বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
দেশের নারী শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে প্ল্যাটিনাম জুবিলি উৎসব উদযাপন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড়ানো ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী ৭৫ বছর উদযাপনের সূচনা হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভাপতিত্ব করেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্তর্বর্তী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আজমুল হক। বক্তব্য রাখেন ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইফফাত গিয়াস আরেফীন ও কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজ পরিবর্তনের জন্য আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। বন, পাহাড় ও নদী সৃষ্টি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে হবে। অন্যকে অবজ্ঞা করে বড় হওয়া যায় না—মানবিকতার শিক্ষা শিক্ষাজীবন থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন।”
ইফফাত গিয়াস আরেফীন বলেন, “গত ৭৫ বছরে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ একাধিক প্রজন্ম গড়ে তুলেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলাদেশের নারীদের জন্য একটি শক্ত ও টেকসই ভিত্তি তৈরি করেছে।” অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, “৭৫ বছর কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি হাজারো নারীর স্বপ্ন পূরণের ইতিহাস।” এই উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনুপ্রাণিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সালের ১৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি গত সাড়ে সাত দশক ধরে মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নারী প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মাহেন্দ্রক্ষণটি স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, গভর্নিং বডি ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন একযোগে উদযাপনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ফিরোজ খান নূনের স্ত্রী বেগম ভিকারুননিসা নূনের উদ্যোগে ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখা মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অ্যালামনাই শাখা এই প্ল্যাটিনাম জুবিলী উদযাপনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।








