এক দশক আগে বইমেলা উন্মুক্ত ছিল। তখন নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতিই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবাচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউনের আজকের বৈঠকি ‘হরেক রকম বই, হরেক রকম মেলা’ আলোচনায় বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল একথা বলেন। তিনি এও বলেন, তবে এ পরিস্থিতিতে পুলিশ বই পড়ে নজরদারি করার বিষয়টি কতটা জরুরি এবং পুলিশ কীভাবে এত সৃজনশীল হলো এটি প্রশ্ন করার আছে।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, এরচেয়ে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না। লেখক ও কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টি বলেন, এটি একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। যে পুলিশরা লেখেনও তাদের বই যদি আমি পড়ে ঠিক-ভুল বলতে চাই সেটা করতে দিবে? ভুলে গেলে চলবে না, আমরা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করছি পৃথিবীময়। গবেষক ও কলামিস্ট ফারহানা মান্নান মনে করেন, পুলিশ বই পড়তে চাইলে পড়ুক। না পড়ে মন্তব্য করার চেয়ে পড়া ভাল।
একই প্রশ্নের জবাবে প্রভাষ আমিন বলেন, অভিজিৎ ও দীপন নিহত হওয়ার পর ভয় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পর্যন্ত যেতেই হবে না, প্রকাশকই এখন আর একটু ভিন্নস্বরের বই ছাপাবে না। কেন বাংলা একাডেমি এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে প্রশ্নে লেখক আনিসুল হক বলেন, বইমেলায় মাদ্রাসার ছেলে গেলে ধরে এটা মৌলবাদী অপপ্রচার। গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগে সবচেয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন আমি পাই মাদ্রাসার ছাত্রর কাছ থেকেও পাই। ভুলে গেলে চলবে না আমি যখন অভিভাবক হিসেবে কিশোরদের পিকনিকে নিয়ে যাচ্ছি তখন আমি নানা বিধিনিষেধ জারি করছি আর পরে আমি যখন অন্যদের তদারকিতে যাচ্ছি তখন ওই কাজগুলোই আমি করছি। ফলে আয়োজক হিসেবে বাংলা একাডেমির চিন্তা থাকে মেলাটা ভালোভাবে শেষ করার।
মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বাংলা ট্রিবিউনের এই বৈঠকিতে অংশ নিচ্ছেন, এমিরিটাস প্রফেসর, লেখক ও গবেষক ড. রফিকুল ইসলাম, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, লেখক ও কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টি, কলামিস্ট ও শিক্ষা বিষয়ক গবেষক ফারহানা মান্নান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন, এবং বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।
বৈঠকি চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। সরাসরি বৈঠকি দেখতে চোখ রাখুন চ্যানেল ৭১ এর পর্দায় এবং এ সম্পর্কিত সব সংবাদ পড়ুন www.banglatribune.com এ।
/ইউআই/এফএএন/








