সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেন, ‘এই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে এর কারণ ও অর্থের উৎস খুঁজে বের করুন। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ একটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনক সমস্যা। সভ্যতাবিনাশী এই প্রবণতা নির্মূলে এর কারণ, উৎস ও প্রতিকারের উপায় বের করতে হবে। সরকার জঙ্গি নির্মূল ও সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০১৬’ (এনডিসি) এবং ‘আমর্ড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৬’ (এএফডব্লিউসি)-এর গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিকে অতীতের মতো সন্ত্রাস বা বিছিন্নতাবাদী তৎপরতার জন্য আর কখনো কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রেখে নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তাদের অর্থনীতিকে বহুমুখী ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত সমস্যা নিরসনে তাঁর সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত আঞ্চলিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা। ইতোমধ্যে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের সূচনা প্রত্যক্ষ করেছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত আট বছরে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিসহ পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্ব-রাজনীতিতে এই রাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আঞ্চলিক ঐক্য উন্নয়নে বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের অর্থনৈতিক স্ব-নির্ভরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের অনুসৃত নীতি ও কৌশল গতির সঞ্চার করেছে। দেশের অর্থনীতির ক্রমাগত বিকাশ ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সফলতার পাশাপাশি কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান।’
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে প্রধানিমন্ত্রী বলেন, ‘সদ্যসমাপ্ত প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে আপনারা সে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে যথাযথ সহায়তা করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি জেনে আনন্দিত যে- আপনারা বাংলাদেশ ও সমকালীন বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। যার মধ্যে সামাজিক ও রাজনীতি বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয় রয়েছে। আপনারা দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে ভবিষ্যত কর্মপন্থা সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করেছেন। যার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে আরও বেগবান করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা মানুষের মাঝে পারস্পারিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে। যা জীবনযাত্রাকে সহজতর করছে। আবার মাঝে মাঝে প্রতিকুল পরিবেশও তৈরি করছে। তাই, আমরা জাতীয় অগ্রগতি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারকেও উৎসাহিত করছি। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই আপনাদের প্রশিক্ষণ সূচি প্রণীত হয়েছে।’
সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৯৬ সালের আগে নিজস্ব কোনও প্রতিষ্ঠান ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের উচ্চশিক্ষার কথা বিবেচনা করে সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকালে এনডিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের খ্যাতি ও বহির্বিশ্বে এর অবস্থান আমাদের জন্য সত্যিই একটি গর্বের বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরেই নয়, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ স্ট্র্যাটেজিক স্তরের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে অসামরিক পরিমণ্ডলেও সমাদৃত হচ্ছে। সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।’
এ বছরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কোর্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ ও ফরেন সার্ভিসের ৫২ জন সদস্য এবং ১২টি বন্ধু রাষ্ট্রের ২৬ জন সদস্য অংশ নেন। এছাড়া আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে সেনাবাহিনী থেকে ২৫ জন লে. কর্নেল, নৌবাহিনী থেকে একজন ক্যাপ্টেন এবং চারজন কমান্ডার এবং বিমানবাহিনী থেকে দু’জন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং তিনজন উইং কমান্ডার অংশ নেন। সূত্র: বাসস
/এমএনএইচ/








