জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য দ্রুত সংসদে বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী যুদ্ধাপরাধী দল। কারণ তারা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই। তাদের নিষিদ্ধ করা ছাড়া গত্যান্তর নেই। তাদের নিষিদ্ধের বিষয়ে আমাদের একটি প্রচেষ্টা ছিলে। আইনমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছিলেন। এই সেশনেই জামায়াত নিষিদ্ধ করতে আইন আসবে। আমি আশা করি দ্রুতই সেই আইন সংসদে উত্থাপিত হবে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন বোনাসের দাবি জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ না করলে আজ দেশ স্বাধীন হতো না। আমরা কেউ আজকের এ অবস্থানে থাকতে পারতাম না। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের মনের একটা আকুতি সামনে কয়েকদিন পরে ঈদ। সকলে ঈদ বোনাস পাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেন না। বৈশাখী ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি বড় দাবি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এই দুইদিন তাদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি ৪ হাজার টাকা করে ঈদ বোনাস ও ২ হাজার টাকা বৈশাখী ভাতা এবং স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দিলে বছরে মাত্র ৪০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে এই অর্থ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করবো।’
জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধুর খুনি এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত রয়েছে। তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তারা এখনও বঙ্গবন্ধুর রক্তের পেছনে লেগে আছে। তারা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার জন্য এফবিআইয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করেছে।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র না থাকার কারণেই নাকি এই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। যদি নির্বাচন দেওয়া হয় এই হত্যাকাণ্ড থেমে যাবে। তার মানে যারা এই হত্যাকারীদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। আঁতাত না থাকলে কীভাবে বলেন তারা ক্ষমতায় এলে হত্যাকান্ড থেমে যাবে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাপয়সার চিকিৎসার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বছর সব মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা পয়সায় দেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তবে, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের ন্যাক্কারজনক ভূমিকা অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাঠ্যসূচিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করেছি। কিন্তু ওই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের কথা পাঠ্যপুস্তকে নেই। এটা হতে পারে না। ওই কাপুরুষ যুদ্ধাপরাধীদের ১৯৭১ সালের ভূমিকা পরবর্তী প্রজন্ম সঠিকভাবে জানতে না পারলে তারা ভালো-মন্দ কীভাবে বিচার করবে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অনলাইনে অল্প দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের এমন আইডি কার্ড দেবো যাতে ৮ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। টাকা জাল করা যাবে কিন্তু এই কার্ড জাল করা যাবে না।’
/ইএইচএস/এসটি/
আরও পড়ুন:
নিবন্ধনের জন্য ১৭১৭ অনলাইন পত্রিকার আবেদন: সংসদে তথ্যমন্ত্রী
সংসদে প্রতিমন্ত্রী: ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেছে ৬৭ পয়সা








