একই শিক্ষার্থীর ছবি একাধিক কোচিংয়ের বিজ্ঞাপনে

ছবি না দিলে একাডেমিক ক্ষতির হুমকি কোচিং সেন্টারগুলোর

রশিদ আল রুহানী
০২ জুন ২০১৬, ১০:১৬আপডেট : ০২ জুন ২০১৬, ১০:১৭

সাইফুর`স এর বিজ্ঞাপনে জমিরকে নিয়ে বক্তব্য চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে কোচিং সেন্টারগুলো। গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রথম সারির শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে বিজ্ঞাপন। একই শিক্ষার্থীর ছবি ছাপা হয়েছে একাধিক কোচিংয়ের বিজ্ঞপনে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে থাকাটাই যেনো ‘পাপ’ হয়েছে তাদের জন্য। সব কোচিং সেন্টারই পেছনে লেগে থাকে ছবি নেওয়ার জন্য। ছবি দিতে রাজি না হলে একাডেমিক ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় তাদের।

একই শিক্ষার্থীর ছবি একাধিক কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনে কিভাবে? কোচিং সেন্টারগুলো তাদের আখের গোছাতে কতোটা অনৈতিক হতে পারে তা উঠে এসেছে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে।

ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনে করেন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একদমই অসম্ভব। তখনই না বুঝে ফাঁদে পা দেন তারা।

তারা জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভর্তি হয়ে যায় কোচিং সেন্টারে। সেখান থেকে একটা গাইড লাইন পেলেও পড়াশোনা তো শিক্ষার্থীকেই করতে হয়।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি করার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে কোচিং সেন্টারগুলো। মোটা অংকের টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল, স্কলারশিপসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে চায় কোচিং সেন্টারগুলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, মেধাতালিকায় যারা প্রথম সারিতে থাকেন কোচিং সেন্টারগুলো তাদেরকে টার্গেট করে। অফিসে ডেকে নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দিয়ে ছবি সংগ্রহ করে এবং কোচিং সেন্টার থেকে তিনি পুরস্কার নিচ্ছেন এমন ছবি তুলে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করে।

গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ঘুরে ঘুরে খোঁজ খবর নেয়,কোনটি ভালো। খোঁজ-খবর করতে গেলেই তাদের মোবাইল নম্বরসহ সমস্ত তথ্য সংগ্রহে নেয় কোচিং সেন্টারগুলো। এই শিক্ষার্থী যেখানেই ভর্তি হোক না কেন মাঝে মাঝেই ফোন করে প্রলোভন দেখানো হয়।

পরে ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করার পরে তাদের যন্ত্রণার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করার সঙ্গে সঙ্গেই এগ্রিমেন্ট করতে চায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।এক পর্যায়ে কোচিং সেন্টারগুলো তাদের জিম্মি করে ফেলে।জিম্মি হওয়ার পরে কারণে-অকারণে অফিসে ডেকে নেয় তাদের। ক্লাস-পরীক্ষা ও পড়াশোনার ক্ষতি করে কোচিংয়ের প্রচার প্রসারের স্বার্থে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বলা হয় তাদের।

এদিকে কোনও শিক্ষার্থী এসব প্রস্তাবে রাজি না হলে তার একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেয় কোচিং সেন্টরারগুলো।ওই শিক্ষার্থী যে ছাত্রাবাসে থাকেন সেখানকার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়। এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এ ধরনের হুমকিতে পড়ে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ছবি দেন তারা। তবে গ্রাম থেকে শহরে আসা গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই ধরনের সমস্যায় বেশি পড়েন।

শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ স্বীকারও করেছেন কোচিং পরিচালকরা। তবে নিজেদেরকে ‘‌‌সাধু’ দাবি করে অন্য কোচিংয়ের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‌অন্য কোচিং সেন্টারের মত আমরা ভণ্ডামির সঙ্গে জড়িত নই।

আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফুলের তোড়া দিচ্ছেন ইউনিএইড কোচিংয়ের পরিচালক ‌‌‌ফোকাস’ এবং কিরণ-সুমন-কবির পরিচালিত ভর্তি কোচিং ইউনিএইড এর প্রোসপেক্টাস হাতে নিতেই চোখে পড়লো আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক শিক্ষার্থীর নাম। দেখা যায় এই শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিচ্ছে এ দু’টি প্রতিষ্ঠানই। ফোকাসের কাভার পৃষ্ঠার মামুনের হাতে ল্যাপটপ এবং ইউনিএইড এর কাভার পৃষ্ঠায় ফুলের তোড়া।

ফোকাস কোচিং সেন্টারের যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মামুন তাদেরই ছাত্র ছিলেন। তাদের কাছ থেকে গাইড লাইন নিয়েই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন। অন্যদিকে ইউনিএইড কোচিং পরিচালকরা বলছেন, মামুন আমাদের শিক্ষার্থী। আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফুলের তোড়া দিচ্ছেন ফোকাস কোচিংয়ের পরিচালক

মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে কোনও বক্তব্যই দিতে রাজি হননি। তিনি শুধু একটি কথাই বলেছেন,‌মুখ খুললে আমার ক্যারিয়ারের ওপর আঘাত আসতে পারে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এখানে অনেক বড় নোংরা পলিটিক্স চলে বলে জানান তিনি।’

২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে প্রথম হয়েছেন নূর হোসেন নয়ন। তার ছবি ছাপা হয়েছে আইকন ও ইউনিএইড নামে দু’টি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনে। আইকন বলছে, নয়ন তাদের কাছেই কোচিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। অন্যদিকে ইউনিএইড বলছে, নয়ন অন্য কারও নয়, তাদেরই শিক্ষার্থী।আবার জমির উদ্দিন খ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এমন বিজ্ঞাপন দৈনিক পত্রিকাসহ তিনটি কোচিং সেন্টারের প্রোসপেক্টাসে ছাপা হয়েছে। জয়কলি পাবলিকেশনের ভর্তি গাইড পড়ে নয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে প্রথম হয়েছে এটাও প্রচার করছে জয়কলি পাবলিকেশন্স।

নুর হোসেন নয়নকে ল্যাপটপ দিচেছন আইকন পরিচালক এ বিষয়ে নয়ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো ভন্ডামি করেই টিকে আছে। আমাদের মতো গ্রামের গরীব মেধাবীরা ওদের কাছে জিম্মি। তিনি কোনও কোচিংয়ে পড়েছেন তা স্বীকার  না  করে শুধু জানিয়েছেন,যতই কোচিং কোচিং করে গলা ফাটাক না কেন, পড়াশোনা নিজেকেই করতে হয়। মনির-মল্লিক-জহির পরিচালিত ইউনিএইড কোচিংয়ের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন নুর হোসেন নয়ন

অন্যদিকে জমির উদ্দিনকে নিয়েও হচ্ছে টানা- হেঁচড়া। সাইফুর’স এবং ইউসিসি দাবি করছে জমির উদ্দিন তাদের ছাত্র। এ বিষয়ে ইউসিসির ফার্মগেট শাখার পরিচালক কামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, জমির আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পড়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে এতে কোনও সন্দেহ নেই। তাদের প্রোসপেক্টাসে জমিরের ছবি ও নিজ হাতে লেখা স্বীকারোক্তিমূলক বার্তা দেখিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নাম করা কোচিং সেন্টারকে ‌ক্লেইম করতেও একবার ভাবা উচিত।

অন্যদিকে সাইফুরস এর ফার্মগেট শাখার ইনচার্জ বাবুল হোসেন বলেন, জমিরের সঙ্গে তার চেনা-জানা অনেক আগে থেকেই। জমির তাদের কোচিংয়ে পড়েই চান্স পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু সাগর নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, জমির ও নয়ন কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে তার চেয়ে অবাক করা বিষয় হলো,একই সঙ্গে দু’জন শিক্ষার্থী একই ইউনিটে প্রথম হন কিভাবে? এদিকে নয়নের দাবি তিনি প্রথম স্থান অধিকারী। জমির কিভাবে প্রথম হলো?

এদিকে সাইফুর’স এর প্রোসপেক্টাসে বলা হয়েছে, ভার্সিটি ভর্তি কোচিং আসলে অনেকটা মিথ্যার জগত। জমিরের ছবি ছেপে বলা হয়েছে,এর ছবি যদি অন্য কোথাও দেখেন তাহলে বুঝবেন ওই কোচিং মিথ্যাচার করছে।

কিন্তু সাইফুর’স নিজেই মিথ্যাচার করছে এটার প্রমাণও রয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের হাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আলাদা করে কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ করে না। সম্মিলিত পরীক্ষার মার্কস মেধা তালিকা আকারে প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা গাণিতিক হিসাব করে জমিরের লিখিত মার্কস বের করে তাকে প্রথম বলে প্রকাশ করছে। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনে জমিরের ছবির নিচে ছোট করে লিখিত শব্দটি ব্যবহার করলেও অনেক স্থানেই তা দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জমির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি খ ইউনিটে প্রথম নয়,তৃতীয় হয়েছি। কোচিং সেন্টারগুলো কেনও এভাবে মিথ্যাচার করে তা বলতে পারবো না।  

এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউসিসি’র ফার্মগেট শাখার পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, জমির উদ্দিন তার এসএসসি, এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষায় সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে ৩য় স্থান অধিকারী। কিন্তু শুধু ভর্তি পরীক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। এই সূত্র ধরেই আমরা তাকে প্রথম স্থান অধিকারী বলছি।

কোচিং সেন্টারের এমন মিথ্যাচার, শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি করে তাদের আখের গোছানোসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রুখে দিতে সম্প্রতি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ও জেল জরিমানার বিধান রেখে শিক্ষা আইন ২০১৬ এর খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শিক্ষা আইনটি এখন পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত আইনি যাচাই-বাছাই চলছে। পাশ হলেই শিক্ষার যাবতীয় সমস্যা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ হবে।

আরও পড়ুন- 

‘প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’ নিয়ে প্রস্তুত অর্থমন্ত্রী

‘অবৈধ বাংলাদেশি’ খুঁজে তালিকা করছে আসাম

/আরএআর/ এমএসএম /

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে