সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বিদেশিদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে, বৈঠক কমিটি বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে কালচারাল উইংয়ের পরিবের্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কালচারাল সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ করে। এর অংশ হিসেবে দ্রুততার সাথে কলকাতা, লন্ডন ও নিউইয়র্কে কালচারাল সেন্টার স্থাপনের সুপারিশও করা হয়।
কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মো. শাহরিয়ার আলম, মুহাম্মদ ফারুক খান ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বৈঠকে হলি আর্টিজানে হামলাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই হামলার পরে বাংলাদেশের বিষয়ে বিদেশিদের যে অবস্থান সেটা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বিদেশিরা যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, সেটা নিয়ে আলোচনা হয় উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান বলেন, আমরা কমিটির পক্ষ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গি ইস্যুতে বিদেশিদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও তাদের থেকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেওয়া যায় কিনা সেটা বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছি।
এদিকে, মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিশনগুলো পরিচালনায় ৫টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো, সমন্বয়হীনতা, জনবল সংকট, মিশনে কর্মরত ব্যক্তিদের সন্তাদের জন্য শিক্ষাভাতা কম, বৈদেশিক ভাতা ও আপ্যায়ন ভাতা সময়পোযোগী নয় এবং মিশনগুলোতে লজিসটিকস অপ্রতুলতা।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কূটনৈতিক উইংয়ের পাশাপাশি কমার্স, ইকোনমিক উইং, প্রেসইউং, ডিফেন্স উইং, লেবার উইং মিশন প্রধানের নির্দেশনা পালনে সচেষ্ট থাকেন না।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাভাতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ভাতা ও আপ্যায়নভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করে।
বৈঠকে মিশনগুলোতে কাজের গতিশীলতা আনয়নের জন্য মিশনগুলোর সব উইং প্রধানদের মিশন প্রধানের নিদের্শনানুযায়ী কাজ করার সুপারিশ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট নিরসনে শূন্যপদে অতিদ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে বৈঠক।
/ইএইচএস/এবি/








