তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মকর্তারা। শনিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত তারা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি করেন। এ সময় দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কঠোর আন্দোলন চালানোর হুঁশিয়ারি দেন।
তাদের দাবিগুলো হলো—চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে ৬২ বছরে উন্নীতকরণ, কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টার পরিবর্তে ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত নির্ধারণ এবং বেতন স্কেলের নীতিমালা পরিবর্তন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে ৩৫ হাজার ৫০০ ও উপ-রেজিস্ট্রার বা সমমান পদে ৫০ হাজার টাকা বেতন স্কেলের দাবি করে আসছেন কর্মকর্তারা। তাদের আন্দোলনের পরিপেক্ষিতে ২০১৯ সালে ২৪৭তম সিন্ডিকেট সভায় শর্তসাপেক্ষে দাবি মেনে নেয় তৎকালীন প্রশাসন। তবে এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির সময়ের ওপর কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হলে এ নীতিমালা আবারও সংশোধনের কথা জানায় প্রশাসন।
পরে নীতিমালায় বর্ণিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী এই স্কেল থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৫৪তম সিন্ডিকেট সভায় সবার জন্য একই বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়। ওই সিন্ডিকেটে হওয়া নীতিমালায় পদোন্নতির দুই বছর পর স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয় উল্লেখ আছে বলে জানান কর্মকর্তারা। ফলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
পরে এই নীতিমালা পরিবর্তনসহ চাকরির সময়সীমা বৃদ্ধি ও অফিস সময় পরিবর্তনের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতে টানা ১১ দিন কর্মবিরতি করেন কর্মকর্তারা। পরে ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন। এ সময় কর্মকর্তা সমিতির দুই জনসহ এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দেন ভিসি। এর চার মাস পর গত ২১ জুন দাবি নিয়ে ভিসির কাছে যান কর্মকর্তারা। সেখানে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় পরে চারদিন কর্মবিরতি পালন করেন। এর মধ্যে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। পরে শনিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের দাফতরিক কার্যক্রম শুরু আবারও কর্মবিরতি শুরু করেন।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা কর্মবিরতি করছি। তবে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমরা কর্মবিরতির বাইরে রেখেছি। ভিসি স্যার আশ্বাস দিলেও এখনও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবো।’









