আর্টিজানের স্টাফদের ভাষ্য

‘হামলাকারী সাত-আট জন, তখন কাস্টমার ছিল প্রায় ২০ জন’

চৌধুরী আকবর হোসেন
০২ জুলাই ২০১৬, ১১:৩২ আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৬, ১৪:৫২

হলি আর্টিজান বেকারি

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হঠাৎ করে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। সাত থেকে আট জন এই হামলা চালায়। রেস্টুরেন্টে উপস্থিত কাস্টমার ও স্টাফদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিন তলা রেস্টুরেন্টের ছাদে উঠে লাফিয়ে ও দেয়াল টপকে স্টাফদের কয়েকজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আর্টিজানের হিসাবরক্ষণ শাখায় কাজ করেন সিজান চৌধুরী নামের একজন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হামলার সময় তিনি নিচ তলায় ছিলেন। ওই সময় রেস্টুরেন্টের তখনকার শিফটের প্রায় ২৫ জন স্টাফ ও ২০ জনের মতো কাস্টমার ছিলেন। কাস্টমারদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন বিদেশি ও পাঁচ থেকে ছয়জনের মতো বাংলাদেশি ছিলেন।

সেজান বলেন, আমি একজনের হাতে অস্ত্র দেখেছি। আমার অন্য সহকর্মীরা জানিয়েছেন হামলাকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট জনের মতো হবে। তাদের সবার বয়সই হবে ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। আমি নিচতলায় ছিলাম। পেছনে দরজা দিয়ে বের হয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতে পেরেছি। হামলা শুরুর পর পালাতে ২০ মিনিটের মতো লেগেছে আমার।

দেয়াল টপকানোর সময় কাটাতারে লেগে হাত ছিড়ে গেছে বলেও জানান সিজান। আর্টিজানের সাত থেকে আট জন স্টাফ ওই সময় পালাতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ভেঙেছে। 

হলি আর্টিজান বেকারি মইনুদ্দিন নামের আরেক স্টাফ জানান, হামলার সময় তিনি নিচ তলাতেই ছিলেন। সামনের দরজা দিয়ে ঢোকে হামলাকারীরা। ঢুকেই গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড় দেন। তাদের কয়েকজন তিন তলার ছাদে উঠে লাফ দেন। এর মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ভেঙেছে এবং ছিলে-কেটে গেছে।

তিনি বলেন, ‘গুলি শুরু হওয়ার পরই ভয়ে পালাই। হামলাকারীদের দিয়ে আর খেয়াল করার সুযোগ ছিল না। ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়।’

শামসু নামের আরেকজন জানান, হামলার সময় রেস্টুরেন্টে মোটামুটি ভালোই কাস্টমার ছিল। খাওয়া-দাওয়া চলছিল। হামলার ভয়াবহতায় তারা আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ পাননি।

মইনুদ্দিন ও শামসু দুজনেই জানান, রেস্টুরেন্টে ওইসময় কর্মরত দুই ব্রিটিশ কুকও তাদের সঙ্গে পালাতে পেরেছেন।

আর্টিজানে কাজ করেন সাইফুল নামের আরেকজন কুক। তার ভায়রা ভাই কবির জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত সাইফুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাদের কথা হয়। কিন্তু এরপর থেকে ফোন কেউ ধরছে না। তিনি আর্টিজানের বাইরে অপেক্ষা করছেন কোনও খোঁজ পাওয়ার আশায়।

উল্লেখ্য শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলি আর্টিজানে হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের এই রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনায় ডিবির সহকারী (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশসহ অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন- 

গুলশানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কমান্ডো অভিযান শুরু, উদ্ধার ১
যেভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রবিউল ও সালাহউদ্দিন

গুলশানে ২৪ জনকে হত্যার দাবি আইএসের

/এফএস/   

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দুই বিমানবন্দরে স্বর্ণসহ ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ 
দুই বিমানবন্দরে স্বর্ণসহ ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ 
সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা: তদন্ত ও বিচার দাবি এইচআরএসএসের
সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা: তদন্ত ও বিচার দাবি এইচআরএসএসের
কার্যকরের আগেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প
কার্যকরের আগেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩৫
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩৫
সর্বাধিক পঠিত
অপুর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস, কে এই আদনান
অপুর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস, কে এই আদনান
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
শনিবার জবিতে আবারও গরুভোজের আয়োজন, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
শনিবার জবিতে আবারও গরুভোজের আয়োজন, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
পুরো রিসোর্ট ভস্মীভূত, পাশেই লাশের সারি
পুরো রিসোর্ট ভস্মীভূত, পাশেই লাশের সারি