গত দুই মাসে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সহিংস গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে এ সংগঠনটি। মঙ্গলবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে অ্যামনেস্টি।
বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার নাটোরের বনপাড়া গ্রামে সুনীল গোমেজ নামে ৬৫ বছর বয়সী এক খ্রিস্টান ব্যবসায়ীসহ গত দুই মাসে ১০ ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন আইএস এরইমধ্যে সে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে। আইএস দাবি করেছে, সুনীলের ওপর হামলা তাদের ‘বাংলাদেশে ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ’।
অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সুনীল হত্যার দিনেই চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাবুল আক্তার আগের হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে তদন্ত করতে থাকায় তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক চম্পা প্যাটেল অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে এলেও তাদের কার্যক্রমে তেমনটা মনে হয় না। ধারাবাহিক এ হত্যাকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তারা সুরক্ষার ডাক দিচ্ছেন। মাঝে মধ্যে হুমকির শিকার হওয়াদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষায় বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির লঙ্ঘন।’
সংকটকে এড়িয়ে যাওয়া কোনও সমাধান নয় উল্লেখ করে চম্পা প্যাটেল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে পর্যায়ক্রমে এসব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাতে হবে। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এখনও হুমকিতে আছেন তাদের সুরক্ষা দিতে হবে।’
অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে দায়মুক্তির যে পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে লোকজনের ওপর হুমকির সংখ্যা বাড়ছে। আর কর্তৃপক্ষ বারবারই হুমকির মুখে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সেক্যুলার ও এলজিবিটি অ্যাক্টিভিস্টরা যখন হুমকি পান তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদেরকে সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে না ক্ষেপানোর পরামর্শ দেন। মাঝে মাঝে হুমকিতে থাকা বাংলাদেশিদের এও বলা হয় যে, তারা নিজেরাই বিপদ ডেকে আনছেন।
১৪ এপ্রিল সমকামী ম্যাগাজিন রূপবানের সম্পাদক জুলহাজ মান্নানের হত্যার ঘটনাকে উল্লেখ করে চম্পা প্যাটেল জানান, যৌনতা কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে বৈষম্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা দূর করে এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই কেবল বাংলাদেশ সহিষ্ণুতায় চ্যাম্পিয়ন বলে দাবি করতে পারবে।
/এফইউ/এএ/এজে








