কারিগরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা-কর্মসংস্থানের সুযোগও কম

রশিদ আল রুহানী
১৩ জুলাই ২০১৬, ১০:৫৮আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৬, ১১:০৭

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কারিগরি শিক্ষা দক্ষ জনশক্তি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে অভিহিত করা হয়। অথচ কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ,বাস্তবতা ভিন্ন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

তারা বলছেন,ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ডুয়েট) ছাড়া কারিগরি ডিপ্লোমাধারী লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠান মাত্র একটি এবং সেখানে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষায় ডিগ্রি নেওয়ার পরও তাদের জন্য দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ ঠিকমতো দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।
জানা গেছে,শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষার্থীদের দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নিলেও তা এখনও পর্যন্ত কোনোভাবেই কার্যকর করতে পারেনি।  সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও তাদের ভর্তির কোনও সুযোগ নেই। ফলে, হাজার হাজার শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,ক্রেডিট সমন্বয়ের মাধ্যমে স্মাতক ও স্মাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে ২০১০ সালে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো,বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেনি। এমন কী মন্ত্রণালয়কে ওই চিঠির কোনও উত্তর এবং মতামতও পাঠায়নি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে,দেশে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে চার শতাধিক, যেখানে প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে, চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ৪৯টি সরকারি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং,৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বগুড়ায় ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ আছে একটি।

এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় দেড় লাখ। প্রতি বছর চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা শেষ করে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। অথচ ডুয়েটে আসন সংখ্যা এক হাজারেরও কম।

এমন আসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বহু বছরের অভিযোগ,কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন।

সরকারি কারিগরি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য অনেকবার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, আবেদন করেছি কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। একমাত্র ডুয়েট দিয়ে এত শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মাঝপথে এসে হতাশ হয়ে পড়েন এবং ঝরে যান। তারা আর এই শিক্ষা নিতে চাননা। অথচ উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলে এই শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো অবস্থানে যেতে পারেন।

এদিকে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে চাকরির জন্য ছুটে বেড়াতে হয় এই সব ডিপ্লোমাধারীদের। অথচ সরকার বারবার বলে আসছে,কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে চাকরির অভাব হয়না। অথচ এখন পর্যন্ত পলিটেকনিক থেকে পাস করা ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের কোনও পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ অবস্থায় এখন চোখে রীতিমতো অন্ধকার দেখছেন ডিপ্লোমাধারীরা।

ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের ১০টি পলিটেকনিকের এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক যুগেও সৃষ্টি করা হয়নি কর্মসংস্থানের কোনও পদ। দুই/একবার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনও সুখবর মেলেনি।

তারা বলছেন,বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষায় এ কোর্সের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ প্রকৌশলীদের কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। অথচ দেশে ২০০৫ সালে কোর্সটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবছর এ বিষয়ে দক্ষ প্রকৌশলী চার বছরের ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। অথচ কপালে জুটছে বেকারত্ব। তাদের উচ্চ শিক্ষার কোনও সুযোগও নেই।

সরকারি কারিগরি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী বের হবে কিন্তু তাদের যেমন নেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ, তেমনি নেই কর্মসংস্থানের সুযোগও। সরকারের অবহেলার কারণেই আজ ডিপ্লোমাধারীদের এই অবস্থা।

তিনি বলেন,দেশে পরিবেশ অধিদফতর রয়েছে কিন্তু সেখানে পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ নেই। এছাড়া, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ওয়াসা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিল্পকারখানা,বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি),দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে পরিবেশ প্রকৌশলী লাগে অথচ তাদের কোথাও নিয়োগ দেওয়া হয় না। তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পায়, সেটাও খুব স্বল্প মাত্রায়। সরকারের উচিত ডিপ্লোমাধারীদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া।

আরএআর/এবি/ আপ- এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

১০০ কারিগরি কলেজ স্থাপনে ২২৮১ কোটি টাকার প্রকল্প

কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান