বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় থেকে নিও জেএমবির যে পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় তারা সবাই আত্মঘাতী হামলাকারী বলে দাবি করেছে পুলিশ। গুলশান হামলায় পাচঁজন ও কল্যাণপুরে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে তাদের উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আনা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম শুক্রবার (১২ আগস্ট) এসব তথ্য জানান।
শুক্রবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মনিরুল জানান, ‘এরা সবাই আত্মঘাতী হামলাকারী। তাদের উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানীতে হামলা চালানোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। গুলশান হামলায় পাঁচজন ও কল্যাণপুরে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর এই নিও জেএমবিদের ঢাকায় আনা হয়। তাদের কাছ থেকে কল্যাণপুরের বিষয় আরও তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই বাছাই করা হবে।’
মনিরুল আরও জানান, ‘তারা ঢাকার কোনও বাসায় উঠে তাদের সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করতো। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নান্নু, সজবী, ইমরান ও জিন্সিহ আরও চারজন পালিয়ে যায়। এসব তাদের সাংগঠনিক নাম। তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে নিও জেএমবির পাঁচ সদস্যকে রাজধানীর মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় থেকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আতিকুর রহমান ওরফে আইটি আতিক, মো. আব্দুল করিম বুলবুল ওরফে ডা. বুলবুল, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. মতিউর রহমান ও শাহিনুর রহমান হিমেল ওরফে তারেক। তাদের কাছ থেকে ২৫ টি ডেটোনেটর ও ৮৭৫ গ্রাম জেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত এই পাঁচজন বেশ কয়েকমাস আগে এই বাড়ি ছাড়েন বলেও জানান মনিরুল।
মনিরুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বা জেএমবির একটি গ্রুপ কখনও জসীম উদ্দিন রাহমানির নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সবসময় নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের উত্থানের পর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে গত একবছর ধরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন-
সাত প্রকাশের জবানিতে গুলশান হামলার ভয়াবহ চিত্র
'ভারতে আটক ৩৬ শিশুকে আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত মাসুম'
/এআরআর/এফএস/








