বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, স্পিকার ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে।
বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫ এবং বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি বিষয়ক ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে এক বাণীতে বলেছেন, ‘সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে ‘দ্বৈত শাসন’ বিচারবিভাগের কাজে বিঘ্ন ঘটায়’।
রিট দায়েরের যৌক্তিকতা প্রশ্নে আবেদনকারী বলেন, ‘মূল সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব ছিল সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৪র্থ সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্টের পরিবর্তে ওই ক্ষমতা দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। এটি সাংঘর্ষিক’।
উল্লেখ্য, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকের নবম বর্ষপূর্তিতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাণীতে ৩১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে।’
ওই বাণীতে আরও বলা হয়, ‘‘অন্যদিকে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। ১১৬ অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ‘দ্বৈত শাসনের’ ফলে বহু জেলায় শূন্যপদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়।’
/ইউআই /এপিএইচ/
আরও পড়ুন: শর্ত মানলে তরঙ্গ ফেরত পাবে সিটিসেল








