ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাবি’র আবাসিক হলের গেস্টরুমে আবারও শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে সিনিয়রদের সামনে সিগারেট খাওয়ার জের ধরে অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তালেবকে তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী গেস্টরুমে নিয়ে নির্যাতনসহ গালিগালাজ করেন। তাকে একাধিকবার ক্রিকেটের স্ট্যাম্প নিয়ে আঘাত করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তালেব নিরাপত্তার ভয়ে বর্তমানে হলের বাইরে আছেন। ওই হলের তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা হলেন— সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের শেখ শান্ত আলম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমদাদুল হক বাধন,তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থগার বিভাগের শাহাবুদ্দিন ইসলাম বিজয় ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম ফাগুন।
শুক্রবার (১১ মার্চ) এ বিষয়ে জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ‘আমাদের হলে এ ধরনের কোনও কালচার নাই এবং নিঃসন্দেহে বলতে , এধরনের কিছুই ঘটেনি।’
বাধন বলেন, ‘তাকে (ভুক্তভোগীকে) মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
ফাগুন বলেন, ‘একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলছেন।’ অপর অভিযুক্ত বিজয়ও বিষয়টি অস্বীকার করেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত চার জনই হল ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত’র অনুসারী এবং শান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের অনুসারী। এবিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে শান্ত বলেন, ‘ঘুমাচ্ছি পরে কল দেবো।’ কয়েকঘণ্টা পর আবারও কল করলে তার কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি, খোঁজ নিচ্ছি। তাছাড়া স্পেসিফিক কোনও অভিযোগ নেই, ভাসা ভাসা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হলের গেস্টরুমে (অতিথি কক্ষে) সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তার ফুটেজ আমার মোবাইলে দেখা যায়, আমি সেটি দেখবো। তবে শিক্ষার্থীদের রুমে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সেটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বের করা কঠিন।’









