প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে। দেশের দক্ষিণে নতুন করে বিভিন্ন চর জাগছে। এসব নতুন চরকে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদেরকে একটি গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা যদি এর সবটুকু কাজে লাগাতে পারি তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারবে বাংলাদেশ।
বুধবার (১ জুন) সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ন্যাশনাল স্পেশিয়াল ডেটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এনএসডিআই) ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এনএসডিআই গঠনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতর ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল।
আরও পড়তে পারেন: অনিবন্ধিত সিম বন্ধ: কাস্টমার কেয়ারে ভিড়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সম্মানজনক। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি আজ খুব দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক ইতিবাচক ধারায় এগুচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ৬ বছর ধরে আমরা গড়ে ৬.৩ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছি। এ বছর জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমাদের জনসংখ্যা বেশি,আয়তন কম,এটুকু জায়গার মধ্যে সব মানুষের খাদ্য, বাসস্থানসহ সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। এনএসডিআই থাকলে আমরা আরও ভাল এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণের বিভিন্ন দ্বীপ আমাদের ঝড় জলোচ্ছ্বাস দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবে। নতুন করে বিভিন্ন চর জাগছে। এগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। দেশটা আমাদের গড়ে তুলতে হবে। ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করতে পারে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতর উপকূলবর্তী এলাকার ৪৮টি মানচিত্র প্রণয়ন করে দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই অধিদফতর বিভিন্ন স্কেলের ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন করেছে। এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশের বৃহৎ স্কেলে ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ৯৮৮টি ম্যাপশিটের মধ্যে ৯০০টি ম্যাপশিটের প্রস্তুতি শেষ করেছে।
আরও পড়তে পারেন: মহিবুরের ফাঁসি, মজিবুর ও রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
পাশাপাশি ডিজিটাল এলিভেশন মডেল (ডিইম) ও ডিজিটাল টেরেইন মডেল (টিডিএম) প্রস্তুতের কার্যক্রমও চলছে। এসব মডেল বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
শেখ হাসিনা বলেন,প্রতি বছর যেমন ভাঙনের ফলে কৃষি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি আমাদের সমুদ্রে কিন্তু জমি/চর জেগে উঠছে। জরিপের মাধ্যমে জেগে উঠা এসব চরকে কীভাবে ব্যবহার উপযোগী করা যায় তার উপায় বের করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে এসব চরের বা দ্বীপের ভূমি ক্ষয় বন্ধ করা সম্ভব।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতরকে সমুদ্র উপকূলে নতুন জেগে ওঠা চর ও দ্বীপসমূহের টপোগ্রাফিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। পরিকল্পিতভাবে গ্রাম, শহর, রাস্তাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করতে পারলে উন্নয়ন অগ্রগতি সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এনএসডিআই গঠনে স্বল্প ও দীর্ঘ-মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মকৌশল নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে। সেজন্য একটা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এনএসডিআইতে যেসব ডাটা থাকবে, কেউ যাতে এর অপব্যবহার করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে ঢাকার মিরপুর-১৪ নম্বর দামালকোটে স্থাপিত বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতরের ডিজিটাল ম্যাপিং সেন্টার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পিএইচসি/এমএসএম/








