ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কিছু কিশোরকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এমনকি, লাঠি হাতে কিশোরদের মারতেও উদ্ধৃত হন তিনি। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি কবে কার সে বিষয়ে কোনও কিছু জানা যায়নি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে একদল কিশোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সর্বমিত্র, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে এসেছিলেন। তারা নিজেরা কানধরে উঠবস করছেন। লাঠি হাতে সর্বমিত্র চাকমা তাদের পাশে পায়চারি করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, “ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন। অপরাধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। অথচ বাচ্চারা কোনও অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।”
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারির বলে বলে উল্লেখ করেছেন আবিদুর।
ওই ভিডিওটি শেয়ার করে ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম লেখেন, “সর্বমিত্র চাকমা নামক এ আজিব প্রাণীটার আগমন ঢাবিতে হলো কিভাবে…আল্লাহই ভালো জানেন। এ প্রাণীটাকে কোনও চিড়িয়াখানায় পাঠানো যায় নাকি মাসায় মারা সাফারি পার্কে পাঠানো উচিত?”
মনোয়ার হোসেন নামের একজন লিখেছেন, “ঢাকা শহরে ছোট বাচ্চাদের খেলার জায়গাগুলাকে সিস্টেম্যাটিকালি মুছে দেওয়া হয়েছে, কোনও কিশোর যদি নিয়ম না বুঝে কোনো এলাকায় প্রবেশ করে, তাহলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীদের উচিত সুন্দর ভাষায় বুঝিয়ে বলা। লাঠি হাতে, কান ধরিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্রেক করে শাসন করার এখতিয়ার সর্বমিত্র চাকমাকে কে দিয়েছে? সেখানে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী, দিনে দুপুরে নিজের অদৃশ্য ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়ে সাধারণ জনগণের মনে আমাদের সম্মানহানি ছাড়া আর কিছু করছে না।”
সর্বমিত্রের এমন কার্যক্রমে নিন্দা জানিয়েছে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “যত বড় অপরাধীই হোক না কেন কাওকে লাঠি হাতে এইভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার আপনার নেই। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো। শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসন আছে। আপনাকে ভুলে গেলে চলবে না, আপনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাত্র। এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার আপনার/আপনাদের নেই।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে ও মন্তব্য নিতে সর্বমিত্র চাকমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।








