প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭’ আরও যাত্রীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সমিতির পক্ষ থেকে ২৮ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৯ মার্চ) এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালক, মালিক, যাত্রী, হেলপার, কন্ডাক্টার, সড়ক নির্মাণ প্রকৌশলী, সড়ক সুপারভিশন কর্মকর্তা, ঠিকাদার, বিলবোর্ড স্থাপনকারী, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বা অন্য যেকোনও ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখাসহ এই সব অপরাধের মামলা ৩০২ ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
‘সড়ক দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠন করতে হবে, যেখান থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
গণপরিবহনে নিবন্ধন নম্বর, রুট নম্বর, কোম্পানির লেগো ছাড়া যাত্রীর সঙ্গে প্রতারণামূলক শব্দ (যেমন- সিটিং সার্ভিস, গেইট লক সার্ভিস, ডাইরেক্ট সার্ভিস, স্পেশাল সার্ভিস, সময় নিয়ন্ত্রণ সার্ভিস, কম সটপেজ সার্ভিস, ক্লোজডোর সার্ভিস ইত্যাদি) লেখা যাবে না। পিক আওয়ারে দরজা বন্ধ করে গণপরিবহন চালানো যাবে না।
যাত্রী ছাউনী ও বাস টার্মিনালে ‘ডিজিটাল যাত্রীসেবা তথ্যকেন্দ্র’ চালু করার বিষয়টিও আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সব শ্রেণীর গণপরিবহনে বিনাভাড়ায় যাতায়াতের বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ছাত্রছাত্রী ও প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতে সব শ্রেণির গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
রোড ফ্রেনচাইজ সিস্টেম ও গণপরিবহনের জন্য আলাদা লেইন রাখার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মহানগর, জেলা ও বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি ও গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ ও ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটিতে মালিক শ্রমিকদের সংখ্যানুপাতে যাত্রী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলসহ জেল-জরিমানা বা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করা যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের শাস্তি কঠোর করতে হবে। বাস স্টপেজ ও জেব্রা ক্রসিং অমান্য করলে গাড়ী-পথচারী উভয়ের শাস্তির বিধান করতে হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত আইনে দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলে এই আইনটি জনবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব আইনে পরিণত হবে। সড়ক পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য বন্ধ হবে।
ওএফ/এমএ








