জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার এক ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন নাহিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জয়। নাহিদ নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র। মেহেদী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র। তারা দুই জনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামনগরের একটি দোকানে জুতা কিনতে যান সাব্বির ও মেহেদী। জুতা কেনা শেষে দোকানের কর্মচারী মিরাজুল ইসলাম জুতা পলিশ করতে দেরি করায় সাব্বির উত্তেজিত হয়ে দ্রুত পলিশ করার জন্য ধমক দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ওই কর্মচারীর সঙ্গে সাব্বিরের বাকবিতণ্ডা হয়। এতে সাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মচারীকে মারধর করতে করতে দোকানের ভেতর থেকে বাইরে রাস্তায় নিয়ে আসেন। রাস্তায়ও কয়েক দফায় মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা কর্মচারীকে কান ধরিয়ে উঠবস করান এবং পা ধরে মাপ চাইতে বলেন। এ সময় দোকান মালিকের বড় ভাই নেওয়াজ বাপ্পি থামানোর চেষ্টা করলে তার মুখে দুটি থাপ্পড় মারেন মেহেদী হাসান জয়।
দোকান মালিক রোমেন রায়হান বলেন, ‘নাহিদ ও জয় আমার দোকানে জুতা কিনতে আসে। তাদের জুতা পলিশ করতে দেরি হাওয়ায় দোকানের কর্মচারী মিরাজকে বলে তুই দ্রুত কাজ কর, আমাদের তাড়া আছে। কয়েকবার এ কথা বলার পরে মিরাজকে আবার বলে, তুই এত অ্যাটিটিউড দেখাচ্ছিস কেন? এ কথা বলার পর একপর্যায়ে মিরাজকে মারধর শুরু করে। এ সময় আমার বড় ভাই ঠেকাতে আসলে তাকেও মারধর করে। তাদের অনুমতি ছাড়া দোকান খুলতে নিষেধ করেছে।’
মারধরের শিকার কর্মচারী মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, “শুক্রবার নাহিদ ও জয় দোকানে জুতা কিনতে আসে। জুতায় ধুলা থাকায় আমি সেটা পরিষ্কারর করছিলাম। তারা আমাকে বলে, ‘তুই দ্রুত ওয়াশ কর, আমরা খুবই ব্যস্ত, আমাদের সময় সম্পর্কে তোর কোনও আইডিয়া আছে?’ আমি তাদের একটু সময় লাগবে বলায় তারা আমাকে বলে তুই এতো অ্যাটিটিউড দেখাচ্ছিস কেন? আমি তখন বলি, ‘ভাই আমি অ্যাটিটিউড কই দেখালাম?’ এ কথা বলার পরই তারা আমাকে মারধর শুরু করে। পরে দোকানের বাহিরে নিয়ে আবারও মারধর করে।”
দোকান মালিকের বড় ভাই নেওয়াজ রাসেল বাপ্পি বলেন, ‘মিরাজকে মারধর করতে দেখে আমি কারণ জানতে চাই। এ সময় নাহিদ ও জয় দোকানের মধ্যে আমাকে মারধর করে। পরে দোকান থেকে বাইরে এনে আবারও মারধর করে।’
মারধরের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নাহিদ ও জয় মিরাজকে দোকান থেকে বের করে আনেন৷ পরে তাকে মারধর করেন। এ সময় দোকানদারের বড় ভাই বাপ্পিকেও মারধর করতে দেখা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সাব্বির হোসেন নাহিদ বলেন, ‘আমরা জুতা কিনে বাকি টাকা ফেরত চাইলে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এ সময় আমরা এর প্রতিবাদ করলে ওই কর্মচারী আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়।’
মেহেদী হাসান জয় বলেন, ‘দোকানদারকে আমরা তাড়াতাড়ি জুতা পোলিশ করতে বললে সে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই দোকানদার যদি আমাদের নামে কোনও অভিযোগ করে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারের শরণাপন্ন হবো। কারণ সে আমাদের কোনও ভাউচার এবং ১৫০ টাকা ফেরত দেয়নি।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।









