মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর পরিকল্পনায় এইচআরডব্লিউ’র উদ্বেগ

বিদেশ ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:২৫আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৫

এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর সরকারি প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইট ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছ, বিদ্যমান আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় তা কমিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছে সংসদ।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ‘নিক্তিতে আটকে আছে নারীদের অধিকার: বাল্যবিয়েকে স্বীকৃতি দিতে ক্ষতিকর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশে লৈঙ্গিক বৈষম্য এখনও এতটাই প্রকট যে প্রতিটা ক্ষেত্রে নারীরা এর শিকার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পড়াশোনা থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু, মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে রক্ষণাত্মক মনোভাব দেখিয়ে তা কমানোর পরিকল্পনা করছেন।

প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি এনজিওর এক নেতা গোছের কর্মকর্তার মন্তব্য দিয়ে। তিনি সোজাসাপ্টা দাবি করেছেন, ‘এখানে মেয়েদের উঠে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।’ যদিও তার নাম এবং কী কারণে তার এমন কঠোর মনোভাব সে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখলেও এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আরও কমিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছে জাতীয় সংসদ। বর্তমানে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১। নতুন আইনে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে’ ১৮ বছরের আগেই বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে বাল্য বিয়ে বন্ধে সরকার দেশব্যাপী দরকারি সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হবে বলে ২০১৬ সালের জুনে দেওয়া এক বক্তব্যে অঙ্গীকারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু, এত কিছুর পরেও মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত তার এ প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, বিয়ের আগেই যে কোনও পরিস্থিতিতে কোনও মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে অবশ্যই বিয়ের অনুমতি দিতে হবে, তা না হলে ওই মেয়ে ও তার সন্তান বৈষম্যের শিকার হবে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে বিভিন্ন এনজিও। তারা সরকারকে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এনজিওগুলোর এমন প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তারা কেবল ঢাকায় থাকেন। গ্রামের সমাজ বাস্তবতা বিষয়ে কোনও ধারণাই তাদের নেই।’

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করে আসছিল যে এনজিওগুলো তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিয়ের সুযোগের কথা বলা হলেও আদতে ১৬ বছরকেই বিয়ের বয়স হিসেবে এখন থেকে ভাবতে শুরু করবেন অভিভাবকরা, যা এড়ানো সহজ হবে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার কথা তুলে বক্তব্য দিলেও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে কিশোরীদের গর্ভবতী হওয়া কিংবা এমন মা ও সন্তানদের বিষয়ে সরকারের কোনও পরিসংখ্যানই নেই।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত আইনেই বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠান থামানো বা বন্ধ করে দিতে সক্ষম হচ্ছেন নারী অধিকারকর্মীরা। দেশজুড়ে এনজিওর মাঠকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করছেন, তারা অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন এটি কেবল বেআইনিই নয়, কম বয়সে বিয়ে হলে তা মেয়ের শারীরিক নানা ধরনের ঝুঁকি এমনকি মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া অল্প বয়সে বিয়ে হলে দারিদ্র্য ও সাংসারিক অশান্তিরও সৃষ্টি হতে পারে।

কিন্তু, নতুন প্রস্তাবিত আইনে বাল্য বিয়ের বিধান থাকায়, নারী অধিকারকর্মীরা বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ও তার সরকার বিভিন্ন সময়ে এতে অবদান রাখার জন্য এনজিওগুলোকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, সরকার একা এই কাজ করতে পারবে না, এতে এনজিওসহ বিভিন্ন মহলের সমর্থন প্রয়োজন।

তবে নারী অধিকারকর্মীদের সমালোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের দায়িত্ব খুবই সীমিত। তারা কিছু অর্থ কামানোর জন্য এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হন। তবে যতক্ষণ আমরা ক্ষমতায় আছি, ততক্ষণ আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।’ 

শেষে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং এনজিওর উভয়েরই দায়িত্ব হচ্ছে শহর ও গ্রামের নারী ও মেয়েদের সুরক্ষা করা। আর এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত করতে বর্তমান সরকারকে অবশ্যই খসড়া আইন থেকে ১৮ বছরের আগে বিয়ের অনুমতি দেওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে।

/এসএ/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের