বগুড়ার আদমদীঘিতে গৃহবধূ মানসী রাণী গুণ হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অমর একুশ’র পাদদেশে আয়োজিত এ মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে মানসীর খালাতো ভাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শুভ্র কান্তি দে বলেন, ‘২ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতনে মানসীর মৃত্যু হয়। মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা মানসী পানি চাইলে খুনিরা তার মুখে বিষ ঢেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়। জনগণের রক্ষক পুলিশের দারস্থ হলে তারা খুনিদের বাঁচাতে একটি দুর্বল মামলা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, ‘মানসীর স্বামীসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মানুষরূপী পশুদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনও মানসীকে যাতে এভাবে জীবন দিতে না হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘অন্যায়ভাবে যৌতুকের জন্য আর কোনও নারীকে যাতে প্রাণ দিতে না হয় সেজন্য ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
একই দাবিতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ।
মানববন্ধনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল আহসান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সৈয়দ হাফিজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু, মাফরুহী সাত্তার, বাংলা বিভাগের শামীমা সুলতানাসহ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে পিতৃ-মাতৃহীন মানসীর মৃত্যু হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের সুপারিশে আদমদীঘি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণা ও সহায়তার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন মানসীর মামা নির্মর চন্দ্র সরকার। মামলায় মানসীর স্বামী প্রবীর চন্দ্র সরকার, ভাসুর কাঞ্চন চন্দ্র সরকার, শ্বাশুড়ি প্রতীমা রাণী সরকার ও ননদ কৃষ্ণা বিশ্বাসকে আসামী করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
/এইচকে/








