উদ্বাস্তু সমস্যায় মিয়ানমার শীর্ষে

শেখ শাহরিয়ার জামান
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৩৩আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৩৬

মিয়ানমারে উদ্বাস্তু। ছবি- ডয়েচ ভেলে প্রতি বছর মিয়ানমার থেকে বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে ভিন দেশে পাড়ি জমায়। এ কারণে অনেক দিন ধরেই মিয়ানমার উদ্বাস্তু সংক্রান্ত সমস্যায় শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে।

অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর পার্সপেক্টিভ অন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ২০১৭-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, মিয়ানমার অনেক বছর ধরেই উদ্বাস্তু সংক্রান্ত সমস্যায় শীর্ষস্থানীয় দেশ। এ রিপোর্টের মূল বিষয় হচ্ছে অভিবাসন।

আজ রবিবার ঢাকায় গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি)-এর নবম শীর্ষ সম্মেলনে এ রিপোর্ট পেশ করা হয়।

রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৫ সালে মিয়ানমারের সাড়ে চার লাখ নাগরিক উদ্বাস্তু বা দেশটির অভ্যন্তরে উদ্বাস্তুদের মতো সঙ্কটজনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল।

রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়, পৃথিবীর মোট উদ্বাস্তুর ৮৭ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৭৮ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু হলে তারা দলে দলে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। আবার ১৯৯২ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার অত্যাচার শুরু হলে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসাবে আসতে শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১২ সালে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতা শুরু হলে সামরিক জান্তার পৃষ্ঠপোষকতায় রাখাইনের বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার শুরু করে এবং তারা পুনরায় বাংলাদেশে আসা শুরু করে। বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছে।’

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের তিনটি পুলিশ চৌকিতে আক্রমণের ফলে ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এরপরে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু করলে তারা দলে দলে বাংলাদেশে আসা শুরু করে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য আছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক লেসি সুইং জানান, মিয়ানমারের উল্লখেযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয় এবং এই সমস্যার রাজনৈতিক দিক নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না।

জিএফএমডি-এর নবম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আজ সম্মেলনে লেসি সুইং বলেন, ‘কক্সবাজার অঞ্চলে যে সব রোহিঙ্গা এখন সীমান্ত অতিক্রম করছে এবং যারা সেখানে আছে তাদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সহায়তা দিচ্ছি আমরা।’

মিয়ানমারের সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা। তবে আমি এই সমস্যার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। এটা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয়।’

/এএআর/আপ-এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম