জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজে সংরক্ষিত নমুনার সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলেছে, মোবাইল সিম সঠিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার এসএমএসও এসেছে, তারপরও সকাল থেকে সিম বন্ধ জিলানী মিল্টনের। সমস্যা সমাধানে সকালেই তিনি রাজধানীর মতিঝিলের বাংলালিংকের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গেলে তাকে জানানো হয়, ডাটাবেজের তথ্যের সঙ্গে তার জন্ম তারিখটি মিলছে না। কাস্টমার কেয়ার থেকে জন্ম তারিখ মিলিয়ে ডাটাবেজের তথ্য সংশোধন করে জিলানী মিল্টনকে জানানো হয়, ১২ ঘণ্টা পরে আপনার সিমটি সচল হবে।
জিলানী মিল্টন বলেন, জানুয়ারি মাসে তিনি রাস্তার পাশের একটি রিটেইল (খুচরা সিম বিক্রেতা) স্টোর থেকে সিম নিবন্ধন করেন। ফরমে তিনি পূর্ণ তথ্য লেখেননি। কেবল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি দিয়ে এসেছিলেন। জিলানী মিল্টনের আশঙ্কা ওই খুচরা সিম নিবন্ধক হয়তো সঠিকভাবে ফরমটি পূরণ করেননি।
তরুণ উদ্যোক্তা প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নেজামী বলেন, দু’টি সিমই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা অনেক আগে। দু’টি সিমই বন্ধ হয়ে আছে। আল্লাহই জানে কোনও সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে কোনটা বন্ধ করেছে আবার। সন্ধ্যায় তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার দুটিই এয়ারটেল সিম। একটি চালু হয়েছে। আর যেটা দিয়ে আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করি সেটা এখনও চালু হয়নি। তিনি দুটি সিম একই দিনে একই পয়েন্ট থেকে নিবন্ধন করিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: অনিবন্ধিত সিম বন্ধ: কাস্টমার কেয়ারে ভিড়
শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়, এমন কয়েকশ’ ঘটনার কথা বলা যাবে। অনেকই সিম নিবন্ধন করলেও তার সিমটি সকাল থেকেই সংযোগবিহীন পেয়েছেন। অন্যদিকে এয়ারটেলের গ্রাহকদের অবস্থা তো আরও করুণ বিশেষ করে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের গ্রাহকদের। এই অপারেটরটির বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন যারা করেছেন এবং যারা করেননি দুই পক্ষর সিমই ব্লকের আওতায় পড়েছে। যদিও এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এটা তাদের কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছে। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই এয়ারটেল থেকে কল করা যাচ্ছিল না। কোনও কল আসছিলও না। সকাল থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধানমণ্ডিতে এয়ারটেলের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে গ্রাহকরা সমাধান না পাওয়ায় কেন্দ্র ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
এয়ারটেলের জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, তাদের একটি প্রধান মোবাইল সুইচিং সেন্টার এমএসসি-০৯ -এ হঠাৎ করেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঢাকার দক্ষিণাংশ ও নারায়ণগঞ্জে এয়ারটেল গ্রাহকেরা সাময়িক নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছেন। অন্য জায়গাগুলোতে বর্তমানে এ ধরনের কোনও সমস্যা নেই। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করা, না করারও কোনও সম্পর্ক নেই। যারা সিম নিবন্ধন করেছেন তারা সুইচিং গোলযোগের কারণেই এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এয়ারটেলের পক্ষ থেকে বুধবার দুপুরে বলা হয়েছিল দুই/তিন ঘণ্টার মধ্যে নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত এয়ারটেলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
আরও পড়ুন: আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা, কী আছে ভ্যাট আইনে?
এজে/








