ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ছাত্রদলের। তাদের দাবি, বিতর্কিত কিছু ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাবি প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা যাচাইয়ের জন্য একটি চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি প্রশাসন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ।
ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা ছোট দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। কতিপয় বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। সিন্ডিকেটের বাইরের দোকানগুলোকে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এছাড়া গত (শনিবার) রাতে প্রায় দেড় মাস আগের একটি ভিডিও কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তৈরি করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে দুটি দাবি উত্থাপন করেছে ছাত্রদল। সেগুলো হলো, ক্যাম্পাসে ছোট ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার নিয়মনীতি স্পষ্ট করে প্রচার করা। অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীকে (সহকারী প্রক্টর)। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী (সহকারী প্রক্টর), অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর) ও মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তফা (এস্টেট ম্যানেজার, ভারপ্রাপ্ত)। কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, “দুই মাস আগের একটি ভিডিওর ঘটনাকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগকে কেন্দ্র করে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটিকে বিতর্কিত করতেই পুরোনো ঘটনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাবির ভ্রাম্যমাণ ও ভাসমান দোকানগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা জড়িত এবং প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি কি, তা জানতে প্রশাসনের কাছে যাওয়া হয়েছে। কিছু তথাকথিত শিক্ষার্থী রাত-বিরাতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্যকে কলুষিত করছে, যা ঢাবির জন্য লজ্জাজনক।”
আজকের মধ্যেই তদন্তসাপেক্ষে চাঁদাবাজির কোনও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা প্রকাশ করতে হবে দাবি করে এই ছাত্রদল নেতা বলেন, “জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্রদলের কোনও নেতা বা কর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ালে ভবিষ্যতে নীরব থাকা হবে না এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”








