জঙ্গিবাদের মামলাগুলোতে জামিন নিয়ে পালিয়ে থাকা জঙ্গিদের ফেরত আনতে ব্যর্থ হলে তাদের জামিনদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘এসব আসামিদের জামিনদার দেশের শীর্ষ কোনও নাগরিক হতে পারেন, বিশিষ্ট ব্যক্তি হতে পারেন, কোনও আইনজীবী হতে পারেন। তবে জামিনদার যেই হোন না কেন, তাদের তাগাদা দেওয়া হবে যেন জামিন নিয়ে পালিয়ে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে এনে আইনের কাছে বুঝিয়ে দেন। জামিনদাররা আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ বুধবার (১২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সভার সিদ্ধান্তগুলোর কথা জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস খুঁজতে ব্যাংকগুলোতে সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেলে ও সন্দেহভাজন লেনদেন হলে এসব অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী এসব তথ্য খতিয়ে দেখবে। এছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের অর্থ জঙ্গিদের উৎসাহ দেওয়ার মতো কোনও কাজে ব্যয় হয় কিনা, সেটাও গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখবে।’
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি মনিটরিংয়ে রাখবে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী। এছাড়া, ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে জঙ্গি সংক্রান্ত পোস্টগুলোকেও নজরদারির মধ্যে রাখবে গোয়েন্দা বাহিনী।’
এর আগে যারা অবৈধভাবে বিদেশে গিয়েছিলেন এবং পরে ফিরে এসেছেন, তাদের ওপর নজর রাখা হবে বলে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওইসব ব্যক্তিদের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গতিবিধি এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তাদের কোনও ধরনের কার্যক্রম জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেটাও গোয়েন্দা বাহিনী নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানান তিনি।
জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারের জন্য দেশের প্রতিটি মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবার আগে জঙ্গিবাদবিরোধী বয়ান করার জন্য ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত কমিটির ওই বৈঠকে। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর আগে সারাদেশে ২৮ লাখ ৪৯ হাজার মসজিদের তালিকা বানিয়েছিল। আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বলেছি, তারা প্রতিটি মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেবেন। ইমামরা জুম্মার নামাজের খুতবার আগে বয়ানে জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী বক্তব্য রাখবেন, এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলবেন।’
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ (জননিরাপত্তা বিভাগ) ও ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী (সুরক্ষা সেবা বিভাগ), র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, আনসারের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ সংশ্লিষ্ট নয়টি মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
ভুটান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
যেকোনও সময় মুফতি হান্নানের ফাঁসি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার’
/এসআই/টিআর/এপিএইচ/








