উৎকর্ষ মনে করে।’
ইভানা মুর্তজা আফসারা মনে করেন বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে ‘পাট ও কচুরিপানা’ দিয়ে জীবাণুমুক্ত স্যানিটারি ন্যাপকিন সময় উপযোগী। একই সঙ্গে নিজ দেশে উদ্ভাবিত এই আইডিয়াকে যদি দেশেই বড় পরিসরে বাজারজাত করা যায় তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।








