মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা, স্পষ্ট বক্তব্য নেই জবি প্রশাসনের

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৫৬, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৮, জুন ০৬, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। তবে ছুটির মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন মেস ভাড়া দেওয়া নিয়ে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেস ভাড়া মওকুফের দাবি উঠলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মিলছে না কোনও কার্যকরী বক্তব্য। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই মেস ও বাসা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বাড়ি মালিকরা। অনেক বাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে মালামাল আটকে রাখা, পরবর্তীতে মেসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বাড়িওয়ালা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্বিগুণ করে তুলেছে মেস ম্যানেজাররা। বাড়িওয়ালার নাম করে ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
প্রক্টোরিয়াল বডি থেকে বলা হয়েছে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া না দেওয়ার জন্য। কোনও মেস বা বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিলে প্রক্টোরিয়াল বডিকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় বাড়িওয়ালাদের সাথে কীভাবে সমাঝোতা করবে সে সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। 
সম্পূর্ণ অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীকেই মেস ভাড়া করে থাকতে হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অতিরিক্ত এই বাসা ভাড়ার জোগান দেন টিউশনি, কোচিংয়ে ক্লাস করিয়ে। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সংসার খরচেও এই আয় থেকে অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তাদের সকল আয়ের উৎসও বন্ধ। এমন অবস্থায় মেস ভাড়া পরিশোধের চাপে অসহায় বোধ করছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আবার বাবা নেই, মা কাজ করে সংসার চালাতেন। লকডাউন মা কাজ পাচ্ছেন না। আমিও মাত্র প্রথমবর্ষে। কোনো ইনকামের সুযোগ পাইনি। মেস ম্যানেজার ভাই জানিয়েছেন বাড়িওয়ালা ভাড়া চেয়েছেন। যখন কী খাবো সেই নিশ্চয়তাই নেই, তখন কীভাবে মেস ভাড়া দেব?’ 
নতুন ভর্তি হওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাবা নেই। তিন ভাইবোনের মধ্যে আমিই বড়। ভর্তির সময় টাকা জোগাড় করতে না পারলেও একটি সংগঠনের সহযোগিতায় তা জোগাড় হয়ে যায়। মহাবলিপুরের এক ছাত্রাবাসে আমি থাকতাম ও শহরে একটি টিউশনি করিয়ে সেই মেস খরচের টাকা উপার্জন করতাম। আজ করোনার কারণে টিউশনিটা বন্ধ হয়ে গেছে। মেসের টাকা কীভাবে দেব বুঝতে পারছি না।’
শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ দফা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ৪ দফা ও শাখা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষার্থীদের বাড়ি ভাড়া ৫০ শতাংশ মওকুফের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া, একমাত্র বাড়ি ভাড়ার উপর নির্ভরশীল মেস মালিকরাও যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ইউটিলিটি বিল মওকুফ করা, করোনা পরবর্তী সময়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে ঢাকায় অস্থায়ী সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসন ব্যয় নির্বাহের জন্য মাসিক ভিত্তিতে সম্পূরক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, আসন্ন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও নতুন সেমিস্টারে ভর্তির ফি মওকুফ করা ও করোনা পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস খোলার দুই সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হল খুলে দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জায়গা আর ঢাকার বিষয় এক নয়। এখানে বাড়ি তৈরি করা হয় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। তারপরও আমরা থানাগুলোর সাথে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের যারা মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, আমরা পুলিশের সহয়তায় বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা করছে আমাদের শিক্ষার্থীরাই যারা মেস ব্যবসা করে। বাড়িওয়ালার নাম ভাঙিয়ে তারা জোর করে টাকা তুলছে, এমন অভিযোগ প্রতিদিনই পাচ্ছি।’ 
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাস না খুল‌লে আপাতত কিছু করা সম্ভব না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমানে আমরা শিক্ষার্থীদের খাবার ও চিকিৎসা সমস্যাটা দেখছি। প্রক্টোরিয়াল বডিকে নির্দেশনা দেওয়া আছে মেস ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য।’ 

/এনএ/

লাইভ

টপ