দেশের ৩১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর ভরা অনুষ্ঠানেই ক্ষেপেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তৃতা চলাকালীন দেশের ৩১০টি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা তাদের স্কুলকে জাতীয়করণের দাবি জানালে শিক্ষকদের ওপর ক্ষেপে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনাদের উদ্দেশে আর কথা বলার রুচি হচ্ছে না।
রবিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সিটিটিউটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত আইসিটি ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য ৩১০টি স্কুলে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে মঞ্চে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন, দেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে সরকারের পরিকল্পনা এবং সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরেন। এসময় শিক্ষার আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকদেরই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন।
২০ থেকে ২৫ মিনিট বক্তৃতার এক পর্যায়ে দর্শক গ্যালারিতে থাকা শিক্ষকরা একসঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাদের স্কুল জাতীয়করণের আবেদন জানান। এই আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষামন্ত্রী ওই শিক্ষকদের ওপর চরমভাবে ক্ষেপে যান।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে আগেই বলেছি সবুর করেন। সবুরে মেওয়া ফলে। আপনাদের ৩১০টি স্কুলকে মডেল স্কুলে রূপান্তর করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার সবই করছি। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রজেক্টরসহ যাবতীয় জিনিসপত্র দিচ্ছি। কোথায় সরকারকে ধন্যবাদ দেবেন তা না করে আপনার স্কুল জাতীয়করণের দাবি তুলছেন।
শিক্ষকদের ওপর নাখোশ হয়ে তিনি আরও বলেন, এখন শিক্ষকদেরকে সবার উপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের বেতন বৃদ্ধি করেছি। আবার এখনই জাতীয়করণ চান। আপনাদের সঙ্গে আর কথা বলার রুচিই হচ্ছে না। আর কথা বলতে চাই না। এ কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী মঞ্চ ত্যাগ করে নিজের সিটে গিয়ে বসেন।
তখন শিক্ষকরা সবাই দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনকে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়- ‘আমরা সবাই বলিনি। উপরের গ্যালারি থেকে কেউ কেউ বলেছে।’
এ কথার উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী নিজের সিটে বসেই শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আমার কি চোখ নেই, আমি দেখেছি। আপনারা সবাই বলেছেন।
/আরএআর /এএইচ/
আরও পড়ুন: গুপ্তহত্যা ও গণগ্রেফতারে হেফাজতের উদ্বেগ








