গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহার করতে চায় ডিজিএফআই। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সংস্থাটি প্রতিকূল পরিবেশে মানুষবিহীন উড়ন্ত যান (ড্রোন) ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথা জানায়।
সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও হোসনে আরা বেগম অংশ নেন।
বৈঠকের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) প্রতিকূল পরিবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানুষবিহীন উড়ন্ত যান (ড্রোন) ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের নিরাপত্তায় অ্যান্টি ড্রোন (ড্রোন নাশক) পদ্ধতি সংযোজন করা হবে।
বৈঠক শেষে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য হোসেনে আরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডিজিএফআই ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।’
কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, ডিজিএফআইয়ের কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে গত অর্থবছরে ৩৭টি জিপ, ৬টি পিকআপ ভ্যান, ২৭টি কার ও একটি মাইক্রোবাস কেনা হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে ডিজিএফআই-এর আটটি নতুন শাখা খেলার অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও পটুয়াখালীতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাড়া বাড়িতে শাখার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে শাখার কাজ চলমান আছে। তবে এসব শাখা অফিসের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জাতীয় স্বার্থে দেশের বাইরে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ও সামরিক কূটনীতিক সক্ষমতা বাড়াতে ২০টি প্রতিরক্ষা শাখা সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে ডিজিএফআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, কাকরাইলে (সেগুন বাগিচা এলাকায়) সংস্থাটির সাড়ে তিন একর জমির মধ্যে এক একর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি জমি প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর নির্মাণের জন্য হস্তান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়েছে। তাই সংস্থাটির কাজের সুবিধার্থে সুবিধাজনক স্থানে এক একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি একনেকে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সংস্থায় কর্মরত সবার জন্য ৩০ শতাংশ বিশেষ ভাতা অনুমোদন করেছেন।
আরও পড়ুন: জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ডদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
/ইএইচএস/এমএনএইচ/








