জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মদিন আজ সোমবার। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে স্বামী বঙ্গবন্ধু, তিন ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও আত্মীয়-স্বজনসহ দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে তিনি শাহাদতবরণ করেন।
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বেলা ১১টায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। বাদ আসর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। যুবলীগ দিনটি উপলক্ষে পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। যুব মহিলা লীগ এদিন পথশিশুদের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ করবে।
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আওয়ামী লীগসহ এ দেশের প্রগতিশীল মানুষের কাছে বঙ্গমাতা হিসেবে পরিচিত। মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি বাবা ও পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। তার ডাক নাম রেনু। বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। দাদা শেখ কাসেম শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিশোরী বয়সেই বেগম ফজিলাতুন্নেছার বিবাহ দেন। তখন থেকে বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে শাশুড়ি (বঙ্গবন্ধুর মা) সাহেরা খাতুন নিজের সন্তানদের সঙ্গে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া করেন।
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বান্তকরণে সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময় আন্দোলনের প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাতের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন ফজিলাতুন্নেছা। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সে নির্দেশনা জানাতেন, নেপথ্যে থেকে তিনি ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস, মনোবল ও প্রেরণা জুগিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই মহীয়সী নারী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে দেশ ও জাতির সেবা করে গেছেন।
এদিকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
আরো পড়তে পারেন: ঐক্য-চেষ্টার বৈঠক এখন রবের বাসায়!
ইএইচএস/এমএসএম/








