আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ‘প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন বছরের জন্য ৭ দশমিত ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে সম্ভাব্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। বাজেটের এই পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)’র ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ৮৩ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিকাল ৩টায় এ বাজেট উপস্থাপন করবেন।
সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে না হলেও সরকারি মিলকারখানায় ভর্তুকির পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, এবার বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ৫%। এ হিসাবে এবার বাজেট ঘাটতি হতে পারে ৯৭ হাজার কোটি টাকারও কিছু বেশি। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে আসবে ২০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।
এর আগে বেলা ১টায় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকেই ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ ভবনস্থ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য বাজেটে সম্মতি স্বাক্ষর দেবেন। বাজেটে রাষ্ট্রপতির সম্মতি স্বাক্ষরের পরেই উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। এটি বাংলাদেশের ৪৫ তম বাজেট। একই সঙ্গে তিন মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৪তম এবং মহাজোট সরকারের তৃতীয় বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল বাবদুল মুহিতের টানা ৮ম বাজেট আর ব্যক্তিগত ১০তম বাজেট। তিনি এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের জন্য দুটি বাজেট দিয়েছিলেন।
এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় এবং ব্যক্তিগত দশম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতই প্রথম যিনি একাধারে টানা আট বার বাজেট দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে সাইফুর রহমান ব্যক্তিগত ১২টি বাজেট দিয়ে শীর্ষে থাকলেও তিনি টানা ৫ বারের বেশি বাজেট দিতে পারেননি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শাহেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞিপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। ওই দিন অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব, সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিগুলো (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), বিস্তারিত বাজেট (উন্নয়ন), নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় চল্লিশটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, শিশুদের নিয়ে বাজেট ভাবনা, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, দক্ষতা উন্নয়ন- উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রাধিকার, কাঠামো রূপান্তরে বৃহৎ প্রকল্প: প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: হালচিত্র ২০১৬ ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ হতে সরবরাহ করা হবে।
একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলি- ২০১৫-১৬ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।
আরও পড়তে পারেন: বাজেট বাড়লেও ৮ বছর ধরে কমছে বেসরকারি বিনিয়োগ
অর্থমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থাকছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দসহ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। যা আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ) এনইসিতে অনুমোদন করা হয়েছে। জানা গেছে, বাজেটে সরকার নতুন বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথমদিন ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলেও ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখিয়ে প্যাকেজ ভ্যাট প্রদান পদ্ধতি এ বছরও বহাল রাখছে সরকার। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রগুলো বলছে, প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ বাড়তে পারে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ ১৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। বর্তমানে প্যাকেজ মূসকের পরিমাণ অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ হাজার টাকা এবং জেলা শহরের পৌর এলাকায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। এ দুটি এলাকায়ও টাকার পরিমাণ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া অন্য এলাকায় ৩ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে ৬ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হতে পারে।
প্যাকেজ ভ্যাট থেকে এনবিআর প্রতিবছর গড়ে ১০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয় করে। মূলত ছোট দোকানদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বার্ষিক থোক হিসেবে এ প্যাকেজ ভ্যাট দেন। বর্তমানে আড়াই লাখ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬৮ হাজার প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাট দেয়। নতুন আইনে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ভ্যাট অব্যাহতির সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জান গেছে। কিন্তু প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে সারা দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করছেন।
ব্যবসায়ীদেও শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশনে ১৮ হাজার টাকা হলে ছোট ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকেই ভ্যাট দিতে পারবে।
এবারের বাজেটে আয়কর বিষয়ে বলা হয়েছে—তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের ওপর রফতানিকালে উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে। নিট, ওভেন, টেরিটাওয়েল, কার্টন ও সরঞ্জামাদি রফতানির ক্ষেত্রে এ হার ১ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে এসব পণ্য রফতানি করলে দশমিক ৬০ শতাংশ কর দিতে হয়। তৈরি পোশাক রফতানিকারকের রফতানি মূল্যের (এফওবি মূল্য) এ উৎসে কর দেন, যা চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত।
অতীতের মতো এ বছরও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে অস্পষ্ট। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের চাপ রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। এবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সুবিধাভোগীর। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে এ খাতের বরাদ্দ। বর্তমানে জীবিত সব বয়সী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকছে বলে জানা গেছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন। বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে রেল যোগাযোগ। থাকছে বিশেষ বরাদ্দ। একইভাবে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে পদ্মাসেতুসহ ১০টি খাতে। বাড়ানো হতে পারে ব্যক্তিখাতের করমুক্ত আয়সীমা। ঘোষণা করা হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেলের শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
শেখ হাসিনা সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট হলেও এটি হবে অর্থমন্ত্রীর টানা ৮ম বাজেট। এর আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের দুই বার জাতীয় বাজেট পেশ করেছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের বাজেটের আকার হতে পারে কমবেশি ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর জিডিপি ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে না হলেও সরকারি মিলকারখানায় ভর্তুকি ২৫ হাজার কোটি টাকা দিতে হতে পারে জানা গেছে। জানা গেছে, এবার বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ৫%। এ হিসাবে এবার বাজেট ঘাটতি হতে পারে ৯৭ হাজার কোটি টাকারও কিছু বেশি। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে আসবে ২০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।
রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের আগে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হবে। রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদ ভবনস্থ নিজ দপ্তরে বসেই মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাক্ষর করবেন। এর পরেই সংসদে তা উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়তে পারেন: ‘প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’ নিয়ে প্রস্তুত অর্থমন্ত্রী
এদিকে, বাজেট পেশকে কেন্দ্র করে অর্থমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে না গিয়ে বেলা ১২টার দিকে সরাসরি সংসদে যাবেন। মানসিক শক্তিশালী অর্থমন্ত্রী ফুরফুরে মেজাজেই আছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যাক্তিগত স্টাফরা। সাদা পায়জামার সঙ্গে পাঞ্জাবী ও মুজিব কোট গায়ে জড়িয়ে এবং কালো চামড়া দিয়ে তৈরি পেছনে বেল্টসহ সেন্ডেল পায়ে দিয়ে সংসদে আসবেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই তা বাসায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের মুল দলিলপত্র সঙ্গে নেওয়ার জন্য প্রথা অনুসারে ইতোমধ্যেই কালো ব্রিফকেস কেনা হয়েছে। গতকাল রাতেও চিকিৎসকরা তার শরীরের সুস্থতা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বুধবার জানিয়েছেন, ভালোই তো আছি। মন ভালো আছে। টানা ৮ম বারের মতো বাজেট দিচ্ছি। কাল সংসদে দেখা হবে।
বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ আগামী ৩ জুন শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বড় প্রকল্পের সঙ্গে এবার এডিপিতে যুক্ত হয়েছে কিছু নতুন প্রকল্প। নতুন বাজেটে সরকারের নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ থাকছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের দিক নির্দেশনা সংক্রান্ত বক্তব্য। থাকছে রাজস্ব খাতে পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, পদ্মা সেতুসহ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ সরবরাহ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্যখাতে ভর্তুকিসহ কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হ্রাস এবং প্রয়োজনে কৃচ্ছতাসাধান। এছাড়া জ্বালানি খাতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় প্রদ্ধতি বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখা, বিদেশি অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার কাঙ্ক্ষিত স্তর এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও আগামী বাজেটের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে রাখার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd -এ বাজেটের সকল তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন এবং দেশ বা বিদেশ থেকে উক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।
ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bangladesh.gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imjed.gov.bd, www.bdpressinform.org, www.pmo.gov.bd ঠিকানায় বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
/এসআই/এমএনএইচ/








