রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার বেশির ভাগ রাস্তার মাথায় এখন শোভা পাচ্ছে ব্যারিকেড। যেগুলোতে লেখা, রাত ১১টার পর রাস্তা বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, ধানমণ্ডি মডেল থানা এবং ধানমণ্ডি বাড়ি মালিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্তে এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও নিশ্চিত করা যায়নি নিরাপত্তা। ধানমণ্ডির বাসিন্দারা বলছেন, এই ব্যারিকেডের মাধ্যমে তাদেরকে এক রকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই বিবিসি বাংলার উপস্থাপক শারমিন রমা ধানমণ্ডিতে ছিনতাইকারীর কবলে পরে মারাত্মক আহত হন। রমা জানান, লালমাটিয়া থেকে ধানমন্ডিতে ফেরার পথে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কাছে তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। রিকশার পাশে এসে দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী তার হাতব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। মোটরসাইকেলটি সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ধানমণ্ডি আট নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে ধানমন্ডির ৪ নম্বর, ৬ নম্বর, ৮ নম্বরসহ পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বার্জার পেইন্টসের সহযোগিতায় (স্পন্সর) রাস্তার প্রবেশ পথগুলোতে একটি করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় ব্যারিকেডগুলো তোলা থাকলেও রাতের বেলাতে সেটি আটকে যায়। আর এতে করে নানা দুর্ভোগে পড়ছেন ধানমন্ডিবাসীসহ এসব রাস্তা দিয়ে যারা যাতায়াত করেন তারাও।
৬ নম্বর রোডের ব্যারিকেডের পাশেই ফুল ব্যবসা করেন মো.শাজাহান খান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে এখানে বার্জারের লোকজন কাজ করেছে, আজ সকালে এসে দেখতে পেলাম এই ব্যারিকেড লাগানো হয়েছে। শুনেছি সিকিউরিটি দিতে এটা লাগানো হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন বলেন, কীসের নিরাপত্তা, কীসের কী? ঈদের আগে সব ধান্দা। এসব ব্যারিকেড দিয়েই যদি নিরাপত্তা দেওয়া যেতো তাহলে অনেক আগেই পুরো বাংলাদেশ ব্যারিকেডে ছেয়ে যেত। এটা নিরাপত্তা নয়, এটা আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখছে।
আরেক পথচারী কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, আমাদের পক্ষে বোঝার উপায় নেই আজ কোনদিকের রাস্তা খোলা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পুরো রাস্তা পার হয়ে এসে দেখতে পাই রাস্তা আটকানো, একদিন আমি দুইটি রাস্তা ঘুরে এসে তৃতীয় রাস্তাটি খোলা পেয়েছি। নিরাপত্তা যদি তারা দিতেই চায় তাহলে এভাবে ভোগান্তি দিয়ে নিরাপত্তা না দিক। আর ধানমন্ডির কোন কোন জায়গায় ছিনতাই হয় সেটা সবাই জানে। সেখানে পুলিশি নজরদারি বাড়ালেই দুর্ঘটনা কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে রাস্তা আটকে দেওয়া হলেও রাত তিনটার সময় যদি গুরুতর অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। কারণ, ব্যারিকেড দেওয়া স্থানে নেই কোনও তত্ত্বাবধায়ক। জরুরি প্রয়োজনে ব্যারিকেডটি তোলার প্রয়োজন হলেও সেখানে আমি কাউকে পাচ্ছি না।
একই কথা বলেন ধানমন্ডি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল। ব্যারিকেডে দেওয়া ফোন নম্বরটিতে ফোন করতেই ফোনকলটি রিসিভ করেন মো. বিল্লাল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, সাত মসজিদ রোডের পাশটাতে সবগুলো রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে সে বিষয়ে এখনও কিছুই স্পষ্ট নয়।
তবে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধানমন্ডির বাসিন্দাদের অনেক পথ ঘুরে নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হচ্ছে, এতে করে নানা দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে তাদেরকে জানালে নূরে আজম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তা তো একটু হবেই, শান্তি পেতে চাইলে কিছু সেক্রিফাইস করতেই হবে।
নিরাপত্তার জন্যে ব্যারিকেড দেওয়া হলেও ছিনতাই থেমে নেই জানালে তিনি বলেন, চেষ্টা করতে হবে,প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
কিন্তু এসব রাস্তা কেবল ধানমন্ডিবাসীর জন্যই নয়, এসব রাস্তা দিয়ে আরও অনেক এলাকার মানুষও যাতায়াত করেন, তাদের জন্য কী উপায় গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব রাস্তা খোলা থাকবে সে রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতে হবে তাদেরকে, এছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর নিয়মিত ডিউটিতে তাহলে কী কোন ঘাটতি ছিল যার কারণে রাস্তা রোধ করে নিরাপত্তা দিতে হবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদেরকে নিত্য নতুন পদ্ধতি নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োগ করতে হয়, কোনটা ইফেক্টিভ হবে, কী করে জনগণের শান্তি দিতে পারবো –সেটাই আমরা দেখছি।
/এমও/ এমএসএম /
আরও পড়ুন:
আদালতে দু’জনের জবানবন্দি: খুনিদের ভাড়া করে পুলিশের সোর্স মুছা, তার গুলিতেই মিতু খুন
সিজার তাভেল্লা হত্যা মামলা: বিএনপি নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র








