রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ডেকে নিয়ে রফিকুল নামে এক কর্মচারীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৩৬৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বিকালে ভুক্তভোগী কর্মচারী হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হল প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন- মাজহারুল ইসলাম ও মোমিন ইসলাম। মাজহার ওই হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাবি শাখার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মোমিন ইসলাম শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজনই সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাক্রমে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম সংস্কৃতি বিভাগের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী দাবি করেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কল করে নিজেকে সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলে পরিচয় দেয়। অসুস্থতার কথা বলে সাহায্য প্রার্থনা করে হলে ডাকেন। হলে গেলে ৩৬৪ নম্বর রুমে নিয়ে মোমিন ও মাজহারুল পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তারা মাথায় পানি ঢালছে। পরে তারা আমাকে হল গেটে রেখে পালিয়ে যায়।
তার দাবি, মারধরের পর বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে। যদি জানাই, তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
সিসিটিভির ফুটেজে রফিকুলের দাবির সত্যতা মিলেছে। হলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে স্বাভাবিকভাবে হলে ঢুকছেন রফিকুল। ১টা ২২ মিনিটে মাজহার ও মোমিনসহ তাকে হল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। মমিনের শরীর ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। গেটে নিয়ে মমিনকে রফিকুলের প্যান্টের ময়লা পরিষ্কার করতেও দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরিফুল ইসলাম সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সোহরাওয়ার্দী হলের ৩৬৯ নম্বর কক্ষে থাকেন। কল দিয়ে ডেকে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কিছুই জানি না। কাউকে কল দেইনি। আমি রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। পরে জানতে পারি, আমাদের বিভাগের কর্মচারী রফিকুল ভাইকে হলে ডেকে মারধর করা হয়েছে।
মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোমিন ইসলাম। তার দাবি, মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে রফিকুল আমার কাছ থেকে মার্চ মাসে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। টাকা চাইলে আজকে দেবো, কালকে দেবো বলে কালক্ষেপণ করেন। আজ সকালে ওনাকে হলে ডেকে নিয়ে এলে অন্যজনের মাধ্যমে আমাকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু আমি টাকা পাইনি। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে হল গেটে ছেড়ে দেই। এখানে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযুক্ত আরেক ছাত্রলীগ নেতা মাজহারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বন্ধ পাওয়া যায়।
হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগেই জেনেছি। তারা কাজটি ঠিক করেনি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। যেহেতু হলে ঘটনাটি ঘটেছে তাই হল প্রভোস্টকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হলে ডেকে এনে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলামের কক্ষটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া সন্ধ্যায় প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









