রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে কলেজের ‘বিদ্রোহী’ বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফসান, হাসিব, জিসান ও রাতুলসহ বেশ কয়েকজন স্ট্যাম্প ও নানা ধরনের দেশি অস্ত্র নিয়ে ইসলাম শিক্ষা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম, আসাদ, শরীফ ও জুনায়েদের ওপর হামলা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ট্যাম্পের আঘাতে নাঈমের মাথা ফেটে গেছে। আসাদ ও শরীফের হাত ভেঙে গেছে এবং জুনায়েদের চোখ জখম হয়েছে। সবাইকে স্থানীয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নাঈমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হামলার শিকার জুনায়েদ বলেন, ‘আমি বাসের সিটে বসে ছিলাম। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফসান আমাকে সিট থেকে উঠে যেতে বলে। সিটে বসাকে কেন্দ্র করেই মারামারির সূত্রপাত। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাফসান আমার গায়ে হাত তোলে। এরপর ক্যাম্পাস মাঠে আবারও রাফসান হাসিব, জিসান, রাতুল এবং তার বন্ধুরা স্ট্যাম্প ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আমার ও আমার বন্ধুদের মারধর করে। আমার চোখ জখম হয়েছে। এক বন্ধুর মাথা ফেটে গেছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়া দুই জনকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে।’
সূত্রাপুর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক মামুন বলেন, ‘খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসেছি। ভুক্তোভোগী সবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। শিগগিরই তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমেনা বেগম বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা কেউ আশা করি না। ঘটনার পরপরই আমি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। একটি শিক্ষার্থীর অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। তাৎক্ষণিক মিটিংয়ে আমরা আপাতত বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









