আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ জন প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় ১৪৬ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করেছে সুজন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজন জানায়, ১৪৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ জন প্রার্থীই পেশায় ব্যবসায়ী। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ জন প্রার্থী পেশায় আইনজীবী।
প্রার্থীদের অধিকাংশই অর্থাৎ ৭৬ জন বছরে ৫ লাখ টাকার নীচে আয় করেন। অন্যদিকে কোটি টাকার ওপরে আয় করেন ছয় জন প্রার্থী। আবার ৯ জন প্রার্থী তাদের আয়ের হিসাবই দেননি।
প্রার্থীদের আয়করের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ৫০ জন প্রার্থীর আয়করের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্য ২১ জন ১০ হাজার টাকার কম এবং ১১ জন এক লাখের বেশি টাকা কর প্রদান করেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সকল প্রার্থীর মধ্যে ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা বা তার কম টাকা কর প্রদানকারী প্রার্থী রয়েছেন ১৯ জন। ১০ লাখ টাকার বেশি কর প্রদানকারী রয়েছেন তিন জন।
সুজন আরও জানায়, মাত্র ১৪ জন ঋণ গ্রহীতার মধ্যে পাঁচ জন কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন।
দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এই জেলা পরিষদ নির্বাচন আইন গত কয়েক বছরে কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। সেই সংশোধিত আইনানুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইনে বর্ণিত নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে সুজন একমত না, তাও পরিষ্কার করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সুজনের পক্ষ থেকে পরবর্তী মেয়াদের নির্বাচনের পূর্বেই তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশ তিনটি:
১. নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
২. সংসদ সদস্যদের জেলা পরিষদের উপদেষ্টা রাখার বিধান পরিবর্তন করুন।
৩. চেয়ারম্যানসহ জেলা পরিষদের সদস্যরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই সাময়িক বরখাস্তের বিধান বাতিল করুন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়,যেসকল নির্বাচনে হলফনামা দাখিলের বিধান রয়েছে, ভবিষ্যতে তার প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা, সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস ও ব্যয়ের হিসাব এবং আয়কর বিবরণী দ্রুত ও যথাযথভাবে সন্নিবেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটেও দ্রুত সংশোধন করে আপডেট রাখুন।
আরএআর/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
জেলা পরিষদ নির্বাচন: স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি ১৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী








