‘এমপি হত্যায় খালাস পেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়!’

উদিসা ইসলাম
১৫ জুন ২০১৬, ১৯:৩০আপডেট : ১৫ জুন ২০১৬, ১৯:৫০

আহসান উল্লাহ মাস্টার ও ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল বাবা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে ‘পুরোপুরি সন্তুষ্ট’ হতে পারেননি ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। তিনি বলেছেন, একজন এমপি হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালাস পেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যামামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আটক আছেন, নয়জন পলাতক। বুধবারের রায়ে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে মামলার আসামি বিএনপির নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
এমপি রাসেল তার পরিবারের সদস্যদের অনুভূতি, গত ১২ বছরে তাদের লড়াই এবং রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।
রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কেন- জানতে চাইলে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘১২ বছর হয়ে গেছে বাবাকে হারিয়েছি, জানি ফিরে পাব না। একজন সিটিং এমপিকে দিনে দুপুরে ব্রাশ ফায়ার করে প্রকাশ্য দিবালোকে কারা মেরেছে সবাই দেখেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, সবার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরে যে রায় হলো- তাতে পুরো সন্তুষ্ট হওয়া যায় না, আমরা আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাক্ষীতে যাদের নাম এসেছে তাদের খালাস হতে দেখলে আশাহত হতে হয় স্বাভাবিকভাবেই। এমপি হত্যার পর খালাস হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এরপর তো তারা ১০টা কিলিং করবে।’

রায়ের পর মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না আর তিনি কী বললেন, জানতে চাইলে রাসেল এমপি বলেন, ‘উনি তখন নামাজে ছিলেন। আমরা বিস্তারিত জানাইনি। তার লড়াই আমাদের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। স্বামী হারিয়েছেন, উনিতো চান ন্যয়বিচার। বারো বছর আগে আব্বাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন আমি ছোট ছিলাম। মা বুঝতে চান না কিছু, কেবল প্রশ্ন করেন, এতো দেরি কেন হচ্ছে। আমার দাদিও জীবিত। তিনি এখনও অপেক্ষায় আছেন বিচারের।’

একের পর এক রাজনৈতিক নেতা হত্যা হয়েছে এদেশে। তেমনই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের শিকার জনপ্রিয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং তার সন্তান হিসেবে তিনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন কিভাবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ২০০১- এর পরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বেশি হয়েছে। মমতাজ উদ্দিন, শাহ এমএস কিবরিয়ার মতো অর্থনীতিবিদ, আইভি রহমানকে হত্যা করা হলো, আমাদের নেত্রীর ওপর হামলা হলো। এর শেষ হওয়া চাই। বিচারক মহোদয়ও আজকে বলেছেন, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করা উচিত। হত্যাকাণ্ড কোনও সমাধান নয়। আমরা এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পরিবর্তন কিছুটা হলেও হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। মানুষকে হত্যা করে ভালো কিছু হয় না।’

/ইউআই/এজে

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম