গান ও কবিতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের একদল শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সঞ্জীব চত্বরে এই আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক আয়োজনের শিরোনাম ছিল “কবিতা ও গানে স্বাধীনতা”।
আয়োজকরা বলেন, “দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে সামনে রেখে গান, কবিতা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই উন্মুক্ত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তারা বলছেন, “দিবসটি উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনও আয়োজন না থাকায় তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।”
অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতার চেতনা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান তারা। অংশগ্রহণকারীরা গান, কবিতা আবৃত্তি, চিঠি পাঠসহ নানা সৃজনশীল পরিবেশনার মাধ্যমে এ আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, “আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। আমরা কয়েকজন বন্ধু ক্যাম্পাসে এসে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, দিনটি উদযাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোর বিল্লেখযোগ্য কোনও আয়োজন নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কিছু কর্মসূচি অবশ্যই আছে, যা প্রতিবছরই হয়। তবে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করার মতো উন্মুক্ত কোনও আয়োজন চোখে পড়েনি।”
তিনি বলেন, “এটা দেখে আমরা বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিই, পরদিন নিজেরাই একটি আয়োজন করবো। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়রদের সমর্থন পাওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।”
আয়োজকদের অন্যতম আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম বলেন, “দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বহুবার আঘাতের মুখে পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও এই দিবসটি এক কথায় সাদামাটা ও প্রাণহীনভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, ডাকসুর ২৮ সদস্যের কমিটির মধ্যে ২৫ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও দেশের স্বাধীনতার প্রতি এমন অবহেলা অনেক দুঃখজনক। তাই মনে হলো, যখন কেউ এগিয়ে আসছে না, তখন আমাদেরই সামনে এগিয়ে আসা উচিত।”









